Posted on

ফিস্টুলা প্রতিরোধে করণীয়

ফিস্টুলা প্রতিরোধে করণীয়

 

পায়ু পথের সঙ্গে চামড়ার অস্বাভাবিক সংযোগই হচ্ছে ফিস্টুলা বা ভগন্দর। এই ফিস্টুলা হওয়ার আগে রোগীর মলদ্বারের আশেপাশে প্রথমে ফোড়া হয়। এই ফোড়া অযত্ন অবহেলায় নিজে নিজেই ফেটে যেতে পারে কিংবা অধিকহারে পুজ বের হওয়ার দারুন ফোড়া বৃদ্ধি পেয়ে মলদ্বারের ভেতর ও বাইরের মধ্যে অস্বাভাবিক সংযোগ স্থাপন করে। এমতাবস্থায় মাঝে মধ্যেই বাইরের মুখ ক্ষণস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গিয়ে ‍পুজ বা কষ ঝরতে থাকে। এবং কিছুটা ফুলে যায়। ফলে রোগীর মলদ্বারের ব্যথা ও হালকা জ্বর হয়। বন্ধ মুখ খুলে গিয়ে পুজ/কষ বের হয়ে গেলে রোগী আরামবোধ করে। কিন্তু কিছুদিন পর আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং ভিতর বা বাইরে একাধিক  মুখের সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ রোগের একমাত্র সমাধান শৈল্য চিকিৎসা বা সার্জারি।

ফিস্টুলা প্রধানত

২ প্রকার-১। এনাল স্ফিংকটারের নিচে ফিস্টুলার ভিতরের মুখের অবস্থান হলে তাকে নিচ বা লো ফিস্টুলা এবং ২। স্ফিংকটারের ওপর অবস্থান হলে তাকে ওপর বা হাই ফিস্টুলা বলে। ভেতরের মুখ যত ওপরে থাকে তার চিকিৎসা পদ্ধতি তত জটিল ও কষ্টসাধ্য।

রোগ নির্নয়ঃ

রোগীর ইতিহাস শুনে ফিস্টুলার প্রকারভেদ সম্পর্কে ধারণা করা যায়। যেমন- ওপর প্রকার ফিস্টুলা হলে মাঝে মাঝে মল বা বায়ু আসতে পারে। পরীক্ষা করলে ভেতর ও বাইরের মুখ আঙুলি দিয়ে অনুভব করা যায় এবং অস্বাভাবিক সংযোগটি শক্ত রেখার মতো অনুভূত হবে। ফিস্টুলোগ্রাম করে সংযোগটি বোঝা যায় এবং এন্ডোরেকট্যাল আলট্রাসাউন্ড করলে প্রকারভেদ স্পষ্ট বোঝা যায়।

চিকিৎসাঃ

সার্জারিই ফিস্টুলার একমাত্র চিকিৎসা। অপারেশনের মাধ্যমে অস্বাভাবিক সংযোগটি সম্পূণর্ভাবে তুলে আনতে হয়। যদি কোন অংশ থেকে যায় তবে পুনরায় রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি জটিল আকারও ধারণ করতে পারে। যেহেতু ওপর/হাই প্রকার ফিস্টুলার চিকিৎসা একটু জটিল তাই এক্ষেত্রে ফিস্টুলেকটমি ও সেটন ব্যবহার করা হয়। হাই ফিস্টুলার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ফিস্টুলার সংযোগ কেটে আনতে গেলে রোগীর এনাল স্ফিংকটার ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং মল ঝরবে।  তাই এক্ষেত্রে সেটন ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতির ফলাফল অত্যান্ত সন্তোষজনক। যেসব ক্ষেত্রে ফিস্টুলেকট ও সেটন ব্যবহার করা সম্ভব নয়। , সেসব ক্ষেত্রে এন্ডোরেকটার এডভান্সমেন্ট ফ্লাপ ব্যবহার করা হয়। উন্নত বিশ্বে এই পদ্ধতি বহুল প্রচলিত ও জনপ্রিয়। বাংলাদেশকেও আমরা এখন এই পদ্ধতির চিকিৎসা সুনামের সঙ্গে করছি।

অধ্যাপক ডাঃ  এ হাসেম ভুঞা

জেনারেল ও কালোরেক্টাল সার্জন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল