স্থূলতা এবং খাদ্য

স্থূলতা এবং খাদ্য

প্রশ্নঃ ’সাওল তেল’ কাকে বলে ?

উত্তরঃ  ‘সাওল জলকেই ‘সাওল তেল’ আখ্যা দিয়েছে। আমরা সকলেই জানি যে, জলে কোলেষ্ট্রল এবং ট্রাইগ্লিসরাইড পাওয়া যায় না।  এই কারণে এতে ওজন বৃদ্ধি পায় না।  এটি হচ্ছে রান্না রান্না করার এক সুরক্ষিত এবং সুস্থ উপায়। প্রথেমে মশলা ভাজা হয়, তারপর এতে টম্যাটো প্যুরি দেওয়া হয়। তারপর যখন মশলা কড়াইতে লাগতে শুরু করে, তখন এতে সামান্য জল দেওয়া হয়। এই সাওল তেল এর সাহায্যে ১০০০ রকম খাদ্য প্রস্তুত করেছে।

প্রশ্নঃ তেল ছাড়া কি ভাবে রান্না করবেন ?

উত্তরঃ তেল ছাড়া  রান্না করার প্রক্রিয়াঃ

  • একটি কড়াই গরম করুন( নন-ষ্টিক হলে ভাল হয়)
  • জিরে দিয়ে মুচমুচে আর লাল করে ভেজে নিন
  • এবার কাড়াইতে পেঁয়াজ বাটা দিয়ে নাড়তে থাকুন। কড়াইতে লাগতে শুরু করলে সামান্য জল দিয়ে দিন।
  • স্বাদানুসারে আদা আর রসুনের  পেষ্ট বানিয়ে নিন।

নোটঃ এক সাথে অনেকটা জল দেবেন না।  এতে খাবার সিদ্ধ করা হয়েছে বলে মনে করা হবে।

  • তারপর টম্যাটো পেষ্ট দিয়ে সামান্য জল দিয়ে ভাজুন।
  • যতক্ষন না জলে বুদবুদের সৃষ্টি হচ্ছে, ততক্ষন ধরে ভাজুন।
  • তারপর হলূদ দিয়ে আবার নাড়তে থাকুন ( হলূদ মিশতে একটু সময় লাগে)
  • এরপর স্বাদানুসারে নুন, শুকনো লঙ্কা, ধনেপাতা এবং মশলা দিয়ে দিন।
  • আপনার ‘জীরো অয়েল’ মশলা প্রস্তুত।
  • সবজি বা ডাল (সেদ্ধ করা/ভেজানো) দিতে চাইলে মিশিয়ে দিন।
  • এতে গরম মশলার মিশ্রণ (লবঙ্গ, জায়ফল, বড় এলাচ, ধনে প্রভৃতি) দিতে ভুলবেন না।
  • এরপর কোঁচানো পাতা দিয়ে সাজিয়ে নিন।

প্রশ্নঃ সিলভার  পেপার দিয়ে প্রস্তুত খাবার সাজানো যাবে কি ?

উত্তরঃ হ্যাঁ, .. আপনি এটি ব্যবহার করে খাবার সাজাতে পারেন।  এটি লোহা ক্যালশিয়াম প্রভৃতি খনিজ পদার্থ মিশিয়ে প্রস্তুত করা হয়। আমাদের শরীরে এটি খুবই সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয়। আপনি এই খনিজ পদার্থ যুক্ত পেপারের সাহায্যে  নিজের খাবার  সাজাতে পারেন। আজকাল ডায়াবেটিজ রোগীদের  চিকিৎসায় সোনা/রুপা প্রভৃতি ধাতু ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

 

প্রশ্নঃ উপবাস কি ভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে ?

উত্তরঃ উপবাসের মাধ্যমে ওজন কমানোর  প্রক্রিয়া এক ভয়ঙ্কর প্রক্রিয়া হয়।  এর সাহায্যে দ্রুত গতিতে ওজন কমে .. কিন্তু সমস্যা হল  এই যে এই প্রক্রিয়ায় ওজন কমানো হলে ফ্যাট সহ লীন বডি মাসও কমে যায়। এর ফলে খনিজ পদার্থও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।  ইউরিনারী কিটনস সীরম  ইউরিক এ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি করে।  বাত, কার্ডিয়াক, সেরিব্রাল আর হেপাটিকের রোগীদের এই প্রক্রিয়া গ্রহণ করা উচিত নয়। এটা ওজন কমানোর স্থায়ী সমাধান নয়।

 

 

 

প্রশ্নঃ নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করে ওজন কমানো সম্ভব কি ?

উত্তরঃ নিরামিষ খাদ্যের মধ্যে পশুর মাংস অন্তর্ভূক্ থাকে না ..  কিন্তু দুধ, দই, পনীর- এইগুলি সবই পশুর থেকে পাওয়া যায়। যে কোন নিরামিষ খাবার ফাইবারে পূর্ণ থাকে।  নিরামিষ খাদ্যের সাহায্যে কোলেষ্ট্রল এর স্তর  কামানো যেতে পারে।  হৃদরোগ, কোষ্টকাঠিন্য, স্তন ক্যান্সার এবং কিডনিতে পাথর এর ক্ষেত্রে এটি লাভজনক হয়। এটা এন্টিয়োপোরোসিসের জন্য ভালোহয়।  অন্য দিকে আমিষ খাদ্যে ফাইবার পাওয়া যায়, যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়।

 

প্রশ্নঃ খাদ্যের ব্যাপারে কি ভাবে একঘেয়েমির  হাত থেকে বাঁচা যায় ?

উত্তরঃ বিভিন্নতার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত স্বাদ লুকিয়ে আছে। খাদ্যের ব্যাপারেও এই কথা টি  প্রযোজ্য হয়।  সেদ্ধ করা, বেক করা, ভাজা, ভাপে করা রান্না এবং গ্রীল্ড খাদ্য আপনার স্বাদ বৃদ্ধি করে এবং একই সাথে ক্যালোরীর মাত্রাকে কমিয়ে এনে আপনার পুষ্টি বজায় রাখে। এমনিতে সুষম খাদ্য পাওয়ার  জন্য আপনার দানা শস্য, ডাল সবজি, ফল এবং দুধ অবশ্যই খাওয়া উচিত।

 

প্রশ্নঃ কোষ্টকাঠিন্য এর হাত থেকে কি ভাবে রেহাই পাওয়া যায় ?

উত্তরঃ   কোষ্টকাঠিন্য এর হাত থেকে বাঁচার জন্য ঘরোয়া কিছু নিয়ম নীচে দেওয়া হল-

  • রাতে শোওয়ার সময় গরম দুধ বা জলের সাথে ’ইসবগুলের ভুষি’ বা ডাবরের ‘নেচারকেয়ার’ গ্রহন করুন।
  • রাতে গরম দুধ বা জলের সাথে ত্রিফলা এবং আমলকির চূর্ণ খেতে পারেন।
  • সকালবেলা শৌচে যাওয়ার আগে জলে নুন মিশিয়ে পান করুন এবং একটু হাটুন .. তারপর শৌচে যান।
  • সকালে উঠেই গরম জলে লেবু আর মধু মিশিয়ে খান
  • দুধের সাথে কিশমিশ ফুটিয়ে খেতে পারেন।
  • রাতে দুধের সাথে গুলকন্দ খান।
  • রাতে শোওয়ার আগে জল দিয়ে পরিপাকে সাহায্যকারী চূর্ণ খেতে পারেন।
  • ক্যাষ্টর অয়েলও নিতে পারেন।
  • একটা লেবুকে দু ভাগ করে নুন আর গোলমরিচ এর গুড়ো ছড়িয়ে নিন এবং তারপর সেটা চুষে-চুষে খান।
  • উষ্ণ গরম জলে নুন আর লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন।
  • প্রতিদিন ছয় থেকে আট গ্লাস জল অবশ্যই পান করুন।
  • আপনার ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। সবজীর মধ্যে পালং শাক, গাজর, মূলো এবং শশার স্যালাড ছাড়াও ফলের মধ্যে পেপে, কমলা লেবু, ডুমুর, তরমুজ, এবং গোটা দানা শস্য আর ডাল খাওয়া উচিত।  ফাইবার বিহীন খাবার খাবেন না।  ময়দা এবং আটার তৈরি খাবার থেকে দূরে থাকুন।
  • একটা সবুজ রংয়ের বোতল এ জল ভরে সেটিকে প্রায় চার ঘন্টা সূর্যের আলোয় রাখুন।  তারপর সেই জল পান করুন .. কোষ্টকাঠিন্য দূর হবে।
  • খাওয়ার পর বজ্রাসন করুন। এতে বৃহদান্ত্র এবং পাচন সম্পর্কিত গতিবিধি সুচারু হয়।
  • পোটাশিয়ামে পূর্ণ কলা, আলু এবং টম্যাটো প্রভৃতি খান।

 

প্রশ্নঃ ওজন কমানোর জন্য রান্নায় কি তেল ব্যবহার করা উচিত ?

উত্তরঃ কোন তেলই ওজন কমাতে সাহায্য করে না।  এই সব  তেলের মধ্যে ট্রাইগ্লিসরাইড এবং ফ্যাট পাওয়া যায়।  এক গ্রাম ফ্যাট থেকে নয় ক্যালোরী  শক্তি পাওয়া যায়।  এর প্রয়োগ করলে ওজন কমার  পরিবর্তে বৃদ্ধি পেতে পারে ..  কারণ এটি খাদ্যে ক্যালোরীর পরিমাণকে বৃদ্ধি করে। এই কারণে  ওজন কমানোর জন্য ’সাওল তেল’ ব্যবহার করুন।

 

প্রশ্নঃ গোলাপজামে কতটা ক্যালোরী থাকে ?

উত্তরঃ  ৫০ গ্রাম ওজনের একটি গোলাপজাম এ ৩০০ ক্যালোরী থাকে।  মোট ব্যাক্তিদের  এটি কখনোই খাওয়া উচিত নয়।

 

প্রশ্নঃ  কোন স্ন্যাক্স এ খুব কম ফ্যাট থাকে ?

উত্তরঃ  এমন অনেক স্ন্যাক্স আছে, যাতে ফ্যাট নেই, বললেই চলে। আপনি নিম্নলিখিত  স্ন্যাক্স গুলি খেতে পারেন- পপ কর্ণ (ফ্যাট বিহীন) মুড়ি, ভেল (আপেল ছাড়া) ঢোকলা, ইডলী, সবজি দিয়ে তৈরি স্যান্ডউইচ, উপমা, পোহা, ছোলা ভাজা আর মেরী বিস্কুট ব্রেড পকোড়া।

 

প্রশ্নঃ স্যালাড সাজানোর জন্য কোন ধরণের  সামগ্রী ব্যবহার করা যায় ?

উত্তরঃ স্যালাড সাজানোর উপকরণগুলি তেলহীন হতে হবে।  ক্ষারের রূপে ভিনিগার ব্যবহার করতে পারেন।

 

প্রশ্নঃ এক দিনে কতটা জল পান করা উচিত ?

উত্তরঃ প্রতি দিন চার থেকে দশ গ্রাস জল পান করা উচিত। এত আপনার পেট ভরা –ভরা থাকবে এবং ওজনও বৃদ্ধি পাবে না। এছাড়া জল শরীরের দূষিত পদার্থকে শরীরের বাইরে বার করতেও সাহায্য করে।

 

প্রশ্নঃ স্যালাড এ আমরা কি-কি খেতে পারি ?

উত্তরঃ আপনি স্যালাডে সব রকম  সবজি এবং ফল খেতে পারেন।  আপনি নিজের স্বাদ আর পাচন শক্তি অনুসারে যে কোন স্যালাড খেতে পারেন ..  কিন্তু সেটিকে অবশ্যই তেলবিহীন হতে হবে।  আপনি স্বাদ বৃদ্ধির জন্য ভিনিগার, লেবু এবং চাট মশলা ব্যবহার করতে পারেন।

 

প্রশ্নঃ আমি চকোলেট খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ  চকোলেট একেবারেই খাবেন না .. কারণ এটি হচ্ছে উচ্চ ক্যালোরী যুক্ত খাবার।  এটি খেলে অবশ্যই ওজন বৃদ্ধি পাবে।

 

প্রশ্নঃ কৌটোবন্দী জুস বা স্যুপ খেতে পারি কি ?

উত্তরঃ হ্যাঁ, আপনি এগুলি খেতে পারেন।  এতে বেশী ক্যালোরী থাকে না।  এতে প্রিজার্ভেটিভস মেশানো হয়ে থাকে।  এই কারণে শরীরের জন্য  টাটকা জুস বা স্যুপ অনেক বেশী ভালো হয়।

 

প্রশ্নঃ আইসক্রীম খেতে পারি কি  ?

উত্তরঃ আইসক্রীম খাওয়া একেবারে নিষেধ। এটি ক্রীম থেকে প্রসস্ত হয় এবং এতে প্রচুর ফ্যাট থাকে।  উচ্চ ক্যালোরী যুক্ত আইসক্রীম খেলে ওজন আরও বৃদ্ধি পাবে।

 

প্রশ্নঃ রাতের খাবার খাওয়ার প্রচুর আদর্শ সময় কোনটা ?

উত্তরঃ এমনিতে এই সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছুই বলা যায় না।  যে কোন ব্যাক্তির নিজের সুবিধা অনুসারে খেতে পারেন।  রাতে শোওয়ার দু ঘন্টা আগে অবশ্যই খাবার খেয়ে নিন .. যাতে খাবার হজম হওয়ার জন্য সময় পাওয়া যায়।

 

প্রশ্নঃ আমি প্রিজার্ভেটিভসের ব্যবহার  করতে পারি কি ?

উত্তরঃ হ্যাঁ আপনি এটি অল্প মাত্রায় খেতে পারেন।  প্রকৃত পক্ষে এটি এক ক্যামিক্যাল হয়, যা আপনার শরীরের ক্ষতি করতে পারে।  ঘরে ব্যবহৃত  নুন, তেল, চিনি প্রভৃতি প্রিজার্ভেটিভগুলি মোটা ব্যক্তিদের  খাওয়া উচিত নয়।

 

প্রশ্নঃ আমি খাবারে রং ব্যবহার করতে পারি কি ?

উত্তরঃ হ্যাঁ, আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন। খাবার বানানোর সময় যে কোন প্রাকৃতিক রং আমাদের পক্ষে  ক্ষতিকারক হয় .. কিন্তু এগুলোর হাত থেকে বাঁচাও মুশকিল।  এর সাথে খাদ্যের পুষ্টিগুণের  কোন সম্পর্ক নেই .. কিন্তু খাদ্য পদার্থের আসল রং বজায় রাখার জন্য এর ব্যবহার করা হয়। সুতারং প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করুন, যেমন- কেশর।  এটি খাদ্যে স্বাদে আর রং দুটিই প্রদান করে।

 

প্রশ্নঃ আমি খাদ্যে এসেন্সের প্রয়োগ করতে পারি কি ?

উত্তরঃ হ্যাঁ, আপনি এর ব্যবহার করতে পারেন।  এসেস খাবারকে সুস্বাদু এবং সুগন্ধিত করে তোলে।  তবে থেকে তৈরী এসেস প্রায়োগ করবেন না।

 

প্রশ্নঃ আমাদের খাদ্যে কতটা ক্যালোরী আছে, কি ভাবে জানব ?

উত্তরঃ ক্যালোরী হিসাব করা খুবই সুবিধাজনক কাজ।  সবার আগ আপনাকে এটা জানতে হবে যে, কার্বোহাইড্রেট,প্রোটিন এবং ফ্যাট থেকে কতটা করে ক্যালোরী পাওয়া যায়।  একগ্রাম কার্বোহাড্রেট থেকে চার ক্যালোরী, এক গ্রাম প্রোটিন থেকে চার ক্যালোরী এবং এক গ্রাম ফ্যাট থেকে নয় ক্যালোরী পাওয়া যায়।  খাদ্যে উৎস কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন না ফ্যাট ..  আপনাকে সেটাও জানতে হবে।  এরপর আপনি নিজের খাদ্য পদার্থের ওজন থেকে ক্যালোরী আন্দাজ করতে হবে।  এরপর আপনি নিজের খাদ্য পদার্থের ওজন থেকে ক্যালোরী আন্দাজ করতে পারবেন।  যেমন ধরুন, আপনার কাছে পঁচিশ গ্রাম ওজনের একটি পাউরুটির টুকরো আছে, যার উৎস হচ্ছে কার্বোহাইড্রেট। আপনি পঁচিশ কে চার দিয়ে ভাগ গুণ করে এর  ক্যালোরী জানতে পারবেন।  এই ভাবে আপনি বাকী ক্যালোরীগুলিরও হিসাব করতে পারবেন।