স্থূলতার কারণ কি ?

স্থূলতার কারণ কি ?

প্রশ্নঃ স্থূলতার কারণ কি ?

উত্তরঃ  যখন আমরা প্রয়োজন এর বেশী শক্তি/ক্যালোরী গ্রহণ করি, তখন সেই অতিরিক্ত ক্যালোরী শরীরের বিভিন্ন  অংশে সঞ্চিত হতে থাকে।  যদি  এটি দীর্ঘ দিন চলতে থাকে, তবে স্থূলতা দেখা যায়।

 

ক্যালোরী নিয়ন্ত্রণঃ

মস্কিস্কের যে অংশটি ক্ষিধে পাওয়ার বার্তা আসে এবং কিছু খাওয়ার ইচ্ছা জাগে। মাথার অন্য আর একটি অংশ খাওয়ার ইচ্ছাকে আমাদের পর্যন্ত পৌছায়। একে তৃপ্তি কেন্দ্র বলা হয়।  এটা নষ্ট হয়ে গেলে রোগী অতিরিক্ত খাবার খায় এবং মোটা হয়ে যায়। মাথায় আঘাত লাগার যদি হাইপোথেলমস্ অহাত হয়, তবে স্থূলতা হতে পারে.. কারণ তার ফলে ক্ষিধে পেয়েছে কি পায়নি, তা বোঝা যায় না। প্লাজমা গ্লুকোজ বা ইনস্যুলিন তৃপ্তি কেন্দ্রকে সক্রিয় করে তুলতে পারে।

মাথা আমাদের খাদ্য গ্রহণকে নিয়ন্ত্রণ করে।  এক সামাজিক, মনো-বৈজ্ঞানিক এবং তৃপ্তি বংশানুক্রমিক কারণ প্রভাবিত করে থাকে।

 

খাওয়া-দাওয়া  অভ্যাসঃ

কোন ব্যক্তির খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসও তাঁর  স্থূলতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারেঃ

  • ক্রমাগত ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া
  • দুবার খাদ্য গ্রহণ করার মাঝেও যদি লাগাতার কিছু খাবার খাওয়া হয়, তাহলেও স্থুলতা বৃদ্ধি পায়।
  • অনেকে খাবার ভালো করে না চিবেয়ে তাড়াতাড়ি খাবার খান। এর ফলে তারা অনেক বেশী খাবার খেয়ে নেন।
  • অনেকে সুস্বাদু খাবার দেখলেই খেতে শুরু করে দেন। ক্ষিধে পেয়েছে কি না, সেটা দেখেন না।
  • ঘরে খাবার বানানোর সময় মহিলারা বা রান্না ঘরে কাজ করার সময় পুরুষেরা অনেক বেশী খাবার খান এবং স্থূলতার শিকার হন।
  • অনেকে ঠিক সময়ে খাবার খেলেও ফ্যাট যুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে মোটা হয়ে পড়েন।
  • যাঁরা অতিরিক্ত খাবার ফেলতে চান না, তারাও বেশী খেয়ে মোটা হয়ে যান।

 

মানসিক কারণঃ

অনেকে মানসিক চাপ, নিরাশা এবং উত্তেজনার করণে বেশী খেয়ে থাকেন।

সামাজিক সংস্কৃতির কারণঃ

  • সমৃদ্ধি এবং সভ্যতার বলে বলীয়ান আর সমৃদ্ধ দেশের উচ্চ বর্গের মানুষদের  মধ্যে স্থূলতা হচ্ছে এক সাধারণ অসুখ। তাঁদের কাছে টাকা-পয়সার অভাব থাকে না, ফলে তারা সুস্বাদু খাদ্য প্রয়োজনের বেশী খেয়ে ফেলেন। সভ্যতার বিকাশের ফলে বাজারে বেশ ভালো-ভালো খাবার পাওয়া যায়।
  • নিমন্ত্রণ এবং সামাজিকতাঃ সামাজিক ক্ষেত্রে নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি বজায় রাখতে গিয়ে অনেক ’পার্টি পার্সন’ হয়ে ভারী খাদ্য গ্রহণ করে থাকেন।
  • মহিলাগণ এবং রাধুনীরা সারা দিন রান্না ঘরে কাটান বলে অনেক বেশী-বেশী খেয়ে ফেলেন.. কিন্তু মডেল বা বিমান সেবিকাদের দৈহিক কাঠামো দৃষ্টি –নন্দনীয় রাখতেই হয়।
  • বিয়ের আগে এবং পরেঃ বিয়ের আগে প্রতিটি ব্যক্তি নিজেকে অর্কষণীয় করে তোলার জন্য এবং খাওয়া-দাওয়ার দিকে যথেষ্ট দৃষ্টি দেন.. কিন্তু বিয়ের পর এই বিষয়ে কোন দৃষ্টিই থাকে না।

বংশনুক্রমঃ

পরম্পারাগত ভাবেও অনেকে মোটা হয়ে যান। যদি বাবা-মা দুজনেই মোটা হন, তবে তাদের বাচ্চাদেরও আশি ভাগ মোটা হওয়ারর সম্ভাবনা দেখা যায়।  যদি বাবা-মায়ের মধ্যে একজন মোটা হন, তবে সেই সম্ভাবনা সাত ভাগ এসে দাঁড়ায়।

হার্মোনাল কারণঃ

হাইপোথায়রাইডিজম; হাইপোগোনডিজম এবং কুশি সিন্ড্রোম দ্বারাও স্থূলতার সৃষ্টি হয়। গর্ভাবস্থা এবং মেনোপজের সময়তেও স্থূলতা দেখা যায়।

 

খরচের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণঃ শক্তি খরচ করার তিনটি মুখ্য উপায় হলঃ

  • দৈহিক ষাট-সত্তুর ভাগ শক্তি বি.এম.আর. এর জন্য ব্যয় হয়। শরীরের কোষ এবং তাপমাত্রার জন্য এই শক্তি খুবই প্রয়োজন। আপনি যদি ’লীন বডি মাস’ থেকে মোট ফ্যাট বাদ দেন, তবে আপনি বি.এম. আর. পেয়ে যাবেন। এই কারণে পুরুষেরা মাহিলাদের ‍তুলনায় বেশী পরিশাণ ব্যয় করতে পারেন। এই কারণে মোটা ব্যক্তিদের বি. এম. আর. রোগা ব্যক্তিদের থেকে কম হয়।
  • খাওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই মেটাবোলিক রেট বৃদ্ধি পায়। পরিপাক, শোষণ এবং  সঞ্চয়ের কারণে শক্তির পঁচাত্তর ভাগ নষ্ট হয়ে যায়।
  • ব্যায়ামঃ স্থূলতার সময় কি রকম কার্য করা হচ্ছে, তার ভিত্তিতেও শক্তির অপচয় নির্ভর করে। রোগা ব্যক্তিদের তুলনায় মোটা ব্যক্তিদের বি.এম. আর. দৈহিক পরিচর্যার সময় বৃদ্ধি পায়। কোন আরামদায়ক জীবন শৈলী যাপনকারী ব্যক্তি ব্যায়াম করার পরেও পরেও সম্পূর্ণ শক্তি শেষ করতে পারেন না.. কারণ তাঁর দৈনন্দিন কার্য সূচিতে কোন কাজ নেই বললেই চলে।

প্রশ্নঃ বংশপরম্পরায় স্থূলতা আসতে পারি কি ?

উত্তরঃ  হ্যাঁ, এটিকে বংশানুক্রমিক রোগ বলা যেতে পারে।  যদি বাবা-মা মোটা, তবে তাঁদের মোটা হতে পারে। খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসই এর প্রধান কারণ। বাবা-মায়ের খাদ্যাভাস বাচ্চাদের মধ্যেও সঞ্চারিত হয় এবং বড় হওয়ার পরেও তার অভ্যাস পরিবর্তন হয় না।

 

প্রশ্নঃ মদ্যপান করলে স্থূলতা দেখা যায় কি ?

উত্তরঃ হ্যাঁ, এর থেকেও স্থূলতা দেখা যেতে পারে।  এক পেগ মদ থেকে সত্তুর থেকে আশি ক্যালোরী পাওয়া যায়। চিপস, আমন্ড এবং কাজুর সাথে পান করলে ক্যালোরী আরও বৃদ্ধি পায়।  যদি শুধু মদ পান করা হয়, তবেও স্থূলতা আসতে সময় লাগে না। বিয়ার পান করলেও স্থূলতা  দেখা যায়.. ভুড়িরও হতে পারে।