দানা শস্য এবং ডাল

দানা শস্য এবং ডাল

প্রশ্নঃ আমি নান খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ  একটি ছোট আকারের নান গ্যাঁজলা ময়দা থেকে প্রস্তুত করা হয় এবং এটি তন্দুরী ওভেন বানানো হয়।  এটি ময়দা থেকে তৈরী করা হয়, যাতে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার থাকে।  এতে প্রচুর পরিামাণে ক্যালোরীও থাকে .. এই কারণে স্থূল ব্যক্তিদের এর থেকে দূরে থাকাই ভালো।

 

প্রশ্নঃ আমি পাউরুটি খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ না, .. আপনি পাউরুটি খেতে পারবেন না ..  কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরী থাকে।  ইচ্ছা করলে আপনি ব্রাউন ব্রেড খেতে পারেন। আপনার জানা উচিত যে, পাউরুটি দু প্রকারের হয়-সাদা এবং বাদামী।  সাদা পাউরুটি ময়দা থেকে তৈরী হয় এবং এতে ফাইবারও কম থাকে । বাদামী  পাউরুটি গম থেকে তৈরী হয় এবং সেই কারণে এতে বেশী ফাইবার থাকে।

 

প্রশ্নঃ আমি ম্যাকরনী খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ ম্যাকরনী হচ্ছে একটি ইটালিয়ান খাদ্য। মোটা ব্যক্তিদের এটি বেশী পরিমাণ খাওয়া উচিত নয় ..  কারণ এটি ময়দার থেকে তৈরী হয়।  এর মধ্যে বিভিন্ন ধরণের সবজী, টম্যাটো সস আর মশলা দিয়ে এটিকে সুস্বাদু করে তোলা হয়। ম্যাকারোনীতে অনেক বেশী পরিমাণে সবজী দিয়ে আপনি এই খাদ্যের ফাইবার বৃদ্ধি করতে পারেন। ‍

 

প্রশ্নঃ আমি ন্যুডুলস খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ মোটা ব্যাক্তিদের ন্যুডুলস এবং পাস্তার থেকে তৈরী খাদ্য বেশী পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। এগুলি সবই ময়দার থেকে তৈরী হয়, যাতে ফাইবার খবু কম মাত্রায় থাকে।  আপনি ন্যুডলস্ বা পাস্তাকে পেঁয়াজ, গাজর, ক্যাপসিকাম, কড়াইশুটি প্রভৃতি সবজী দিয়ে খেতে পারেন ।

 

প্রশ্নঃ ভূষি কি ?

উত্তরঃ গম বা যরের ভূষি একটি সম্পূর্ণ ফাইবার যুক্ত খাদ্য হয় এবং এটি শরীরের পক্ষে অত্যান্ত উপকারী হয়।  এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য খুবই ভালো হয়।  ফল বা সবজী থে আমরা যে সেলুলোজ পাই, একে তার থেকে অনেক বেশী উন্নত মানের বলে মনে হয়ে থাকে .. কারণ আন্ত্রে এটি খুব সহজেই হজম হয়ে যায়।  মোটা ব্যক্তিরা আটার সাথে ভূষি মিশেয়ে খেতে পারেন।

 

প্রশ্নঃ আমি ভুট্টা খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ আপনি ভুট্টা খেতে পারেন, কিন্তু বেশী খাবেন না .. কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরী থাকে। পশ্চিমের Maize ই আমাদের কাছে ভুট্টা নামে পরিচিত।  ভুট্টার পুষ্টিকর  এবং সুস্বাদু হয়। এতে ক্যান্সাররোধক তত্ত্বও পাওয়া যায়।  এর ফাইবার যুক্ত পদার্থ রক্তে অবস্থিত কোলেষ্ট্রল এর মাত্রা কমায়। এটিকে আপনি কর্ণ ফ্লোক্স, রুটি, দালিয়া এবং স্যালাডের (সেদ্ধ করে) রূপে খেতে পারেন।  এটি বানানোর সময় ফল বা সবজীরও ব্যবহার করুন।

প্রশ্নঃ ব্রাউন ব্রেড কি ?

উত্তরঃ গমের আটা তৈরী বাদামী রংয়ের পাউরুটিকে ব্রাউন ব্রেড বলা হয়।  এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন –বি কমপ্লেক্স এবং ফাইবার পাওয়া যায়।  ফাইবার ওজন কমাতে ওজন কমাতে সাহায্যে  করে ..  কারণ জীরো ক্যালোরী যুক্ত ফাইবার পেট তাড়াতাড়ি ভরিয়ে দেয়।  কিন্তু যে কোন পাউরুটিতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে।  এই কারণে এতে প্রচুর ক্যালোরীও থাকে তাই ব্রাউন ব্রেডও বেশী খাওয়া উচিত নয়।

 

প্রশ্নঃ সাদা ব্রেড কি ?

উত্তরঃ সাদা পাউরুটি ময়দার থেকে প্রস্তুত করা হয়। ময়দা গমের মধ্যখানের অংশ থেকে তৈরী হয়, এই কারণে এতে কোন ফাইবার থাকে না। এতে জল, গ্যাঁজলা এবং প্রিজার্ভেটিজ-ও দেওয়া হয়।

 

প্রশ্নঃ সাদা পাউরুটির পরিবর্তে বাদামী পাউরুটি ভালো হয় কেন ?

উত্তরঃ বাদামী পাউরুটিকে ভালো বলে মনে করা হয়, কারণ এতে অধিক পরিমাণে ফাইবার পাওয়া যায় .. ওজন কমাতে সাহায্য করে

 

প্রশ্নঃ আমি কেক খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ না, আপনার কেক খাওয়া উচিত নয়।  বেকারীতে ময়দা, চিনি, ডিম, দুধ এবং ক্রীম ঢেলে কেক্ প্রস্তুত করা হয়। এতে ক্যালোরী এবং স্যুচুরেটেড ফ্যাট- দুটিই অধিক মাত্রায় থাকে।  ডিম মাখন এবং ক্রীম এর জন্য কোলেষ্ট্রল এর মাত্রাও অনেক বেশী থাকে।  এই সমস্ত বিষয়গুলিই স্থূলতার  সাথে সম্পর্কিত।  গাজর এবং ফল থেকে প্রস্তুত কেককে ভালো হলে মনে করা হয় .. কিন্তু এতেও চিনি এবং ফ্যাট থাকে। সুতারং আপনার কেক না খাওয়াই ভালো।

 

প্রশ্নঃ টাফু কাকে বলে ? ৎ

উত্তরঃ যে ভাবে দুধ থেকে পনীর তৈরী হয়, ঠিক সেইভাবে সোয়াবীন থেকে টাফু প্রস্তুত করা হয়।  টাফুকে এশিয়ার পনীর বলা হয়ে থাকে।  হাল্কা ক্রীম রংয়ের টাফু বানানোর জন্য সোয়াবীন পেষাই করে তার থেকে দুধ বার করা হয়। তার সেটিকে জমানোর জন্য ক্যালশিয়াম ঢালা হয়। অন্যান্য প্রোটিন যুক্ত টাফুতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট খুব কম পরিমাণে পাওয়া যায়।  এটি কোলেষ্ট্রলহীন হয়।  ১০০ গ্রাম ষ্টীমড টাফুতে ৭৩ ক্যালোরী পাওয়া যায়।  মিষ্টি খাদ্যেও এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

 

 

টাফুর থেকে নিম্নলিখিত লাভ পাওয়া যায়ঃ

  • এটি প্রোটিন এ ভরপুর হয়।
  • এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট অনেক কম মাত্রায় পাওয়া যায়।
  • এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম এবং ভিটামিন –ই পাওয়া যায়।
  • এটি বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার এবং হৃদরোগ এর হাত থেকে রক্ষা করে।

 

প্রশ্নঃ আমি অপরিমিত মাত্রায় সোয়াবিন খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ  না, সোয়াবিন বেশী পরিমাণে খাওয়া উচিত নয় .. কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে এবং বেশী প্রোটিন কিডনীর পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে।  এতে মজুদ অত্যাধিক ফ্যাটও ওজন বৃদ্ধি করতে পারে।  এটিকে টাফু বা মিল্ক মেকারের রূপে গ্রহণ করা উচিত।

 

প্রশ্নঃ সোয়া মিল্ক কি ?

উত্তরঃ সোয়ামিল্ক সোয়াবীন থেকে পাওয়া যায়। এটিকেও বনষ্পতির উৎস বলা যেতে পারে।  এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম, ভিটামিন – বি, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে এবং সোডিয়াম পাওয়া যায়।  এতে কোলেষ্ট্রল এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম মাত্রায় পাওয়া যায় ..  কিন্তু পশুর দুধে এই দুটিই অনেক বেশী পরিমাণে থাকে। পশুর দুধ থেকে যতটা প্রোটিন  পাওয়া যায়, এর থেকেও ঠিক ততটাই প্রোটিন পাওয়া যায়।

 

প্রশ্নঃ আমি আলু খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ আপনি আলু খেতে পারেন .. কিন্তু অধিক মাত্রায় আলু না খাওয়াই ভালো। উচ্চ ক্যালোরী যুক্ত আলু খাওয়ার আগে আপনাকে সম্পূর্ণ দিনের ক্যালোরী গণনা করে নিতে হবে। এতে ফাইবার এর মাত্রা বৃদ্ধি করার জন্য  এবং ক্যালোরীর মাত্রা কমানোর জন্য সবজী মিশিয়ে নিন।

 

প্রশ্নঃ অঙ্কুরিত দানা কেমন করে খাওয়া যায় ?

উত্তরঃ অঙ্কুরিত দানা খুবই পুষ্টিকর খাদ্য।  এটি দিনে কম পক্ষে একবার খাওয়া উচিত।  এই দানা গুলি দিয়ে স্যালাড, রায়তা, পোলাও স্যান্ডউইচ, রুটি  এবং চিলার পুর হিসেবেও খেতে পারেন।  পোহা বা  ভেল বানানোর সময় সবজীর সাথে আঙ্কুরিত দানাও দিতে পারেন।

 

প্রশ্নঃ দানা কি ভাবে অঙ্কুরিত করা যায় ?

উত্তরঃ একটা পরিস্কার কাপড়েকে জলে ডুবিয়ে নিংরে নিন।  এরপর ভেজানো ডাল/দানা এই কাপড়ে বেধে পুটুলি  বানিয়ে নিন। কাপড় শুকিয়ে গেলে তাতে জল ছিটেয়ে আর্দ্রতা বজায় রাখুন।  ৩৪-৪৮ ঘন্টা বাদে ডাল বা দানা অঙ্কুরিত হয়ে যাবে, তখন আপনি এটা খেতে পারেন। সকাল-সকাল এটি খাওয়ার শরীরের পক্ষে খুবই উপকারী হয়।

 

প্রশ্নঃ রুটীর থেকে যে ক্যালোরী পাওয়া যায়, তা কি ভাবে কম করা সম্ভব ?

উত্তরঃ রুটীর সাথে ভূষি বা সবজী মিশিয়ে সেটার ক্যালোরী কমানো যেতে পারে।

 

প্রশ্নঃ আমি ভাত খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ আপনি ভাত খেতে পারেন .. কিন্তু ভাত বেশী পরিমাণে না খাওয়াই ভালো .. কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরী পাওয়া যায়। আপনি ভাতে কম ক্যালোরী যুক্ত পদার্থ মিশিয়ে এর ক্যালোরী কমানো যেতে  পারে।

 

প্রশ্নঃ ভাতে কি ভাবে ক্যালোরীর মাত্রা কমানো যায় ?

উত্তরঃ নিম্নলিখিত উপায়ে ভাত থেকে ক্যালোরী মাত্রা কমানো যেতে পারে-

  • এর থেকে ফ্যান ফেলে দিয়ে।
  • এর সাথে কড়াইশুটি, বাধাকপি, গাজর, টম্যাটো এবং পেঁয়াজ প্রভৃতি ফাইবার ‍যুক্ত সবজী মিশিয়ে।
  • আপনি ইচ্ছা করলে ব্রাউন রাইসও খেতে পারেন। এতে সাদা চালের তুলনায় অনেক বেশী পরিমাণে ফাইবার থাকে।

 

প্রশ্নঃ আমি গমের দালিয়া খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ হ্যাঁ, আপনি গমের দালিয়া খেতে পারেন .. কিন্তু তাতে সম পরিমাণ সবজী  থাকতে হবে।  এটি ফাইবার পূর্ণ থাকে, এটি খেলে পেট ভরা-ভরা লাগে এবং ক্যালোরীও বৃদ্ধি পায় না। এটিকে সবজীর দালিয়া, দালীয়ার উপমা প্রভৃতি রূপে খেতে পারেন।

 

প্রশ্নঃ আমি অঙ্কুরিত গম খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ হ্যাঁ আপনি অঙ্কুরিত গম খেতে পারেন।  এর মধ্যে ভিটামিন-বি, কমপ্লেক্স ছাড়াও অন্যান্য সমস্ত খনিজ পদার্থ পাওয়া যায় .. তাই এটি খুবই পুষ্টিকর হয়।  এর দ্বারা খাবার হজম হতেও সুবিধা হয়। বেবী ফুডেও এর ব্যবহার করা হয়।

 

প্রশ্নঃ হুইট গ্রাস কি ?

উত্তরঃ গম থেকে নির্গত ছোট-ছোট চারাকে হুইট গ্রাস বলা হয়।  এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ পাওয়া যায়। পেটের রোগের জন্য এটি খুবই উপকারী হয়।  এটি অক্সিজেশনকে ঠিক করে। রক্ত  সংবহণ প্রক্রিয়াও এর দ্বারা উপকৃত হয়।

 

প্রশ্নঃ আমি মিস্সী রুটি খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ মিস্সী রুটি খেতে কোন অসুবিধা নেই .. কিন্তু এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরী পাওয়া যায়, তাই কম মাত্রায় গ্রহণ করাই শ্রেয়।  এতে বিভিন্ন ধরণের আটা মেশানো হয়, যার ফলে এটি সুষম খাদ্যে পরিণত হয়।  যদি আমরা গমের আটার সাথে সোয়াবিন এর আটা মিশিয়ে নিই .. তবে দানা এবং ডাল- দুটির পুষ্টিই পাওয়া সম্ভব হয়।  এছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণেফাইবার পাওয়া যায়, তাই এটি ওজন কমাতেও সাহায্যে করে।

 

প্রশ্নঃ খোসাসহ দানা বা ডাল বলতে কি বোঝায় ?

উত্তরঃ খোসা সহ ডাল বা দানার ক্ষেত্রে, খোসার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে।  যদি আপনি এর ব্যবহার করেন, তবে খাদ্যে ফাইবার এর  পরিমাণ আপনা থেকেই বৃদ্ধি পাবে। ফলে ডাল বা দানার ক্যালোরীও কমে আসে।