ওজন কমানোর উপায়

ওজন কমানোর উপায়

ওজন কমানোর জন্য কি করবেন ?

  • খাবার খাওয়ার আগে পেট ভরে স্যালাড খান। পুরো স্যালাড খাওয়ার পরেই ভোজন শুরু করুন। ততক্ষন আপনার পেট লো ক্যালোরী, এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন ভরে যাবে, ফলে ওজন কমাতে সুবিধা হবে।

খাওয়ার আগে অবশ্যই স্যুপ পান করুন।  এ লো ক্যালোরী যুক্ত খাবারটি আপনার ক্ষুধা নিবারণ করবে এবং আপনি বেশী ক্যালোরীর হাত থেকে মুক্তি পাবেন।

সমস্ত খাবার তেল ছাড়া বানান।  যদি আপনি তেল ছাড়া ভাজার বা ফোড়ন দেওয়ার ‘সাওল বিধিৎ জানেন, তবে এই কাজটি অনেক বেশী সুবিধাজনক হয় যাবে। জীরো অয়েল এর এই কাজটি অনেক বেশি সুবিধাজনক হয়ে যাবে। জীরো অয়েল এর উপর লেখা অন্য বইগুলি বা এই বইটির সাহায্য গ্রহণ করতে পারেন।  এই বিষয় নিয়ে প্রকাশক পাঁচটির সাহায্য গ্রহণ করতে পারেন।  এই বিষয় নিয়ে প্রকাশক পাঁচটি বই প্রকাশ করেছেন।  সাওল তেল দিয়ে রান্না করা ডাল এবং সবজি সত্যিই সুস্বাদু হয়।

  • জলখাবার সময় অবশ্যই পেট ভরে ফল খান।  আপনি তরমুজ, পেপে,আপেল এবং কমলা লেবু খাবেন.. কিন্তু উচ্চ ক্যালোরী যুক্ত ফল (কলা,আঙুর, আম, সবেদা,) খাবেন না।  যদি আপনি এই ফলগুলি খুবই পছন্দ করেন তবে এক-আধ টুকরো খেতে পারেন।
  • রাতে এবং দুপুরে শুধুমাত্র একটা রুটি খান। ‍যদি আপনার খুব ক্ষিতে পায়, তবে কখনো-কখনো আরও একটা রুটি খেতে পারেন। যদি তাতেও পেট না ভরে, তবে স্যালাড এবং ফল খান।
  • খাবার খাওয়ার দশ থেকে পনেরো মিনিট আগে এক গ্লাস জল খেয়ে নিন, এতে পেট ভর্তি আছে বলে মনে হবে।
  • রাতে খাবার খাওয়ার সময় আপনি এক প্লেট সেদ্ধ সবজি বা স্যুপ খেতে পারেন। এই সবজির মধ্যে ফুলকপি, বীনস, গাজর এবং মূলো অন্তুর্ভুক্ত করুন। স্বাদের জন্য চাটনি বা স্স খান।
  • রাতেও আপনি ইচ্ছা করলে রুটি খেতে পারেন, কিন্তু পরিমাণে কম খান। পেটের ষাট ভাগ ভরান এবং সামান্য জল পান করুন। এরপর  পেটে সামান্য জায়গা থাকতে হবে।  এর পরেও যদি রাতে আবার ক্ষিতে পায়, তবে সিদ্ধ সবজি  বা স্যালাড খেতে পারেন।
  • জলখাবার এবং দুপুরের খাবারের মধ্যে ক্ষিধে পেলে একটা ফল খেতে পারেন।
  • যে স্যালাডই খান না কেন, সেটা ভালো করে কেটে সাজিয়ে নিন.. এতে স্যালাড সুস্বাদু লাগে।
  • সন্ধ্যাকালীন খাবারেও ফল খেতে পারেন। আপনি পেঁয়াজ, শশা, আলুর সাথে মশলাদার পপ কর্ণ  বা ফ্রায়েড  রাইস খেতে পারেন।
  • দুপুরে বা রাতে খাবার খাওয়ার পর ‍যদি মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করে, তবে ফল খেতে পারেন। জীরো অয়েল মিষ্টির মোরব্বা এবং  গুড় আসে। আমাদের জীরো অয়েল মিষ্টির বইতে একশ পঞ্চাশ রকম মিষ্টি  তৈরি করার পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে।  কিন্তু একটার বেশি মিষ্টি খাবেন না।
  • দানা শষ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরী থাকে অর্থাৎ এটা বেশী না খাওয়াই ভালো। আপনি এর সাথে সবুজ পাতাযুক্ত সবজি খেতে পারেন। যদি আপনি রুটি খেতে চান, তবে এর সাথে গাজর, মূলো, বাধাকপি এবং ফুলকপির পুর ভরতে পারেন। পাতাযুক্ত সবজিও দিতে পারেন। ভাতের সাথে সেদ্ধ সবজী এবং কড়াইশুঁটি মেশাতে পারেন।
  • ডাল সর্বদাই সবজী দিয়ে বানান .. এতে ডালে ক্যালোরীর মাত্রা কমে যাবে।
  • ক্ষিধে পেলে মুসম্বী, বেদানা, তরমুজ এবং কমলা লেবুর রস পান করুন। লো ক্যালোরী যুক্ত এই ফলা গুলি অপনার ক্ষতি করবে না।
  • রুটিতে গমের ভুষি মিশিয়ে নিতে পারেন। তবে সেটার অনুপাত ৭৫:২৫হওয়া উচিত।
  • বিস্কুট খেতে ইচ্ছা করলে এক-দুইটি মেরি বিস্কুট খান.. কারণ এতে ক্যালোরী খুব কম মাত্রায় থাকে।
  • এটা সর্বদা মনে রাখবেন যে, চিনিতে প্রচুর ক্যালোরী থাকে। তার পরিবর্তে কৃত্রিম মিষ্টির  গুলি ব্যবহার করতে পারেন, যেমন- স্যুইটেক্স, ইক্যুয়াল, এবং শুগার ফ্রী, এক ছোট চামচ চিনির থেকে আপনি বিশ শতাংশ অতিরিক্ত ক্যালোরী পান।
  • গুরুর দুধের পরিবর্তে স্কীমড বা ফ্যাট ফ্রী দুধ খান। এর থেকেও ক্যালোরী কমে। স্কীমড মিল্ক থেকে প্রস্তুত দুগ্ধজাত পদার্থগুলোই খাওয়া উচিত। এখন এটি সব জায়গায় সহজেই পাওয়া যায়।
  • খাওয়ার সময় স্কিমড মিল্ক থেকে প্রস্তুত দইয়ের রয়তা খান। স্বাদের জন্য সামান্য নুন মেশাতে পারেন। এটাও লো ক্যালোরী ফুড।
  • প্রতি দনি অঙ্কুরিত শস্য খান। এতে সামান্য স্যালাডও মেশাতে পারেন। সামান্য স্বাদ বৃদ্ধির জন্য লেবুর রস আর মশলা মেশাতে পারেন।
  • যে কোন পার্টিতে খাওয়ার আগে ফল, সবজি, এবং স্যুপ খান। খাওয়ার সময় সাধারণতঃ রুটি এবং কম তেলে তৈরি তরকারি খান.. মিষ্টি আর আইক্রিম থেকে দূরে থাকুন।
  • যদি সামান্য দূরে যান, তবে বাড়ি থেকেই বিনা তেলের তরকারী রুটি এবং ফল নিয়ে যান।
  • ওজন কমাতে চাইলে পায়ে হাটা হচ্ছে সব চেয়ে ভালো উপায়। প্রতিদিন কমপক্ষে আধ-ঘন্টা  দ্রুত হাটুন।
  • যদি ঠান্ডা পানীয় (কোল্ড – ড্রিঙ্ক) পান করতে ভালোবাসেন, তবে ডায়েট পেপসী বা ডায়েট কোক খেতে পারেন। এই দুটি ক্যালোরী রহিত হয়।
  • যদি পনীর খাওয়ার ইচ্ছা হয়, তবে এটি ঘরে স্কীমড বা ডবল টোন্ড দুধ দিয়ে বানান। সাধারণতঃ পনীরে ক্যালোরী বেশী মাত্রায় থাকে।
  • আপনি তেল ছাড়া সমস্ত দক্ষিণ ভারতীয় খাবার বানাতে পারেন। ’সাওল’ একশত পঞ্চাশ প্রকার দক্ষিণ ভারতীয় খাবার বানানোর পদ্ধতি শিখেয়েছে। দানা শস্য থেকে তৈরি খাবারে অত্যাধিক পরিমাণে ক্যালোরী থাকে.. সুতারং সেটি খাবেন না।
  • প্রতি দিন সকালে এক কাপ লাউয়ের রস পান করুন। এটি বানানোর জন্য কম পক্ষে আধ কিলো লাউ মিক্সীতে পিষে নিন।  মিশ্রণটি ছেঁকে নিয়ে পান করুন।  এতে আপনার ওজন কমবে।
  • যদি উপবাস রাখতে চান, তবে ফল আর জুস অবশ্যই খান। সপ্তাহে একদিন উপবাস রাখলে আপনার ওজন অবশ্যই কমবে।
  • নিজেকে যদি কাজের মধ্যে ব্যস্তু রাখেন, তবে খাওয়ার দিকে নজর যাবে না। যদি এমনিই বসে থাকেন, তবে ক্ষিধে বেশী পায়।

 

ওজন কমানোর জন্য কি করবেন না

  • খাবার বানানোর সময় কোন রকম তেল ব্যবহার করবেন না। ‘সাওল’ আপনাদের জন্য তেল ছাড়া প্রায় সহস্রাধিক সুস্বাধু খাবার প্রস্তুত করেছে।
  • রুটিতে ঘি মাখিয়ে খাবেন না। এক চামচ ঘিয়ে পঞ্চাশ ক্যালোরী থাকে, যার দ্বারা আপনার ওজন বৃদ্ধি পায়।
  • ঘি দিয়ে তৈরি পরোটা বা লুচি খাবেন না। এতে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট এবং ক্যালোরী থাকে।
  • কখনোই দুটোর বেশি রুটি খাবেন না। একটা শুকনো রুটিতে প্রায় একশ ক্যালোরী থাকে।
  • উচ্চ ক্যালোরী যুক্ত পাস্তা খাবেন না।
  • ময়দা দিয়ে প্রস্তুত খাবারের থেকে দূরে থাকুন। যদি এমন খাদ্য খেতেই হয়, তবে বেশী সবজি এবং স্যালাড খান।
  • পাউরুটি, টোষ্ট এবং স্যান্ডউইচ বেশী খাবেন না। যদি আপনি একটি খেতে চান, তো খেতে পারেন.. কিন্তু বেশী খাওয়ার লোভ করবেন না। এতে মাখন এবং চীজ তো একদমই লাগবেন না। ধনেপাতা চাটনী দিয়ে খেলে সুস্বাদু লাগবে।
  • খাবারের কোনমতেই মাখন ব্যবহার করবেন না। দশ গ্রাম মাখনে প্রায় নব্বই ক্যালোরী থাকে।
  • কোন তরল পানীয় বা জুসে চিনি মেশাবেন না .. এতে ক্যালোরীর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যাবে।
  • ফ্যাট যুক্ত মেয়োনিজ বা ক্রীম দিয়ে স্যালাড সাজাবেন না।
  • আপনার সিঙ্গারা বা কচুরী খাওয়া উচিত না। এর পরিবর্তে ফল বা জুসে খেতে পারেন। যদি সিঙ্গারা ক্ষেতে খুব ইচ্ছ করে, তবে ওপরের পরতটি  বাদ দিয়ে ভেতরের পুর খেতে পারেন।
  • স্যুপে কখনই ক্রীম বা মাখন দেবেন না।
  • পিজ্জা হচ্ছে উচ্চ ক্যালোরী যুক্ত খাবার.. এটি খাবেন না। যদি খুবই খেতে ইচ্ছা করে, তবে চীজ ছাড়া এক টুকরো খেতে পারেন।
  • উচ্চ ক্যালোরী যু্ক্ত কোল্ড ড্রিংকের থেকে দূরে থাকাই ভাল।
  • কন্ডের্সড মিল্ক আপনার পক্ষে ক্ষতিকারক  হতে পারে।
  • কাজু, আখরেট এবং আমন্ডের মত ড্রাই ফ্রন্টের থেকে দূরে থাকুন।  এতে থেকে প্রাপ্ত ফ্যাট আপনার ওজন বৃদ্ধি করে। এর থেকে তৈরি খাবারও আপনার খাওয়া উচিত নয়।
  • নারকেল তৈরি কোন খাবার খাবেন না।
  • কেক এবং পেষ্ট্রি ভুলেও খাবেন না। যদি আপনি মিষ্টি খেতে খুব ভালবাসেন, তবে জীরো অয়েল মিষ্টি খান।
  • যদি আইসক্রীম খেতে ইচ্ছা করে তবে পুরো কাপ খাওয়ার পরিবর্তে অন্য কারো  কাপ থেকে এক চামচ খান.. কারণ আইসক্রীম  আপনার পক্ষে খুবই  ক্ষতি কারক। ‍
  • খোয়র তৈরি মিষ্টি খাবেন না। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরী থাকে এবং পেটও ভরে না।
  • ওজন কমাতে চাইলে চকলেট এক মিল্ক চকোলেটকে দূর থেকেই প্রমাণ করুন।
  • যে সমস্ত বন্ধু বা আত্মীয়রা আপনার উচ্চ ক্যালোরী যুক্ত খাবার খাওয়াতে চান, তাদেরকে ভালো করে বুঝিয়ে স্যুপ এবং স্যালাড খান। যদি তারা জেদ করেন, তবে তাদের সন্তুষ্ট করার জন্য সামান্য পরিমাণে খান।
  • কোনও বন্ধু বা অত্মীয়ের বাড়িতে চায়ের সাথে ভাজাভুজি খাবেন না.. কারণ এর ফলে পরে আপনার অনুশোচনা হতে পারে।
  • দয়া করে ঠুসে-ঠুসে খাবার খাবেন না। পেট সব সময়ই সামান্য খালি রাখুন। কোন হোটেল বা নিমন্ত্রণ বাড়ীতেও এই বিষয়টি মাথায়     রাখবেন।
  • একেবারে না খেয়েও থাকবেন না, এতে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যায়.. ফলে ওজন কমানো অনেক বেশী কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।
  • দিনে চার বারের বেশী খাবার খাবেন না।
  • ওজন কমানোর জন্য জিমে যাবেন না বা বেশী-বেশী কাজ করবেন না.. কারণ এটা অস্থায়ী উপায়, এতে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়।
  • এক মাসে চার কিলোর থেকে বেশী ওজন কমাবেন না। এতে দুর্বলতা আসতে পারে।  এক মাসে দুই-তিন কিলো ওজন কমালে কোন ক্ষতি হয় না।
  • যদি চার তলা পর্যন্ত উঠতে হয়, তবে লিফটের পরিবর্তে সিড়ি ব্যবহার করুন।