Posted on

খাদ্য গ্রহণে মানসিক সমস্যা

খাদ্য গ্রহণে মানসিক সমস্যা

 

সুস্থ শরীরে সুস্থ সতেজ মনের বসাবাস। কারন সুস্থতাই সকল প্রকার সুখের  মূল চাবিকাঠি। সুস্থ ব্যক্তি খুব কম ক্ষেত্রেই হতাশায় ভুগে থাকেন। তাদের কর্ম উদ্দীপনাও দারুন, চমৎকার। তারা চায় নিজেকে প্রতিষ্টিত  করতে সমাজের বুকে। তাই জীবন সংগ্রামে তারা বীর সৈনিকের মতো নানা প্রকার প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সামনের দিকে এগিয়ে চলেন সাফল্যের চূড়ায় আহরোন করতে। এখন আমরা আলোচনা করবো অতি খাদ্য গ্রহণজনিত মানসিক রোগ বুলিমিয়া নার্ভোসা সম্পর্কে। খাদ্যজনিত নানা প্রকার  মানসিক সমস্যাকে খাদ্য সংক্রান্ত মানসিক সমস্যা বলে। দুই প্রকার খাদ্য সংক্রান্ত মানসিক সমস্রা রয়েছে। যেমন- ১) অ্যানেরোক্সিয়া নার্ভোসা ও বুলিমিয়া নার্ভোসা।

খাদ্য গ্রহণে মানসিক সমস্যা
খাদ্য গ্রহণে মানসিক সমস্যা

অনিয়ন্ত্রিত, বাধ্যতামুলক এবং বা বার বেশি পরিমা খাবার অল্প সময়ের ব্যবধানে  খাওয়া ও তারপর নিজ থেকে বমি করা, পায়খানা হওয়ার জন্য লাক্সটিভ (জোলাপ) ব্যবহার করা অথবা অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকা ও বেশি পরিমাণে ব্যায়াম করে ওজন বৃদ্ধি প্রতিরোধ করাকেই বুলিমিয়া নার্ভোসা বা বেশি খাওয়ার রোগ বরে। চিকিৎসা বিজ্ঞানী রাসেল ১৯৭৯ সালে এই বুলিমিয়া রোগের বিস্তারিত ব্যখা প্রদান করেছেন। এই ব্যাধিটিকে ব্রিঞ্জ  ইটিংও বলা হয়।

বুলিমিয়া নার্ভোসা রোগের কারণঃ ওজন বৃদ্ধি এবং শারীরিক নানা পরিবর্তন স্বত্তেও খাদ্যেরর প্রতি আর্কষণ বুলিমিয়া নার্ভোসা রোগের প্রধান কারণ। এছাড়া মেটাবলিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সেরোটনিন এর তৎপরতা হ্রাস পায়। কিন্তু যেসব বুলেমিক রোগী বমি করে তাদের রক্তরসে এর মাত্রা বেড়ে যায়। অনেকেই বিষণ্নতায় ভোগেন এবং পরিবারে বিষণ্নতাজনিত রোগীর ইতিহাস পাওয়া যায়। অ্যালকোহলজনিত কারণেও এ রোগ দেখা দিয়ে থাকে। অনেকে আবার বিষণ্নতা দূর করার জন্য বেশি বেশি ঘন ঘন খাওয়ার মাধ্যমে শান্তি খুজে পেতে চেষ্টা করেন।

লক্ষণঃ ব্যাপক হারে খাদ্যেভ্যাস এবং অস্বাভাবিকভাবে শরীরের ওজন বৃদ্ধি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, রোগী প্রতি দুই ঘন্টা অন্তর ক্ষুদার্থ হয়ে উঠছে এবং প্রতি দুই ঘন্টা অন্তর ক্ষুধার্ত হয়ে উঠছে এবং পর্যায়ক্রমে প্রচুর খাদ্যাভাস্যের দ্বারা তার খাদ্যের পূর্ণতা ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি এবং অধিক স্থূলতা সমস্যা, অধিক মাত্রায় পর্যাপ্ত খাদ্যভ্যাস আবার অপুষ্টির সৃষ্টি করতে পারে। যাতে করে শরীরের নানা প্রকার অসুখ বিসুখের সৃষ্টি হয়।

প্রতিক্রিয়াঃ বমি ও জোলাপ ব্যবহারের ফলে রক্তে পটাশিয়ামের পরিমাণ কমে যায়, ফলে কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং রোগীর দাঁতের উজ্জ্বল চকচকে অ্যানামেল ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

চিকিৎসাঃ রোগটা প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রনিক (দীর্ঘস্থায়ী) হয়ে যায়। অ্যান্টিডিপ্রেশান্টস জাতীয় ওষুধ চিকিৎসকের নির্দেশিত ধৈর্য সহকারে খেয়ে যেতে হবে। এছাড়া সাইকোথেরাপি, বিহেভিয়ার থেরাপি এবং গ্রুপ থেরাপি কার্যকরী থেরাপিউটিক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ডাঃ গৌতম কুমার দাস

ফরিদুপুর