স্থূলতা এবং হৃদয়

স্থূলতা এবং হৃদয়

প্রশ্নঃ স্থূলতা কি ভাবে হৃদয়কে প্রভাবিত করে ?

উত্তরঃ শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে হৃদপিন্ড এর আকারও বৃদ্ধি পেয়ে যায়। তখন হৃদয়কে সম্পূর্ণ শরীরে রক্ত পৌছানোর জন্য অনেক বেশী পরিশ্রম করতে হয়। হৃদয় সংকুচিত  এবং প্রসারিত হয়। অধিক কর্যভার হৃদয়ের নিম্ন ভাগের মাংসপেশীগুলিকে পাতলা করে দেয়।  এর ফলে হৃদপিন্ডের কার্য প্রণাল প্রচন্ড ভাবে প্রভাবিত হয়।  যত দিন যায়.. হৃদপিন্ড তত এই ভারকে সহ্য করতে পারে না এবং শ্বাসের অভাবের জন্য কঞ্জেষ্টিভ হার্ট ফেলিয়োর হয়ে পড়ে।

মোটা মানুষেরা অনেক সময়ই উচ্চ রক্তচাপের জন্য কষ্ট পান।  এটি হৃদয়ের কাজের চাপ বৃদ্ধি করে। অত্যাধিক চাপের জন্য হৃদপিন্ড এর মাংসপেশীগুলি দুর্বল হয়ে যায়।  হৃদয়ের পাম্পও  ‍ঠিক মতন কাজ করতে পারে না। ওজন কমিয়ে এই পরিস্থিতিকে সামলানো যেতে পারে.. কিন্তু সাথে সাথে ঔষধও খেতে হয়।  স্থূলাতার সাথে ডায়াবেটিজেরও সম্পর্ক রয়েছে।  ডায়াবেটিজ থেকে হৃদরোগের সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে।  বেশীর ভাগ মোটা মানুষ শোওয়ার সময় নাক ডাকেন।  ফুসফুস পর্যন্ত হাওয়া ঠিক ভাবে পৌছতে পারে না .. ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।  এতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় এবং হৃদপিন্ডের গতি প্রভাবিত হয়। এই কারণে রোগীদের ঘুমের মধ্যেও মৃত্যু হতে পারে।  রক্তে অক্সিজেনের অভাবে ফুসফুসে রক্তের চাপ বৃদ্ধি পায়.. যার ফলে হৃদয়ের ডান দিকেরে  অংশ প্রভাবিত হয় এবং সঠিক ভাবে রক্ত পাম্প না হওয়ার কারণে শ্বাস গ্রহণে কষ্ট হয়।

প্রশ্নঃ কোলেষ্ট্রল কি ভাবে হৃদয়কে প্রভাবিত করে ?

উত্তরঃ কোলেষ্ট্রল  হচ্ছে আসলে ফ্যাট। এটি হৃদয়ের ধমনীতে জমে যায় এবং এর ফলে হৃদরোগ হয়। এটি রক্তে খুব সামান্য পরিমাণে  থাকে।  রক্তে এর মোট উপিস্থিত প্রায় সাত দশমিক পাঁচ গ্রামের কাছাকাছি। কোলেষ্টল থেকে কখনোই স্থূলতার জন্ম হয় না। এর দ্বারা কোষের আস্তরণ সৃষ্টি হয়।  এটি সেক্স হার্মোনের  জন্যও লাভজনক নয়। এই কারণে কোলেষ্ট্রল উপযোগী হলেও এর সাথে স্থূলতার কোন সম্পর্ক নেই।

 

প্রশ্নঃ আমি কি ভাবে কোলেষ্ট্রল স্তরকে কমাতে পারি ?

উত্তরঃ আমাদের শরীরে তিন প্রক্রিয়ায় কোলেষ্ট্রল সৃষ্টি হয়ঃ

(ক) খাদ্য থেকে প্রাপ্ত কোলেষ্ট্রল।

(খ)  শরীর দ্বারা যকৃৎ-তে সৃষ্ট কোলেষ্ট্রল।

(গ) ব্যায়ামের অভাব এবং মানসিক চাপ থেকে উৎপন্ন কোলেষ্ট্রল

আমাদের শরীরে কোলেষ্ট্রল সৃষ্টির প্রধান কারণ হল খাদ্য.. যা সমস্ত রকম মাছ এবং মাংস থেকে পাওয়া যায়।  আমাদের শরীরের খুব বেশী হলে এক গ্রাম কোলেষ্ট্রল প্রয়োজন হয়।  যাঁরা  বেশী মাছ-মাংস খান, তাঁরা  এক গ্রাম কোলেষ্ট্রল খেয়েই নেন। আমরা এক দিনে দশ মি.গ্রাম খাওয়ার পরামর্শ দিই। সুতারং আমাদের মাসেংর থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখতে হবে।

যকৃৎ দ্বারাও কোলেষ্ট্রলের সৃষ্টি হয়।  শরীরে ষাট ভাগ কোলেষ্ট্রেল এমনিতেই তৈরী হয়। অনেক সময় মানুষের মধ্যে বংশানুক্রমে এটি বেশী পরিমাণ পাওয়া যায়।  যদি বাব-মায়ের মধ্যে কোলেষ্ট্রলের ভাগ বেশি থাকে, তবে তা বাচ্চাদের  মধ্যেও সঞ্চারিত হতে পারে। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করার সাথেসাথে এমন ব্যক্তিদের ঔষধ খেতে হয়, যাতে যকৃৎ-তে  অধিক কোলেষ্ট্রল সৃষ্টি হয়।

ব্যায়ামের অভাব এবং মানসিক চাপ থেকেও  কোলেষ্ট্রল বৃদ্ধি পায়। আজকাল প্রায় প্রতিটি লোকের মধ্যেই এই পরিস্থিতি দেখা যায় এবং সেটা অপ্রত্যক্ষ ভাবে স্থূলতার কারণ হয় দাঁড়ায়।

 

প্রশ্নঃ পোলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট কী ?

উত্তরঃ আমাদের শরীরে উপস্থিত ফ্যাট কোলেষ্ট্রল এর রূপে থাকে না.. সেটি ট্রাইগ্লিসরাইডের রূপে থাকে।  এটিকেই আমরা ফ্যাট বলি। যখন তিনটি ফ্যাটি এ্যাসিড  একত্রিত হয়ে একটি শৃঙ্খলা তৈরি করে, তখন তাকে ট্রাইগ্লিসরাইড বলা হয়।  এর  এক গ্রাম নয় ক্যালোরীর সমান হয়।  শক্তির প্রয়োজন হলে শরীর এই অণুগলিকে ভাঙতে শুরু করে।  এটি তিন ধরণের হতে পারে- স্যাচুরেটেড, মোনো স্যাচুরেটেড এবং পোলি স্যাচুরেটেড ফ্যাট। পোলি স্যাচুরেটেড ফ্যাট থেকে নয় ক্যালোরী পাওয়া যায় এবং স্যাচুরেটেড এবং মোনো স্যাচুরেটেড এর মত এর সাথেও স্থুলতার সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে, যেমন সূর্যমুখী তেল আর সাফোলা।

প্রশ্নঃ  মোনো অ্যানস্যাচুরেটেড ফ্যাট কি?

উত্তরঃ এই ফ্যাট এর ফ্যাটি এ্যাসিডের শৃঙ্খলাতে দুই রকম শৃঙ্খলা দেখা যয়। বলা হয় যে, মোনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট মোটা ব্যক্তিদের  জন্য ভালো ।  কিন্তু এই ভুল বিষয়টি মনে পোষন করবেন না এর এক গ্রাম থেকে নয় ক্যালোরী পাওয়া যায় এবং এটি ধমনীতে বাধার সৃষ্টি করে, যেমন- জলপাইয়ের তেল।

 

প্রশ্নঃ স্যাচুরেটেড ফ্যাট কি ?

উত্তরঃ  এর ফ্যাট এ্যাসিড শৃঙ্খলায় কার্বন অণুর মধ্যে দুই রকম শৃঙ্খলা হয় না।  এটি সাধারণ তাপমাত্রাতেই জমে যায়।  এটাও নয় গ্রাম ক্যালোরী প্রদান করে।   ঘি ডালডা এবং বনস্পতির মত স্যাচুরেটেড ফ্যাটকে  হাইড্রোজেনেটিড ফ্যাট বলা হয়। ডিহাইড্রোজেনেশা স্যাচুরেটেড ফ্যাটকে অ্যানস্যাচুরেটেড ফ্যাট পরিবর্তিত করে।