ষ্টেরয়েডস কি

প্রশ্নঃ ষ্টেরয়েডস কি ?

উত্তরঃ এটি দু প্রকারের হয়। একটি, কোর্টিকো ষ্টেরয়েডস।  এটি শ্বাস কষ্ট এবং অর্থারাইটিসের জন্য ব্যবহৃত হয়।  এটি  যথেষ্ট তীব্র হলেও এর দ্বারা মাংসপেশী তৈরী হয় না।  খেলোয়াড়দের প্রদর্শন ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য এ্যানাবোলিক ষ্টেরয়েডেস ব্যবহার করা হয়ে থাকে।  এটি শরীরে পুরুষ কোষ নির্মাণের কাজ করে।  এটি শরীর পুরুষ হর্মোন টেষ্টোষ্টেরোন বৃদ্ধি করে। এর থেকে অনেক গুরুতর রোগ হতে পারে।  শরীরের ভেতরে কি পরিবর্তন হচ্ছে।  সেটা সহজে জানা যায় না। এর কুপ্রভাবগুলি হলঃ

  • উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগ
  • যকৃতের ক্ষতি এবং ক্যান্সার
  • ষ্ট্রোক এবং রক্ত জমাট বাঁধা
  • ডায়রিয়া
  • মাথার যন্ত্রণা, মাংসপেশী বা সংযোগ স্থলে টান ধরা
  • বিরক্তি এবং বমি-বমি ভাব
  • ঘুমের অসুবিধা
  • পিঠে এবং মুখে ব্রণ
  • টাক পড়ার সম্ভাবনা

 

প্রশ্নঃ স্থূলতায় কি ধরনের শল্য  চিকিৎসা করা হয় ?

উত্তরঃ  স্থূলতার জন্য একটি অতি পরিচিত চিকিৎসা হল ইলিয়াক্টোমী। অপর পদ্ধতি হল লিপোসাকশন।  দ্বিতীয় পদ্ধতিটির দ্বারা ওজন কমানোর বিষয়টি ততটা জনপ্রিয় নয়।  এই দুটি শল্য চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। যদি কারো  শরীরের বডি মাস ইন্ডেক্স প্রায় চল্লিশ এর কাছে হয়, তবে তার এই সার্জারি করা উচিত নয়।

 

প্রশ্নঃ লিপোসাকশন কি ?

উত্তরঃ লিপোসাকশনের সময় শরীরের যে কোন অংশে সঞ্চিত ফ্যাটকে সাকশন  দ্বারা বার করা হয়ে থাকে।  এই ভাবে পেট, পেটের নিম্ন ভাগ, নিতম্ব, হাটু, ঊরু, হাত, থুতনী, গাল এবং গলায় জমা অতিরিক্ত ফ্যাট বার করা হয়ে থাকে।  ডায়াবেটিজ, হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ এবং যে সমস্ত ব্যক্তিদের রক্তের গতি ধীর, তাঁদের সাকশন করানো উচিত নয়।  এই প্রক্রিয়াতে একটি সরু টিউব বা চ্যানেলের মাধ্যমে ফ্যাটের স্তরকে চামড়ার নীচে থেকে বার করা হয়।  এই চিকিৎসার অনেক কুপ্রভাব আছে।

প্রশ্নঃ  লিপেকটোমি কি ?

উত্তরঃ লিপেকটোমিতে অতিরিক্ত ফ্যাট এবং চামড়াকে শল্য চিকিৎসার দ্বারা বার  করা হয়ে থাকে।  ১৯১৮ সালের শুরুতেই একে পেন্ডুলাস এ্যাবডোমেন এর চিকিৎসার জন্য প্রয়োগ করা হয়েছিল।  এতে অতিরিক্ত ফ্যাটকে কেটে দেওয়া হয় এবং লিপোসাকশনে ফ্যাটকে নলি দ্বারা বার বার করা হয়। এই দু্টিই কৃত্রিম পদ্ধতি।

 

প্রশ্নঃ জেজুনৈলিয়ন পাইপাস কি ?

উত্তরঃ মুখে খাদ্য যাওয়ার সাথে সাথে পরিপাক ক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।  এই খাদ্য পরিপাক হওয়ার ফলে শরীর শক্তি পায় এবং অপাচ্য হওয়ার ফেলে শরীর শক্তি পায় এবং অপাচ্য অংশটি মলের রূপে বাইরে বেরিয়ে যায়। খাবার মুখে ভালো করে চিবোনোর পর  সেটা  খাদ্য নলির মধ্য দিয়ে পৌষ্টিক আন্ত্রে চলে যায়।  পৌষ্টিক আন্ত্র থেকে সেটি চলে যায় ক্ষুদ্রান্তে।  এটি তিনটি ভাগে বিভক্ত ডিয়াডেনিয়াম, জিজুনাম এবং ইলিয়াম।  ইলিয়াম থেকে এটি বৃহদান্তে চলে যায় এবং সেখান থেকে মল নির্গমনের পথ দিয়ে বাইরে বেড়িয়ে আসে।  ক্ষুদ্রান্তের সব থেকে বড় অংশ হল ইলিয়াম.. এখানেই খাদ্যের পৌষ্টিক রস শোষিত  হয়।  জেজুনৈলিয়ন বাইপাস এর সময় ইলিয়ামের দৈর্ঘ্য কমিয়ে দেওয়া হয়.. যার ফলে  ম্যালএ্যাবসর্পশন বৃদ্ধি পায় এবং ওজন হ্রাস পায়।  এই চিকিৎসায় জেজুনাম এবং ইলিয়ামকে কেটে আলাদা করে দেওয়া হয় এবং পরে সেটিকে পুনরায় জুড়ে দেওয়া  হয়। এটিকে দুই ভাবে জোড়া হয়ে থাকে।  ‘জেজুনৈলিয়ন বাইপাস’ ওজন কমাতে সাহায্য করে। এরপর রোগীর মন থেকে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়, কারণ তাঁর মধ্যে খাবারের প্রতি অরুচির সৃষ্টি হয়।

 

প্রশ্নঃ আমরা নিজেরাই  ক্ষিধে কমানোর ঔষধ গ্রহণ করতে পারি কি ?

উত্তরঃ মস্তিস্কের হাইপোথালমস কেন্দ্রে অবস্থিত ক্ষুধা কেন্দ্রই ক্ষিধেকে নিয়ন্ত্রণ করে।  এমন কিছু ঔষধ আছে,  যা ক্ষিধেকে অনুভব করতে দেয় না।  এই ঔষধগুলিকে এ্যানোরেক্সীয়্যান্টস ও বলা হয়ে থাকে।  এগুলোর ব্যবহার করা উচিত নয়.. কারণ এটি হচ্ছে ওজন কমানোর কৃত্রিম প্রচেষটা। এর নিজের কুপ্রভাবও আছে।  কয়েকটি ক্ষেত্রে ডাক্তরের পরামর্শ অনুযায়ী এটি গ্রহণ করা যেতে পারে।  যদি কোন ব্যক্তি লাগাতার কিছ না কিছু  খেয়েই চলেন এবং তিনি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তবে তাকে এই ঔষধ দেওয়া যেতে পারে।  কিন্তু সাধারণতঃ স্থূলতার জন্য এর ব্যবহার করা উচিত নয়।

প্রশ্নঃ থায়রয়েডের জন্য স্থূলতার বহিঃপ্রকাশ বৃদ্ধি পায় কি ?

উত্তরঃ হ্যাঁ, থায়রয়েডের থেকেও স্থূলতা আসতে পারে। থায়রয়েডের সাথে দুটি সমস্যা যুক্ত থাকে।  প্রথমটি হাইপারথায়রডিজম, এতে থায়রয়েডের জন্য হর্মোন বেশী পরিমাণে নির্গত হয়। অপরটি হল হাইপোথায়রডিজম, যাতে টি-থ্রি এবং টি-ফোর হর্মোন কম মাত্রায় প্রসস্ত হয়। এটা হর্মোন মোটাবেলি রেটকে স্বাভাবিক রাখে। হাইপারথারডিজম-তে রোগীর মোটাবোলিক রেট বৃদ্ধি পায়.. ফলে তাঁদের ওজন কমানো উচিত। হাইপোথায়রডিজম এর রোগীদের মোটাবেলিক রেট কম হয়.. এই কারণে তাঁদের ওজন বাড়ানো উচিত। খাবারের আয়োডিনের অভাব থাকলে থায়রয়েড রোগ হয়।  তের-চৌদ্দ বছরের মেয়েদের হাইপোথায়রডিজম হলে তাদের ওজন কমতে থাকে, কিন্তু এই পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

 

প্রশ্নঃ এ্যান্টি-থায়রয়েডে ঔষধ ওজন কমাতে সহায্য করে কি ?

উত্তরঃ হাইপোথায়রয়েডে টি-থ্রি এবং টি-ফোর হর্মোন তৈরী না হওয়ার জন্য এ্যান্টি-থায়রয়েড ঔষধ দেওয়া হয়ে থাকে.. যাতে রোগলি ওজন হ্রাস পায়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগী এল্ট্রোক্সিন এবং থায়রোনর্ম নিতে পারেন।  যদি কোন মোটা ব্যক্তি এ্যান্টি-থায়রেয়েড ঔষধ নেন, তবে তার কুপ্রভাব দেখা যেতে পারে।  তাঁর এটা গ্রহণ করা উচিত নয়।

 

প্রশ্নঃ  এমন কোন ঔষধ আছে কি, যা আমাদের শরীরের মোটবোলিজমের মাত্রা বাড়িয়ে ক্যালোরীর মাত্রাকে কমায় ?

উত্তরঃ হ্যাঁ.. এমন কিছু ঔষধ আছে, যেগুলো মেটাবোলিজমেনর হার বৃদ্ধি করে ক্যালোরীর মাত্রা কমাতে পারে, যেমন- এ্যান্টি-থায়রয়েডের ঔষধ।  থায়রয়েড হর্মোন আমাদের মোটাবেলিক প্রক্রিয়ায় দ্রুততা আনে, যার ফলে ওজন কমে.. কিন্তু এর কুপ্রভাবও আছে।  ফলে এগুলো ব্যবহার না করাই ভালো।

আমরা ঔষধের পরিবর্তে ফাইবার ব্যবহার করে ওজন কমাতে পারি কি ?

উত্তরঃ হ্যাঁ, আপনি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের ওজন কমাতে পারেন। খাবারের ফাইবারের মাত্রা বৃদ্ধি করে আপনি নিজের ওজন  কমাতে পারেন… কারণ এতে ’জীরো ক্যালোরী’ পাওয়া যায়। এর ফলে পেট ভরা-ভরা বলে মনে হয়।  তাই মোটা ব্যক্তি অধিক পরিমাণে খাবার খান না। ফল এবং সবজি আমাদের প্রচুর পরিমাণে ফাইবার প্রদান করে। এগুলিকে প্রাকৃতিক রূপে গ্রহণ করতে পারেন। অনেকে প্রচুর পরিমাণ জল মিশেয়ে ইসবগুলের ভুষিও খেয়ে থাকেন।

প্রশ্নঃ ’হার্বোলাইফ’  ভালো চিকিৎসা কি ?

উত্তরঃ কিছুদিন আগে পর্যন্ত এটি ভারতে প্রচন্ড জনপ্রিয় ছিল।  একে ওজন কমানোর ভালো প্রক্রিয়া বলে মনে করা হত। এটা ব্যবহার করা খারাব নয়..  কারণ  এর কোন কু-প্রভাব নেই।  শুদ্ধ ফাইবার এর পরিবর্তে হার্বোলাইফ পাউডার ব্যবহার করতে পারেন.. কিন্তু এটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ব্যবহার করবেন না।

প্রশ্নঃ ওজন কমানোর জন্য বাজারে কিছু আয়ুর্বেদিক এবং হোমিয়োপ্যাথিক ঔষধ পাওয়া যায়।  আমরা সেগুলোর ব্যবহার করতে পারি কি ?

উত্তরঃ  প্রকৃত পক্ষে এই ধরণের বেশীর ভাগ ঔষধের প্রতিশ্রুতি একেবারেই মিথ্যে হয়। যদি কার্যকারীও হয়, তবুও আমি এগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দেব না। আমার মতে আপনার ক্যালোরী সম্পর্কে জানুন এবং ব্যায়াম আর যোগাসনের মাধ্যমে নিজেদের ওজন কমান।  ক্যালোরী কম  পরিমাণে গ্রহণ করলে আপনাদের ওজন আপনার থেকেই কমে যাবে।

প্রশ্নঃ আমি মাল্টি-ভিটিমিন ঔষধ নিতে পারি কি ?

উত্তরঃ হ্যাঁ, আপনি মাল্টি-ভিটামিন ঔষধ নিতে পারেন। ডায়েটিং এর সময় আপনার শরীর যে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের অভাব দেখা যায়, তা এর সাহায্য পূরণ হতে পারে।  এটি গ্রহণ করলে কোন ক্ষতি হয় না।