Posted on

মাংসে রোগের বংশ বাড়ে

মাংসে রোগের বংশ বাড়ে

 

অষ্ট্রিয়ার Arnold Lorand তাঁর Old Age Deferred গ্রন্থে পুরো একটি অধ্যায় জুড়ে অতিরিক্ত মাংসারের বিপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। অতিরিক্ত মাংসাহার সম্পর্কে তিনি যে সব মন্তব্য করেছেন এবং অন্যান্য গবেষকদের যে সব মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন সেগুলো এক জায়গায় করলে জানা যায়ঃ

  • মাত্রাধিক মাংসাহারে শরীরে টক্সিন বা অধিবিষের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিশেষ করে লিভার, কিডনি, প্যানক্রিয়াস প্রভৃতি জরুরী প্রাণরক্ষক অঙ্গগুলি ক্ষতি হয় থাইরয়েড গ্রন্থির, সৃষ্টি হয় বাত, আরথ্রাইটিস ও
  • অধিক মাংসাহার প্রায়ই ক্যাসারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
  • অতিরিক্ত মাংসাহার কখনও কখনও ডায়াবেটিস ডেকে আনে। তাছাড়া ডায়াবেটিক রোগী বেশী মাংস খাওয়া শুরু করলে রোগের তীব্রতাও বেড়ে যায়।
  • অত্যাধিক মাংসাহার রক্ত – ঘনত্ব বাড়িয়ে দিয়ে রক্ত চালাচল বিঘ্নিত করে। তাছাড়া এর ফলে শরীরে এত অম্লের সৃষ্টি হয় যে তার প্রভাব কিছুটা সামলাতে হলে খেতে হয় প্রচুর ফল ও সবজি।
  • মাংসাহার অন্ত্রের এর সহায়ক নয় বলে মাংসাহারীদের ক্ষেত্রে কোষ্ঠবদ্ধতা অনিবার্য হয়ে পড়ে। এবং এই কৌষ্ঠবদ্ধতার জন্য যে টক্সিন শরীরে জমে সেটা কিডনিকেও বিব্রত করে।
  • দীর্ঘকাল অত্যাধিক মাংসাহারের ফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তির স্নায়বিক বিশৃঙ্খলা দেখা যায়।
  • নিরামিষ আহারীদের তুলনায় দেখা গেছে মাংসাহারীদের মধ্যে নিউয়াসথেনিয়া এবং হিস্ট্রিরিয়া রোগের সংখ্যা বেশি। তাছাড়া নানরকম স্নায়ুবিক বিকারে মাংস বর্জন করিয়ে দেখা গেছে রোগীর অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
  • যাঁরা লিভারের রোগে ভুগছেন মাংসাহারে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয় কিন্তু মাংস ছেড়ে দিলে অবস্থা অনেক আয়ত্তে আসে।

 

১০০বা ততোধিক আয়ু যাঁরা পেয়েছেন এরকম মানুষের আহার্যের খবর নিয়ে দেখা গেছে যে এঁদের মধ্যে অতিরিক্ত মাংসাহারী নেই বললেই চলে। বেশিরভাগই একেবারেই মাংস খান না; আর অনেকে আছেন যাঁরা বয়স বাড়তেই মাংসাহার ছেড়ে দিয়েছেন।

 

মাছ – মাংস খেতে হবে কি ?

খেলে কতটা ?

মাছ, মাংস, দুধ প্রভৃতি প্রাণিজ প্রোটিন পুরোপুরি পরিহার করলে পাঁচ হইতে দশ বছরের মধ্যে আপনার  শরীরের ভিটামিন বি ১২ এ অনেক বেশি যোগান শরীর পাবে। কেননা যদিও এই ভিটামিন শুধুমাত্র প্রাণিজ প্রোটিনেই পাওয়া যায় তবু শরীরে এর প্রয়োজনীয়তা খুবই সামান্য – প্রত্যহ এক গ্রামের দশ লক্ষ্য ভাগের একভাগ।

প্রায় 80 বছর আগে 1908 সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে আমেরিকার ছাত্রদের উপর এমন কি সৈন্যদের উপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে প্রত্যহ 3h গ্রাম মাছ/মাংস খাওয়াই যথেষ্ট।  এই অল্প পরিমাণ প্রাণিজ প্রোটিনেও ব্যক্তির কর্মকুশলতা ও শক্তির কোনো অভাব হয় না।

কিন্তু অভাব না হলে কি হবে ?  শুধু আমেরিকা কেন সব উন্নত দেশেই অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়াটা এমন একটা স্বভাবে দাঁড়িয়ে গেছে।

আহার্যে প্রোটিনের এই ভয়াবহ আধিক্য লক্ষ্য করে, প্রিটিকিন জনপ্রতি মাছ/মাংস গ্রহণের দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্রা  98গ্রামে সীমিত রাখবার নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে এ ব্যপারে আমরা ভারতবাসীরা কিছুটা নিশ্চিন্ত, বিশেষ করে যারা নিম্ন মধ্যবিত্ত Indian Council of Medical Research তাঁদের গবেষণার ভিত্তিতে মাছ/মাংস সুপারিশ করেছেন জনপ্রতি প্রত্যহ ত্রিশ গ্রাম। এ জন্য ভারতবর্ষে প্রিটিকিন আহারীর পক্ষে মাছ/মাংস প্রত্যহ ত্রিশ থেকে আটানব্বই গ্রামের সঙ্গেই সীমিত রাখা উচিত। সত্যি বলতে  সাধারণত ত্রিশ গ্রামের বেশি মাছ – মাংসের ক্রমবর্ধমান অগ্নিমূল্য তাই আমাদের কাছে অভিশাপের বেশে আশীর্বাদ।

প্রসঙ্গত, পশুমাংসের চেয়ে মুরগি প্রভৃতি পাখীর মাংস খাওয়া অনেক নিরাপদ কেননা তাতে ফ্যাট কম, কোলেসটেরল কম।  অবশ্য পাখীর মাংসের চেয়ে আরো বেশি নিরাপদ হল ছোট মাছ বা lean fish খাওয়া।

 

বিভিন্ন প্রাণীর মাংসের প্রধান পুষ্টি –উপাদান

(প্রতি 100 গ্রাম ওজনে উপস্থিত ফ্যাট – এর ক্রমানুসারে) (গ্রাম হিসাবে)

ক্যালরি               প্রোটিন                            ফ্যাট

মুরগি                  ১০৯                  ২৫.৯                             ০.৬

কচ্চপ                 ৯৩                    ১৫.০                             ১.২

গরু                    ১১৪                   ২২.৬                             ২.৬

ছাগল                 ১১৮                   ২১.৪                             ৩.৬

শূকর                  ১১৪                   ১৮.৭                             ৪.৪

ভেড়া                  ১৯৪                  ১৮.৫                             ১৩.৫