দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য

দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য

প্রশ্নঃ মোটা মানুষের দুধ খাওয়া বারণ কেন ?

উত্তরঃ দুধ পশুদের থেকে পাওয়া যায়। সেই কারণে এতে ৪-৬% ফ্যাট পাওয়া যায়। এতে কোলেষ্ট্রলও থাকে।   ১০০ মিলি দুধে ১১ মিগ্রা কোলেষ্ট্রল পাওয়া যায়। আগেকার দিনের লোকেরা প্রচুর পরিমাণে দুধ পান করতেন এবং দৈহিক পরিশ্রম বেশী করতেন বলেও সমস্ত ক্যালোরী খরচ হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমান যুগের আরামদায়ক জীবনে লোকদের কায়িক পরিশ্রম বেশী করতে হয় না .. ফলে দুধ অনেক রকম অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারে।

এমনিতেফ্যাটযুক্ত দুধে প্রচুর পরিমাণে পোটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, প্রোটিন এবং ভিটামিন পাওয়া যায় এবং প্রায় সারা বিশ্বের লোকেরাই দুধ পান করতে ভালেবাসেন।  এর ফলে দুই পদ্ধতিতে ফ্যাট কমানো যেতে পারেঃ

  • দুধ ফুটিয়ে ঠান্ডা করুন এবং তার ওপরের সব সর সরিয়ে দিন। আবার একবার গরম করে সব সরিয়ে দিন।  এই ভাবে প্রতি ১০০ মিলি দুধে ৫ মিগ্রা কোলষ্ট্রল থেকে যাবে। এমনিতে ‘সাওল’ দিনে ২০০ মিলি দুধ পান করার পরামর্শ দেয়।
  • এমন কিছু ডেয়ারী আছে, যেখানে স্কীমড, মিল্ক পাওয়া যায়।

 

প্রশ্নঃ আমি ছানা বা পনীর খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ ছানা বা পনীর দুধ থাকেই তৈরী হয়।  এতে প্রায় ২৫% ফ্যাট পাওয়া যায়।  ৫০০ মিলি দুধ থেকে  ১০০ গ্রাম পনীর তৈরী হয়। উত্তর ভারতে এর থেকে অনেক প্রকার এর মিষ্টিও তৈরী করা হয়।  সন্দেশ এবং রসগোল্লা এর থেকেই তৈরী হয়। মোটা ব্যাক্তিরা দুধ থেকে  তৈরী ছানা বা পনীর খেতে পারবেন না।  ’সাওল’ স্কীমড মিল্ক থেকে তৈরী পনীর খাওয়ার পরামর্শ দেয়।  দুধ থেকে প্রস্তুত ছানা খাওয়ার পরিবর্তে সোয়া দুধ থেকে প্রস্তুত টাফুও খেতে পারেন।

 

প্রশ্নঃ আমি চীজ খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ ফ্যাটে পূর্ণচীজ খাওয়া একেবারেই নিষেধ। আপনি স্কীমড বা টোন্ড দুধ থেকে প্রস্তুত পনীর বা টাফু খেতে পারেন।

 

প্রশ্নঃ টোন্ড দুধ কি ?

উত্তরঃ  টোন্ড দুধে ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম থাকে।  সম্পূর্ণ দুধে ৪% ফ্যাট থাকে, সেটিকে কমিয়ে ৩% করে দেওয়া হয়। আপনি ঘরে দুধ ফুটিয়ে সব সরিয়ে নিলে সেটি টোন্ড দুধ হয়ে যায়। ‘সাওল’ দিনে ২০০ মিলি এই ধরণের  দুধ পান করার পরামর্শ দেয়।

 

প্রশ্নঃ ডবল টোন্ড দুধ কি ?

উত্তরঃ  এই প্রক্রিয়াতে ডেয়ারীতে দুধ টোন্ড করা হয়।  মেমিনে দুধে অবস্থিত ফ্যাট কমিয়ে ০.৫% করে দেওয়া হয়।  মোটা ব্যক্তিরা এই দুধ পান করতে পারেন।

 

প্রশ্নঃ স্কীডম দুধ কি ?

উত্তরঃ স্কিমড এমন একটি প্রক্রিয়া, যাতে মেশিনের সাহায্যে দুধে উপস্থিত ফ্যাট কমিয়ে ০.১% পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়। যাঁরা নিজেদের ওজন কমাতে চাঁন, তাঁদের  জন্য এই দুধ খুবই ভালো হয়।  প্রতি দিন ২০০ মিলি স্কীমড দুধ পান করা যেতে পারে।

 

প্রশ্নঃ আমি মাখন খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ না, মোটা ব্যক্তিদের মাখন খাওয়া উচিত নয়।  এটিতে এক শতাংশ ফ্যাট থাকে।  এটি ক্রীম থেকে তৈরী হয়। এতে কোলেষ্ট্রলও থাকে। আগেকার দিনে মানুষেরা  শক্তি অর্জন করার জন্য মাখনই খেতেন  .. কিন্তু তাঁরা প্রচুর দৈহিক প্ররিশ্রমও করতেন।  আজকালকার দিনে আরাম এত বেড়ে গেছে যে, ক্যালোরী খরচই হয় না। এই কারণে মোটা ব্যক্তিদের মাখন খাওয়া উচিত নয়।

 

প্রশ্নঃ আমি দই খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ স্কীমড বা টোন্ড দুধ থেকে প্রস্তুত দুই আপনি খেতে পারেন। ‘সাওল’ দিনে দুইশত মিলি দুধ পান করার পরামর্শ দেয় ..  এর থেকে আপনি দইও জমাতে পারেন।

 

 

প্রশ্নঃ আমি শ্রীখন্ড বা য়োগর্ট খেতে পারি কি ?

উত্তরঃশ্রীখন্ড, দুই এবং য়োগর্টয়ের মধ্যে সামান্যে পার্থক্য আছে। শ্রীখন্ড ল্যাক্টোবাসিলাসের মিশ্রিত ঘোল থেকে তৈরী হয়।  আপনি স্কীমড দুধ থেকে প্রস্তুত শ্রখন্ড বা য়োগর্ট খেতে পারেন।

 

প্রশ্নঃ আমি বাটার মিল্ক খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ হ্যাঁ, আপনি বাটার মিল্ক খেতে পারেন।  এটাও দুধ থেকে তৈরী হয়। এর ফলে ক্রীম রূপে মাখন বার করে নেওয়া হয়। আপনি টোন্ড বা স্কীমড মিল্ক থেকে তৈরী দুইশত মিলি বাটার মিল্ক খেতে পারেন।

 

উত্তরঃ আমি লস্যি খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ ভারতে, বিশেষ করে পাঞ্জোবের লস্যি খুবই বিখ্যাত।  দই মন্থন করে লস্যি তৈরী করা হয়।  এতে ক্রীমও থাকে।  ক্রীম ফ্যাট থাকে এবং ফ্যাট স্থূল ব্যক্তিদের জন্য খু্বই ক্ষতিকারক হয় .. কারণ এর ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়। স্কীমড বা টোন্ড দুধ থেকে প্রস্তুত দইয়ের লস্যি খেতে পারেন।  এতে মালাই দেবেন না ..  কিন্তু এটিও বেশী পরিমাণে খাবেন না।

 

প্রশ্নঃ যদি মাংস এবং দুধ দুটোই বন্ধ থাকে, তবে কি ভাবে প্রোটিন এর অভাব দূর হবে ?

উত্তরঃ সবুজ পাতা যক্ত সবজী, যেমন- পালং শাক, মেথী, বথুয়া, ডাল, রাজমা, মুগ, এবং ছোলার ডাল, স্কীমড, মিল্ক থেকে তৈরী পদার্থ এবং দই, পনীর, দানাশস্য, জোয়ার, গম, চাল প্রভৃতি আপনার প্রোটিন এর অভাব পূরণ করতে পারে। অঙ্কুরিত দানা শস্য, মাশরুম এবং ডিমেও প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে।

 

প্রশ্নঃ যদি দুধ পান না করা যায়, তবে কি ভাবে ক্যালশিয়াম এর অভাব দূর হবে  ?

উত্তরঃ ক্যালশিয়াম এর পূর্ণ অন্যান্য খাবারগুলি আপনি খেতে পারেন। রাগীতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম থাকে।  সবুজ পাতাযুক্ত সবজী, পালং, গাজর পাতা, ফুলকপি, কচু পাতা, সজনে পাতা, শালগমের পাতা প্রভৃতি, ফল ( আমলকী, চেরী, পেয়ারা, লেবু) এবং অন্যান্য সবজী (বীনস্ সজনে, পদ্মের ডাঁটা এবং পানিফল) খেতে পারেন।

 

প্রশ্নঃ লাউ – য়ের রস খুবই উপকারী। এর থেকে আপনি সহজেই ওজন কমাতে পারেন।  লাউ এর থেকে আপনি সহজেই ওজন কমাতে পরেন।  লাউ গ্রেট করে  তার থেকে রস বার করে নিন।  পেট খারাপ হলে বা বার বার পিপাসা পেলে এটি খেতে পারেন। এর দ্বারা সোডিয়াম এর অভাব পুরণ হয় এবং ক্লান্তি দূর হয়।  এতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে প্রসাব করার সময় হতে থাকা জ্বলুনি কমে যায়।