ফ্যাটের থেকে দূরে থাকুন

ফ্যাটের থেকে দূরে থাকুন

ফ্যাট হচ্ছে বাংলাদেশি এবং ভারতের খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা এটা বিশ্বাস করে থাকি যে, তিল, ঘি ছাড়া সুস্বাদু খাবার বানানো অসম্ভব। যদি তেল ছাড়া রান্না করতে বলা হয়, তবে বেশীর ভাগ গৃহিনীরাই সেদ্ধ খাবার বানিয়ে দেন। এতে মশলা ও থাকে না।  সুতরাং ’তেল ছাড়া রান্নায় স্বাদ আনা অসম্ভব’ এই চিন্তাটাকে বদলাতে হবে। আপনাকে  একটি কথা ভালো ভাবে জানতে হবে যে, তেল ছাড়া রান্নায় স্বাদ আনা অসম্ভব এই ধারণা টা ভুল।  তেল ছাড়াও সুস্বাদু খাবার বানানো সম্ভব। তেল, ঘি দিয়ে শুধু খাবার বানানো হয় , তাই নয়.. একে খাদ্যের ওপরেও ছাড়ানো হয়ে থাকে। নীচের উদাহরণ গুলি দেখুন।

  • অনেকে রুটির দু দিকে ঘি মাখিয়ে খান। তারা জানেন না যে ত্রিশ থেকে পয়ত্রিশ গ্রাম রুটিতে একশ গ্রাম ক্যালোরী থাকে। যদি এতে দুই চামচ ঘি লাগানো হয়, তবে স্বাদের পরিবর্তে ক্যালোরীর মাত্রা বেড়ে  যায়। ( তখন রুটি দুইশ ক্যালোরী ‍যুক্ত হয়ে যায়)
  • অনেকে চিজ ছাড়া পিৎজা খেতে পছন্দ করেন না। তাদের মতে চীজ ছাড়া পিজ্জা হতেই পারে না।  একটি ছোট আকারের পিজ্জা প্রায় পঁচাত্তুর  গ্রামের হয়, যাতে দুইশত ক্যালোরী থাকে। তার ওপর পঁচিশ গ্রাম চিজ দিলে নব্বই ক্যালোরী বৃদ্ধি পায়।  সবজির টপিংয়ে ক্যালোরী বৃদ্ধি পায়।  একশ গ্রাম সবজীতে দুইশত গ্রাম অতিরিক্ত ক্যালোরী শক্তি দেবে।  এর অর্থ হল যদি আপনি একটি গোটা পিজ্জা খান, তবে আপনি  তিনশত সত্তুর গ্রাম ক্যালোরী পাবেন।  এই কারণে চীজ ছাড়া পিজ্জা খান। এটা ফ্যাট বৃদ্ধি করে, স্বাদে তেমন কোন পার্থক্য  হয় না।
  • পাউরুটিও ভারতীয় খাদ্যর অন্যতম অংগ। আপনি জানেন যে, প্রায় ত্রিশ গ্রামের পাউরুটির টুকরো আপনাকে একশ ক্যালোরী শক্তি  দেয়। যদি আপনি এতে মাখন লাগান , তবে একশ ক্যালোরী আরও বৃদ্ধি পায়। এই কারণে পাউরুটি মাখনের পরিবর্তে করকারী দিয়ে খান।
  • আজকাল বেশীর ভাগ নিমন্ত্রণ এর ক্ষেত্রে বা অনুষ্ঠানে স্যুপ পরিবেশন করা হয়ে থাকে।  এতে টপিং এর জন্য ক্রীম দেওয়া হয়ে থাকে। স্যুপে বেশী ক্যালোরী থাকে না, কিন্তু ক্রীম ক্যালোরী বৃদ্ধি করে।
  • উত্তর ভারতের লোকেরা বিশেষ করে পাঞ্জাবীরা তেলতেলে খাবার পছন্দ করেন। তাঁরা এটিকে শরীরের জন্য ভাল মনে করেন।  তারা ভুট্টার ‍রুটি মাখন  লাগিয়ে খেতে পছন্দ করেন.. কিন্তু ভুট্টার রুটিতে এমনিতে যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালোরী থাকে। এতে দুই চামচ মাখন লাগালে একশ ক্যালোরী থাকে।  এতে দুই চামচ মাখন লাগলে একশ ক্যালোরী বৃদ্ধি পায়। এই ভাবে মাখন লাগানো ভুট্টার রুটি খেলে দুইশত ক্যালোরী শক্তি পাবেন।
  • রাজস্থানের লোকেরা ডাল বড়ি খুব আনন্দ করে খেয়ে থাকেন। এটা ভীষন ভারী খাবার। এটি বানানোর সময় প্রচন্ড ঘি দেওয়া হয়, ফলে ক্যালোরী বৃদ্ধি পায়।
  • বিস্কুট খাওয়া খারাপ নয়.. কিন্তু ক্রীম বিস্কুটে প্রচন্ড পরিমাণে ক্যালোরী থাকে, যা আপনার শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারক।
  • অনেকে রান্না করা ডালে ঘি ছড়িয়ে নেন। তারা এমনটা মনে করেন যে, ঘি ছাড়া ডালের স্বাদ পাওয়া যায় না।
  • অনেক ব্যক্তি লস্যিককে লো-ক্যালোরী যুক্ত পানীয় মনে করেন.. কিন্তু তাত মালাই দিয়ে দেন। তাহলে ভাবুন লস্যি কি ভাবে লো-ক্যালোরী যুক্ত থাকল।
  • রাজস্থানে ভাত দেওয়ার আগে এক চামচ ঘি দিয়ে দেওয়া হয়.. যার দ্বারা স্থূলতা এবং বেশী ওজনের লোকদের খাদ্য ক্যালোরী বৃদ্ধি পায়।
  • দক্ষিণ ভারতের অনেক লোক মাখন দিয়ে ইডলি খান। এক গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থেকে চার ক্যালোরী পাওয়া যায়। এই ভাবে চল্লিশ গ্রাম ওজনের ইডলি থেকে একশ বিশ ক্যালোরী পাওয়া যায়। যদি আপনি দুই চামচ মাখন লাগান, তবে ক্যালোরীর মাত্রা দুইশত পনেরো হয়ে যাবে।

এই কারণে একটা কথা বলি, খাদ্যে ঘি/মাখন দিয়ে স্বাদ বৃদ্ধি করা যায় না.. বরং তাতে ওজন বৃদ্ধি পায়। এই ভাবে স্থূলতার সাথে যুক্ত অনেক রোগের ঝুকিও বৃদ্ধি পায়।