লঘু পুষ্টি

লঘু পুষ্টি (Micronutrients)

প্রশ্নঃ  এ্যান্টি-অক্সিডেন্টস কাকে বলে ?

উত্তরঃ  এটি হচ্ছে প্রাকৃতিক জৈব রাসায়নিক তত্ত্ব.. যা শরীরের জীবিত কোষগুলিকে মুক্ত অণুর কু-প্রভাব এর হাত থেকে রক্ষা করে।  মুক্ত  অণুর কু-প্রভাবে অক্সিডেনেশন তৈরী হয় এবং এর প্রভাবে ধাতুতে জং লেগে যায়। যদি শরীর এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে তা কোষ প্রাচীরকে ক্ষতিগ্রস্ত  করে। ‍

এন্টি-অক্সিডেন্টস এটার কু-প্রভাবকে নষ্ট করে।  অপুষ্টি, দূষণ মানসিক চাপ এবং ধুম্রপান এর সংখ্যা বৃদ্ধি করে, যাতে শরীর মধ্যস্থ এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এর সংখ্যা শীঘ্রই শেষ হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ কোন খাদ্যের প্রচুর পরিমাণে এ্যান্টি-অক্সিডেন্টেস পাওয়া যায়।

উত্তরঃ শুকনো লঙ্কা, আম, ব্রোকলি, গাজর, পেপে, এবং ক্যাপসিকাম এটি প্রচুর পরিমাণে থাকে। এগুলি ছাড়া আমরা বিভিন্ন ধরণের রোগের  শিকার হতে পারি।  এমনিতে শরীর এ্যান্টি-অক্সিডেন্টস  সৃষ্টি হয়, কিন্তু খাদ্য পদার্থ থেকেও এর প্রভাব পূরণ করতে হয়।  শরীর অসুস্থ থাকলে বা দূষণের সম্মুখীন হতে হলে এর প্রয়োজন বৃদ্ধি পায়। সৌভাগ্যবশতঃ আমরা  অনেক খাদ্যের সাহায্যে এর অভাব পুরণ করতে পারি।

ভিটামিন ই, সি, এবং বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সেলেনিয়ামের মতন খনিজ পদার্থ, কিছু ফেলে (যেমন আঙুর) প্রভৃতির মধ্যে এটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

এ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পূর্তর জন্য টাটকা ফল এবং সবজি খাওয়া ‍উচিত। টক ফল থেকে ভিটামিন সি এবং উজ্জল বর্ণের ফল থেকে বিটা-ক্যারোটিন পাওয়া যায়।

প্রশ্নঃ ভিটামিন কাকে বলে ?

উত্তরঃ খাদ্যে প্রাপ্ত কার্বনিক তত্ত্বকেই ভিটামিন বলা হয়ে থাকে। এখনও পর্যন্ত শরীরের সমস্ত ভিটামিন সম্পর্কে জনা সম্ভব হয় নি। কারন এটি শরীর অল্প পরিমাণে পাওয়া যায়। এখনও পর্যন্ত আমরা তেরটি ভিটামিন সম্পর্কেই জানতে পেরেছি।

ভিটামিনের তালিকাঃ

সাধারণত ভিটামিন গুলি হলঃ

  • ভিটামিনর-এ
  • থিয়ামাইন
  • রিবোফ্লাবিন
  • নিয়াসিন
  • ভিটামিন বি-৬
  • প্যান্টোথেনিক এ্যাসিড
  • বায়োটিন
  • ফলিক এ্যাসিড
  • ভিটামিন বি – ১২
  • ভিটামিন – সি,
  • ভিটামিন – ডি,
  • ভিটামিন – ই
  • ভিটামিন – কে

প্রশ্নঃ এক গ্রাম ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ থেকে কতটা ক্যালোরী পাওয়া যায় ?

উত্তরঃ  এক গ্রাম ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ থেকে ‘জীরো ক্যালোরী’ প্রাপ্ত হয় অর্থাৎ কোন ক্যালোরীই পাওয়া যায় না।

প্রশ্নঃ যদি ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ থেকে ক্যালোর পাওয়া না যায়, তবে আমরা কেন ভিটামিন ব্যবহার করি।

উত্তরঃ ভিটামিনকে জীবন ধারণের  উপাদান বা জীবন ধারণের  প্রধান অংশ বলা যেতে পারে। এটি ল্যাটিন শব্দ ভিটা থেকে এসেছে, যার অর্থ হল জীবন amins হচ্ছেএ্যামিনো এ্যাসিড, যা প্রোটোপ্লাজমের মুখ্য ভাগ।  ভিটামিন আমাদের শরীর তথা জীবন এর পক্ষে অত্যান্ত প্রয়োজনীয় হয়।  আমাদের শরীর ষোল রকম রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা  সৃষ্টি। সেগুলি হল অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ক্লোরিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, হাইড্রোজেন, সোডিয়াম, সালফার, সিলিকা, আয়োডিন,, ফোসফোরাস, ম্যাঙ্গানিজ এবং  আয়রণ।  প্রত্যেকটি উপাদান তাদের নির্ধারিত কার্য করে।  যদি কোনটার মাত্রা কমে যায়, তবে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। শরীর এ প্রায় পাঁচ ভাগ খনিজ পদার্থ পাওয়া যায়, কিন্তু শরীর চালনা করার জন্য সেটি অত্যান্ত প্রয়োজনীয় হয়।  শরীরকে সঠিক মাত্রায় চালনা করার জন্য পর্যাপ্ত মাত্রায় এগুলির উপস্থিতি খুবই প্রয়োজন।

 

প্রশ্নঃ জল আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় কি ?

উত্তরঃ  আমাদের মধ্যে বেশীর ভাগ মানুষই  পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করেন না… যার ফলে আমাদের ত্বক হলদেটে হয়ে যায় এবং আমারা ক্লান্তি অনুভব করি । আমাদের শরীর বিভিন্ন রকম তরল পদার্থ দিয়ে তৈরি .. এই কারণে জল আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

টিপসঃ

  • যদি সারা দিন তরতাজা থাকতে চান, তবে সর্বদা নিজের কাছে জলের বোতল রাখুন এবং বেশ কয়েকবার জল পান করুন।
  • পিপাসা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না.. কারণ বয়স বৃদ্ধির সাথে-সাথে পিপাসার অনুভুতি চলে যায়।
  • পুষ্টিকর তরল পদার্থ গ্রহণ করুন, যেমন- ফল এবং সবজীর জুস এবং স্কীমড মিল্ক প্রভৃতি।
  • আপনি ডিলেটিন, ঠান্ডা য়োগর্ট, স্যুপ, তরমুজ, কমলা লেবু এবং টম্যাটোর মতন খাদ্যও গ্রহণ করতে পারেন।