Posted on

ক্যালসিয়াম দেহের জরুরি উপাদান

ক্যালসিয়াম দেহের জরুরি উপাদান

দেহের জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। অন্যান্য খনিজ পদার্থ থেকে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেশি। দেহে শতকরা ৯০ -৯৯ ভাগ ক্যালসিয়াম থাকে হাড়ে ও দাঁতে। ক্যালসিয়াম ফসফরাসের সাথে মিলে এই সমস্ত কঠিন তন্তুর কাঠিন্য প্রদান করে। ক্যালসিয়ামের বাকি অংশটুকি শরীরের সমস্ত কোষের ক্রিয়াকলাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। আজকাল অনেক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ বা গর্ববতী মহিলারা ক্যালসিয়াম বা ক্যালাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে মনোযোগী হয়ে উঠছে। যে কোন মাছের কাটা বা নরম হাড় চিবিয়ে রস খাওয়ার মাধ্যমে অতি সহজে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের সবচেয়ে বেশি প্রায় ১৫০০-২০০০ মি. গ্রা। শিশুদের দৈনিক ১০০০ – ১৪০০ মিঃ প্রাঃ এবং প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের  ৮০০- ১০০০ মিঃ গ্রাঃ। দৈনিক আমাদের প্রচুর ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত।

ক্যালষিয়ামের প্রধান উৎসা হল দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য যেমন- দই, ছানা, পণির,  মাখন, ক্ষির  ইত্যাদি। এক গ্লাস পরিপূর্ণ দুধের মধ্যে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় ২৯০ মিঃ গ্রাঃ। চর্বিযুক্ত এবং সর উঠানো দুধে ক্যালসিয়াম সামান্য পরিমাণ বেশি থাকে। দুধে অনেক ভিটামিন এবং উৎকৃষ্ট মানের প্রোটিন থাকে যা ক্যালসিয়ামকে অঙ্গীভূত করতে সাহায্য করে। কোন যুবক ও যুবতী দৈনি তিন গ্লাস দুধ  এবং তার সাথে পনির ও দধি নাস্তা করলে তার প্লোটিগনসহ ক্যালসিয়ামের অন্যান্য উৎসের মধ্যে কাটাসহ ছোটমাছ, ডিমের কুসুম, শিমের বিচি, সবুজ শাক সবজি, লালশাক, পালংশাক, পুইশাক, কচুশাক, ঢেড়শ ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে। আমাদের দেহে ক্যালসিয়াম তৈরি হয় না, অবশ্যই খাবারের মাধ্যমে এর চাহিদা পূরণ করতে হয়। ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের দাত ও হাড়ের সুষ্ঠুভাবে গঠন হয় না। যার ফলে শরীরের শক্তি হয় না। ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের দাঁত ও হাড়ের সুষ্ঠুভাবে গঠন  হয় না। যার ফলে শরীরের শক্তি হয় না। ক্যালসিয়াম স্বল্পতায় শিশুদের হাড়ে এবং পায়ের সুষ্ঠুভাবে গঠন হয় না। যার ফলে শরীরের শক্তি হয় না। ক্যালসিয়াম স্বর্পতায় শিশুদের হাড়ে এবং পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা হয়ে থাকে। ক্যালসিয়ামের অভাব হলে শিশুদের দৈহিক গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হাটাও বিলম্ব হয়। ক্যালসিয়ারেম সাথে ভিটামিন ডি এর অভাব হলে শিশুদের দৈহিক গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হাটাও বিলশ্ব হয়। ক্যালসিয়ামের সাথে ভিটামিন ডি এর অভাব হলে শিশুদের রিকটস রোগ হয় যা পরবর্তীতে শিশু পঙ্গুত্বের অভিশাপ বরণ করে। চল্লিশোর্ধ বয়সে বা রজ নিবৃত্তির পর মহিলাদের ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেড়ে যায়।   এ সময় ক্যালসিয়ামের অভাব হলে অস্টিও পোরোসিস বা হাড় ভঙ্গুর রোগের প্রবণতা বাড়ে অর্থ্যাৎ অল্প আঘাতেই হাড়ে ভেঙ্গে যায়। এ জন্য বয়স্ক মহিলাদের ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অত্যান্ত জরুরী। গর্ভকালীন সময়ে এবং প্রসূতি মায়েদের  অনেক ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম এর ট্যাবলেট খাওয়া প্রয়োজন, কারণ খাবার দ্বারা অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের চাহিদা পুরণ নাও হতে পারে। ক্যালষিয়ামের অভাবে গা, হাত, পায়ে জ্বালা যন্ত্রণা করতে পারে। দেহের বিভিন্ন শিরা উপশিরা পুরু হয়। এ সময় ক্যালসিয়ামের অভাবে মা ও শিশু দুজনেই শারীরিক সমস্যা হয়্ ক্যালসিয়ামের সাহায্যে দাত ও  হাড়ের সুগঠন ছাড়াও আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে তা হৃৎপিন্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন রক্ষা করা, রক্ত জমাট বাধায় সাহায্য করা ও হরমোন প্রক্রিয়া এবং মস্তিষ্কের চোখের কানের প্রক্রিয়ায় ক্যালসিয়ামের ভূমিকা রয়েছে। মাংস পেশির সংকোচনে ক্যালসিয়ামের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কোষ বিভাজনে এবং রক্ত তৈরি তৈরিতে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার বাদ না পড়ে  এবং খাবারের মাধ্যমেই যেন ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ হয়।

 

ডাঃ জোৎস্না মাহবুব খান

মুক্তগাছা, ময়মনসিংহ।