বাদাম এবং তৈলাক্ত বীজ

বাদাম এবং তৈলাক্ত বীজ

প্রশ্নঃ আমি খেজুর খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ একশত গ্রাম খেজুরে প্রায় তিনশ সতেরো ক্যালোরী থাকে। এর সাধারণ কার্বোহাইড্রেট খুব দ্রুত রক্তে মিশে যায়। স্থূল ব্যক্তিদের এত ক্যালোরী যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত নয়।

 

প্রশ্নঃ আমি ডুমুর খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ না, আপিনি ডুমুর খেতে পারবেন না।  এটি চিনি এবং ক্যালোরীতে পরিপূর্ণ থাকে।  একশত গ্রাম ডুমুরে প্রায় তিনশত ক্যালোরী থাকে.. এই কারেণে  আপনি ডুমুর খেতে পারবেন না।

 

প্রশ্নঃ আমি অমন্ড খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ আমন্ড হচ্ছে গাছের বীজ। এই গাছটি দেখতে পীচ্ গাছের মত হয়।  এর ফলও ছোট সবুজ পীচের মতন।  আমন্ড দুই ধরণের হয়- মিষ্ট এবং তেতো স্বাদ যুক্ত।  আমন্ড প্রচন্ড পুষ্টিকর খাদ্য এবং এর দ্বার শরীরের মাংসপেশী দৃঢ় হয়।  এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরী এবং ফ্যাট থাকে।  একশ গ্রাম  আমন্ডে ছয়শত ক্যালোরী এবং ৫৮.৯  ফ্যাট থাকে, যার অর্থ হল বার চামচ তেল .. সুতারং এর থেকে দূরে থাকাই ভালো।

 

প্রশ্নঃ আমি কাজু খেতে পারি  কি ?

উত্তরঃ না, আপনি কাজু খেতে পারবেন না।  কিডনির আকৃতির এই সাদা আর মিষ্টি দানাটি নোনতা, ভাজা এবং পানীয় রূপে পাওয়া যায়। এটিকে সেদ্ধ করলে বা নোনতা করলে এটি হজম করা কষ্টকর হয়ে যায়। তাই এটিকে প্রাকৃতিক রূপেই খাওয়া উচিত।  এটিকে মিষ্টি এবং শ্বেতসারযুক্ত ফলের সাথে খাওয়ার পরিবর্তে শ্বেতসারহীন টক ফলের সাথেইখান। এতে ওলেয়িক এ্যাসিডের রূপে আন-স্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়।  ১০০ গ্রাম কাজু থেকে আপনি ৪৭ ফ্যাট পান। এর অর্থ হল পুরো  ৯ চামচ তেল।  ১০০ গ্রাম কাজু থেকে প্রায় ৫৯৬ ক্যালোরী পাওয়া যায়।

 

প্রশ্নঃ আমি পেস্তা খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ না, … আপনি পেস্তা খেতে পারেন না।  এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরী থাকে।  ১০০ গ্রাম পেস্তা থেকে প্রায় ৬২৬ ক্যালোরী পওয়া যায়..  সুতারং মোটা ব্যক্তিদের এর থেকে দূরে থাকাই ভালো।

 

প্রশ্নঃ  আমি আখরোট খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ এই ফলটি মানুষের মস্তিস্কের মতন দেখতে হয়। এবং খুবই মিষ্ট হয়।  প্রোটিনে পরিপূর্ণ আখরোটে সামান্য পরিমাণে ভিটামিন বি পাওয়া যায়। একজিমার জন্য এটি খুবই ভালো হয়। এর থেকে যে তেল পাওয়া যায়, সেটা চর্মরোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। কীটদের তাড়ানোর জন্য কাঁচা আখরোট খুবই উপকারী।  কোষ্ঠকাঠিন্য এর জন্য আখরোট ঔষধের কাজ করে।  কিন্তু এত গুণ থাকা সত্বেও এটি উচ্চ ক্যালোরী যুক্ত খাদ্য হয়।  এক গ্রাম আখরোট থেকে ৬৪.৫ গ্রাম ফ্যাট এবং ৬৮৭ ক্যালোরী পাওয়া যায়।  সুতারং এটি না খাওয়াই ভালো।

 

প্রশ্নঃ আমি মেথী খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ হ্যাঁ, .. আপনি মেথি দানা  খেতে পারেন .. কারণ এর ব্যবহার খুবই কম হয়।  এর স্বাদ তিক্ত এবং এটি সাম্বর আর কঢ়ীতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।  রাজস্থনীরা  এটা দিয়ে  কঢ়ী বানান। এর  দ্বারা আচারে ‍সুন্দর গন্ধ হয় এবং সেটিকে খারাপ হওয়ার হাত থেকেও রক্ষা করা যায়।  এর স্বাদ তেঁতো হওয়ায় এটিকে সর্বদাই টকের সাথে খাওয়া হয়।  এর দ্বারা রক্তে গ্লুকোজের স্তর ঠিক থাকে।  এতে ফাইবার পাওয়া যায়।  হাইপোগ্লিমীক প্রভাবের কারণে এটি ডায়াবেটিজ রোগের জন্যও লাভদায়ক হয়।

 

প্রশ্নঃ  আমি বাদাম খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ ওজন বেশী থাকেলে  আপনার কোন রকম বাদাম খাওয়া উচিত নয়। ভেজা, সেদ্ধ বা জলে ভেজানো – কোন রূপেই আপনার বাদাম খাওয়া উচিত নয়।  এমনিতেই এটি ডালের মতন পুষ্টিকর ..  কিন্তু এতে ফ্যাটও পাওয়া যায়।  ১০০ গ্রাম বাদাম থেকে  ৪০ গ্রাম তেল এবং ৫৬৭ ক্যালোরী পাওয়া যায়।

প্রশ্নঃ  আমি শুকনো নারকেল খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ না, .. আপনি শুকনো নারকেল খেতে পারেন না।  ভিটামিন এ, বি এবং সি সমৃদ্ধ নারকেল পোটাশিয়াম, সোডিয়াম, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ফোসফোরাস এবং সালফার পাওয়া যায়।  এতে পরিমাণে প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেটও পাওয়া যায়। এটি একটি ভালো প্রকারের বনষ্পতি তেল হয়।  এতে চল্লিশ ভাগ ফ্যাট থাকে।  একশত গ্রাম শুকনো নারকেল থেকে ৬৬২ ক্যালোরী পাওয়া যায় ..  তাই এটা খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। ‍

 

প্রশ্নঃ আমি সর্ষে  খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ হ্যা, .. আপনি এটা খেতে পারেন.. কিন্তু বেশী পরিমাণে নয়।  লাল রং এর এই ছোট ছোট  দানাগুলি খুব সুন্দর গন্ধযুক্ত হয়।  এই গাছের পাতা থেকেও সবজি তৈরি হয়।  এটি দিয়ে খাবার সাজানো হয়ে থাকে।  সর্ষে তরকারী এবং রায়তা প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়।  সাধারণতঃ এটিকে মশলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।  সের্ষে দানাতে নাইট্রোজেন এবং সালফার পাওয়া যায়।  এটি অম্ল রোগ এবং কিডনির রোগের জন্য ভালো হয়।  সবুজ সর্ষেতে ভিটামিন এ, বি. সি,এবং ফাইবার থাকে। এটি বেশী মাত্রায় খেলে জ্বলুনি শুরু হতে পারে।