Posted on

মহিলাদের পুরুষালী সমস্যা

মহিলাদের পুরুষালী সমস্যা

 

মহিলাদের কখনও কোনো কারণে যদি কিছু পুরুষালী লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না সত্যি এটা বিব্রতকর অবস্থা। অনেক লজ্জায় এ ব্যাপারে কিছু না বলে রোগ  গোপনে পুষে মানসিক যন্ত্রণায় পীড়িত হতে থাকেন। কিন্তু এটি ঠিক নয়। এজন্য সঠিক জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রয়েছে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবশ্যকতা।

এমন কিচু কারণ আছে যা দেখা দিলে আমরা পুরুষালী লক্ষণ বলে মনে করে থাকি। যেমন পুরুষের মতো গোঁফ, দাড়ি দেখা দেয় বস্তিপ্রদেশে চর্বি কমে যায়, ব্রেস্টের আকার ছোট হয়ে যায়। মাসিক অনিয়মিত বা বন্ধ হয়ে যায়, গলার স্বর ভারি হয়, ভগাঙ্কুরে আকৃতি বৃদ্ধি পায়, সুক্ষ ব্রণ ওঠে ও মুখ তৈলাক্ত হয়। কপালের সামনে ও ভগাঙ্কুরে আকৃতি বৃদ্ধি পায়, সুক্ষ ব্রণ ওঠে ও মুখ তৈলাক্ত হয়। কপালের সামনে ও প্রান্তদেশে চুল উঠে খালি হয়ে যায়, দেহের ঐচ্ছিক মাংসপেশী বৃদ্ধি পায়, যৌনকাঙ্খা বেড়ে  যায়, শরীরে দুর্গন্ধযুক্ত ঘামের সৃষ্টি হয় ইত্যাদি। মহিলাদের পুরুষালী স্বভাবের ন্যায় লক্ষণগুলো দেখা দেয়ার পেছনে যে জিনিস কাজ করে থাকে তা হলো- কোনো কারণে রক্তে পুরুষ সেক্স হরমোন টেস্টস্টোরণসহ অন্যান্য পুং হরমোনর অতিরিক্ত মাত্রা বৃদ্ধি। যত বেমি পরিমাণে পুরুষ সেক্স হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে, ততো অধিকভাবে পুরুষালী লক্ষণগুলো প্রকাশ পাবে। মহিলাদের রক্তেও চার ধরনের হরমোন রয়েছে, ডাইহাড্রো, এপিএএন্ডসটেরণ এবং এর সালফেট যৌগ,এনড্রোসটেনিডিক্ত, এবং টেস্টস্টোরেণ। শতকরা ৫০ ভাগ টেস্টস্টোরেণ ডিম্বাশয় এবং এড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসরিত হয়ে থাকে। বাকি ৫০ ভাগ লিভার ফ্যাট এবং ত্বকে উপস্থিত উপরোক্ত হরমোনগুলোর পুর্ব অবস্থা থেকে বিপাকীয় পর্যায়  থেকে উৎপাদিত হয়ে থাকে। লিভার হচ্ছে টেস্টস্টোরেণ হরমোন বিপাক প্রক্রিয়ার প্রধান অতিরিক্ত টেস্টস্টোরেণ চলে আসে।

মহিলাদের পুরুষালী সমস্যা
মহিলাদের পুরুষালী সমস্যা

পরবর্তীতে দেখা যায়, চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত হরমোনের বিপাক ক্রিয়া সংঘটিত হচ্ছে। পরিমাণে মোটা লোমের জন্ম নিচ্ছে। পুরুষালী লক্ষণগুলোর মাত্রা নির্ভর করলে যে পুরুষ সেক্স হরমোন কতোদিন থেকে এবং কি পরিমাণ অতিরিক্ত নিঃসরিত হচ্ছে তার ওপর। যদিও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পুরুষ সেক্স হরমোন টেস্টস্টোরেনের কারণেও হতে পারে। অন্যদিকে অত্যাধিক মাত্রায় টেস্টস্টোরেন নিঃসরনের পরেও পুরুষালী লক্ষণ তেমন নাও দেখা দিতে পারে। যদি কোনো মহিলার দেহে অবাঞ্চিত লোমের প্রকোপের সাথে মাসিক অল্প হওয়ার লক্ষণ থাকে তাহলে বুঝতে হবে যে পুরুষ সেক্স হরমোন বেড়ে অতিরিক্ত নিঃসরিত হচ্ছে। তাই কোনো মহিলার অবাঞ্চিত লোমের সমস্যা থাকলে ভালোভাবে রোগের ইতিহাস জানতে হবে বিশেষ করে কবে কখন প্রথম মাসিক শুরু হয়েছিল, পূর্বে ও বর্তমানে মাসিক চক্রেও ধরণ ও সমস্যা রয়েছে কিনা ইত্যাদি শারীরিক পরীক্ষা করাতে হবে বিভিন্ন ধরনের পুরুষালী লক্ষণগুলো সনাক্ত করার জন্য। আমাদেরও দেহের কিডনির ওপর বাদামীকৃতির দুটো গ্রন্থি রয়েছে, যাকে কিনা এড্রিনাল গ্লান্ড বা গ্রন্থি বলা হয়ে থাকে। এই গ্রন্থিতে যদি টিউমার হয় তাহলে গ্রন্থির কার্যকারিতা ও নিঃসরণ বেড়ে যাবে অনেক সময় বাচ্চাদেরও জন্মগতভাবে এড্রিনালগ্রন্থি অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সেটা এনজাইম সমস্যার জন্য হতে পারে, এড্রিনালগ্রন্থিও আংশিক এনজাইম স্বল্পতার লক্ষণ বয়োঃবৃদ্ধির পরেও দেখা দিতে পারে। তখন মহিলাদের অবাঞ্চিত লোমের সাথে মাসিক কম হওয়া জনিত সমস্যা  দেখা দিতে পারে, কিন্তু পুরুষালী লক্ষণ দেখা দিবে। এড্রিনালগ্রন্থিও অতিরিক্ত বৃদ্ধি দেরিতে যাদের দেখা দেবে তাদের বেলায়ও শতকরা ২৫ ভাগ মহিলার অবাঞ্চিত লোম সমস্যা ও মাসিক কম হওয়া সমস্যা দেখা দেবে হঠ্যাৎ করেও যদি অবাঞ্চিত লোম ও পুরুষালী লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে এড্রিনালগ্রন্থি অথবা ডিম্বাশয়ে টিউমার হয়েছে বলে ধারণা করতে হবে। যদি এড্রিনালগ্রন্থিতে ক্যান্সার জাতীয় টিউমার হয় তাহলে পুরুষালী লক্ষণ দেখা দেয়, এড্রিনালগ্রন্থি অথবা ডিম্বশয়ে টিউমার হয়েছে বলে ধারণা করতে হবে। যদিও এড্রিনাল গ্রন্থি ক্যান্সার জাতীয় টিউমার হয় তাহলে পুরুষালী লক্ষণেল সাথে রক্তে ডিএইচএ এবং প্রস্রাবে ১৭ কিকোস্টরয়েড মাত্রা বেড়ে যাবে। এক্ষেত্রে টিউমারে ধরণ বোঝার জন্য সিটিস্ক্যানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

অন্যদিকে যদি ওভারী বা ডিম্বাশয়ে টিউমার হয় তাহলে ডিএইচএ  এবং কিটোস্টেরয়েড মাত্রা স্বাভাবিক থাকবে। তবে ডিম্বাশয় থেকে পুং সেক্স হরমোন অতিরিক্ত নিঃসরণ হয় তাহলে এর প্রধান কারণ হচ্ছে ওভারীকে অনেকগুলো সিষ্ট হয়েছে অথবা গ্রন্থিও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেয়েছে বুঝাতে হবে। এক্ষেত্রে পুরুষারী লক্ষণ কমই দেখা যাবে বরং অবাঞ্চিত লোমের সমস্যা হিসাবে প্রকাশ পাবে। এক্ষেত্রে আরো দুটো হরমোন এফএসএইচ মাত্রা কমে যাবে এবং এলএইচ মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।

চিকিৎসাঃ  এড্রিনাল গ্রন্থির কারণে যে পুরুষালী লক্ষণের সমস্যা দেখা দিতে পারে তার চিকিৎসা নির্ভর করে গ্রন্থি সমস্যার প্রকারের ওপর। যে সকল রোগীর এড্রিনাল গ্রন্থি অতিরিক্ত বৃদ্ধি বা হাইপার প্লাসিয়া রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রক্তে কর্টিসেল হরমোনের মাত্রা এবং ফলশ্রুতিতে ACTH হরমোনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। এদের জন্য গ্লুকোকরটিকয়েড ওষুধ প্রতিদিন ব্যবহার করতে হবে, যাতে ACTH এর মাত্রা কমে যায়। তাই প্রেডনিসোলোন ওষুধ হচ্ছে আদর্শ। বাচ্চদের ক্ষেত্রে অবশ্য হাইড্রোকট্রিসন ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে ওষুধ ব্যবহারকালীন দৈহিক বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান করা উচিত। কারণ অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহার দৈহিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সমস্যা করতে পারে।

 

ডা. এম ফেরদৌস

সহযোগী অধ্যাপক, কুমুদিনি উইমেন্স মেডিকেল কলেজ

নাজ ই নূর হাসপাতাল