স্থূলতা মাপার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

অনুসন্ধান

প্রশ্নঃ স্থূলতা মাপার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কি ?

উত্তরঃ আপনি ওজন মাপার মেশিনের সাহায্যে নিজের ওজনের আন্দাজ করতে পারেন.. কিন্ত আপনার ওজন ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং সেটা অত্যান্ত বেশী হয়, তবে আপনার ওজন মাপার অন্য প্রক্রিয়ার দিকেও নজর দেওয়া উচিত।

স্থূলতা বি.এম.আই নামেও পরিচিত। পুরুষদের মধ্যে ত্রিশ বা তার বেশী এবং মহিলাদের মধ্যে আঠাশ দশমিক ছয় বা তার বেশী বি.এম.আই স্থূলতার লক্ষণ হয়।

বি.এম.আই= ওজন (কিলো) উচ্চতা2(মিটার) ।

বডি মাস ইন্ডেক্স( বি. এম.আই) আপনার ওজন এবং উচ্চতার ভিত্তিতে গঠিত সংখ্যাই হচ্ছে বি. এম.আই.।  এটি আপনাকে একটা বিন্দু নির্দিষ্ট করতে সাহায্য করে, যেটা পেরিয়ে গেলে আপনি স্থূলতার দিকে এগিয়ে  যাবেন।  এটা আপনার জন্য এবং আপনার পরিবারের পক্ষে যথেষ্ট গুরুত্ব রাখে.. কারণ এর সাথে হৃদরোগ এবং টাইপ। ডায়াবেটিজ এর গভীর সম্পর্কে বিদ্যমান।  বি. এম.আই. কেও সম্পূর্ণ বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়..কারণ কয়েকজন খেলোয়াড়ের বি.এম. আই বেশী হওয়ার কারণে তাঁদের শরীরে ফ্যাটের পরিবর্তে মাংসপেশী বেশী হতে পারে।

স্বাভাবিক ওজন বাইশ থেকে পঁচিশ

অধিক ওজন ২৫ থেকে ২৯.২৫

স্থূলতা ( গ্রেড- এক)  ৩০ থেকে ৩৪.৯

স্থূলতা (গ্রেড –দুই) ৩৫ থেকে ৩৯.৯

গুরুতর স্থূলতা (গ্রেড-তিন) চল্লিশ বা তার বেশী

 

স্থূলতা মাপার পদ্ধতিঃ

  • শরীরের ওজনঃ যদি কোন পুরুষের ওজন অদর্শ ওজনের থেকে দশ ভাগ (মহিলাদের ক্ষেত্রে পনেরো ভাগ) বেশী হয়, তবে সেটিকে স্থূলতা বলা যেতে পারে।
  • ব্রোকা ইন্ডেক্সঃ উচ্চতা ( সেমি)-100! যদি কোন ব্যক্তির উচ্চতা একশত ষাট সেমি হয়, তবে তার আদর্শ ওজন হবে ষাট কিলো।
  • বি.এম.আই= ওজন (কিলো) উচ্চতা2 (মিটার) ।
  • শরীরের ফ্যাটের মাপঃ ফ্যাট মাপার জন্য ’স্কীনফোল্ড ক্যালিপার্স’ এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  • কোমর এবং নিতেম্বের অনুপাতঃ > .৩৫ (মহিলা) এবং ১.০ (পুরুষ) স্থূলতার সাথে সম্পর্কিত।

প্রশ্নঃ প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উচ্চতা অনুসারে আদর্শ ওজন তালিকা কি ?

উত্তরঃ ভারতীয়দের জন্য জীবন বীমা নিগম তাঁদের আয়ু এবং রোগের ভিত্তিতে একটা তালিকা প্রস্তুত করেছে। পরের পৃষ্ঠায় দেওয়া তালিকার মধ্য দিয়ে লোকদের   আদর্শ ওজন জানা যায়।  মনে রাখবেন, ওজন জানার বয়স নয়.. উচ্চতা জানা প্রয়োজন।

 

 

স্থূলতা নির্ধারণ

আদর্শ উচ্চতা এবং ওজন (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)

উচ্চতা (সেমি) উচ্চতা (ইঞ্চি) আদর্শ ওজন (পুরুষ) আদর্শ ওজন (মহিলা)
145

148

150

152

156

158

160

162

164

166

168

170

172

174

176

178

182

184

4’9”

4’10”

4’ 11”

5’

5’ 1.5”

5’ 2.2”

5’3”

5’ 3.8”

5’ 4.6”

5’ 5.5”

5’ 6.1”

5’ 6.9”

5’ 7.7”

5’ 8.5”

5’ 10”

5’ 10.8”

5’ 11.6”

6’ 4”

 

 

 

 

 

55.8

57.6

58.6

59.6

60.6

61.7

63.5

65.0

66.5

69.4

71.0

72.6

74.2

46

46.5

47.0

48.5

49.5

50.4

51.3

52.6

54.0

55.4

56.8

58.1

60.0

61.3

64.0

65.3

 

 

প্রশ্নঃ বি.এম. আই এবং উচ্চতা/ওজন তালিকার মধ্যে পার্থক্য কি ?

উত্তরঃ এই দুটির পার্থক্য নীচে দেওয়া হলঃ ওজন/উচ্চতার তালিকা প্রত্যেক উচ্চতার জন্য আদর্শ ওজন প্রকাশ করে। বি এম.আই. এর সাহায্যে আপনার স্থূলতা কোন গ্রেডের, আপনি সেটা জানতে পারবেন।

  • বি.এম.আই এর তালিকার সাহায্যে রোগ সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না, কিন্তু বি.এম.আই বেশী হলে কিছু রোগের সম্ভাবনা দেখা যায়।
  • চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ স্বাস্থের ওপর ওজনের প্রভাব জানার জন্য বি. এম.আই. চার্ট একই হয়.. কিন্তু উচ্চতা/ওজন তালিকা পুরুষ এবং মহিলাদের আলাদা হয়।

প্রশ্নঃ এর সাহায্যে নিতম্বের এবং কোমরের আশপাশে জমা ফ্যাট সম্পর্কে জানা যায়। এটি একটি সহজ এবং উপযুক্ত পদ্ধতি। বেশীর ভাগ ব্যক্তিদের শরীরের দুটি স্থানে ফ্যাট জমা হয়- মধ্যবর্তী স্থানে ( আপেল আকৃতির) আর নিতম্বের আশপাশে ( নাশপাতি আকৃতির)

 

প্রশ্নঃ কোমর-নিতম্বের অনুপাত কি ভাবে মাপবেন ?

উত্তরঃ  কোমরের  মাপ এবং নিতম্বের মাপ ভাগ করে কোমর-নিতম্বের অনুপাত জানতে পারবেন।  মহিলাদের এবং পুরুষদের জন্য আদর্শ কোমর- নিতম্বের অনুপাতঃ

মহিলা- ০.৮ বা তার থেকে কম

পুরুষ- ০.৯৫ বা তার থেকে কম

 

প্রশ্নঃ স্থূলতার  জন্য মাসিক ধর্মে কোন অনিয়মিয়তার সৃষ্টি হতে পারে ?

উত্তরঃ হ্যাঁ..স্থূলতার কারণে মহিলাদের মাসিক ধর্মে অনিয়মিয়তার সৃষ্টি হতে পারে।

 

প্রশ্নঃ লাইপোলিসিস কাকে বলে ?

উত্তরঃ ‘লিপিড’হল ফ্যাট। লাইপোলিসিসের সাহায্যে এটি শরীরে ভাঙ্গে.. ফলে এর থেকে নয় ক্যালোরী গ্রহণ করে ফেলি, তখন সেটা ফ্যাটে পরিবর্তিত হয়। কার্বোহাইড্রেট মধ্যস্থ গ্লুকোজের ফ্যাটি  এ্যাসিডে পরিবর্তনকেই লাইপোজেনেসিস বলা হয়ে থাকে।

 

প্রশ্নঃ থার্মোনেনেসিস কাকে বলে ?

উত্তরঃ এই প্রক্রিয়া শরীরের মেটাবোলিক হার বৃদ্ধি করে শক্তি প্রদান করে থাকে। মেটাবোলিক হারের বৃদ্ধকেই থার্মোজেনেসিস প্রভাব বলা হয়। একে থার্মোজেনিক রোমগ্রন্থি  এবং ‍SDA )(Specific Dynamic Action) ও বলা হয়।   একে ব্যায়াম বা পুষ্টি দ্বারা সক্রিয় করা যেতে পারে।   পুষ্টিকর সক্রিয় তত্ত্বের স্থূল  পুষ্টি এর  ওপর প্রভাব সৃষ্টি করে।  আপনি যখন খাবার খান, তখন আপনার মেটাবোলিক হার ফাষ্টিং স্তরের ওপরে উঠে যায়।  প্রোটিন খাদ্য গ্রহণ করলে শক্তি সেটিকেই কাজে লাগাবার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং এতে কোষ পুষ্টি পায় আর তার ক্ষত ঠিক হয়।  অন্য দিকেব ফ্যাট এবং কার্বোহাইড্রেড শরীরে ইঞ্জিনের কাজ করে, কিন্তু  এর থার্মোজেনিক প্রভাব প্রোটিনের থেকে সামান্য কম হয়।

 

প্রশ্নঃ বডি ফ্যাট এ্যানালাইজার বলতে কি বোঝায় ?

উত্তরঃ  এই মেশিনের সাহায্যে শরীরের ফ্যাট মাপা যায়। একই সাথে আপনি নিজের ওজনও জানতে পারেন। আসুন দেখা যাক, এটি কি ভাবে কাজ করেঃ  যখন আপনি মেশিনে নিজের বয়স, উচ্চতা এবং লিঙ্গ সম্পর্কে তথ্য জানিয়ে দেবেন, তখন তার থেকে নির্গত তরঙ্গ আপনার শরীরে কতটা জল, মাংসপেশী এবং সূক্ষ্ম কোষ আছে, সেটা মেপে নেয়।  আপনার ওজন এবং সূক্ষ্ম কোষের মাত্রার মধ্যে যে পার্থক্য থাকে, সেটাই হল ফ্যাট।  এর সাহায্যে তথ্য জানিয়ে দেবেন, তখন তার থেকে নির্গত তরঙ্গ আপনার শরীরে কতটা জল, মাংসপেশী এবং সূক্ষ্ম কোষ আছে, সেটা মেপে নেয়। আপনার ওজন এবং সূক্ষ্ম কোষের মাত্রার মধ্যে যে পার্থক্য থাকে, সেটাই হল ফ্যাট। এর সাহায্যে আপনার শরীরের কত শতাংশ ফ্যাট সেটা জানতে পারবেন। স্ক্রীনের কার্সার থেকে আপনি তার সাহায্যে পরিমাণ জানতে পারেন। যে সমস্ত ব্যক্তিদের বুকে পেসমেকার আছে, তাঁদের এই মেশিনে ব্যবহার করা ‍উচিত নয়।

 

প্রশ্নঃ ডায়টিং করাকালীন ওজন মাপার আদর্শ সময় কোনটা ?

উত্তরঃ  যদি আপনি নিজের ওজন মাপতে চান, তবে তার জন্য সকালবেলাই হচ্ছে আদর্শ সময়.. কারণ বেলা বাড়ার সাথে-সাথে আপনার ওজনও কয়েকবার মাপুন.. এটাকে দৈনিক চর্চায় অর্ন্তভুক্ত করবেন না।