Posted on

মেয়েদের সাদাস্রাব

মেয়েদের সাদাস্রাব

 

সাধারণ কথায় লিউকোমিয়া বলতে বুঝায় যোনির অতিরিক্ত স্বাভাবিক সাদাস্রাব। সব মেয়েরই কম বেশি সাদাস্রাব থাকে। এই সাদাস্রাবে কোন রক্ত মিশ্রিত থাকবে না,  প্রদাহজনিত কারণে কোন প্রকার দুর্গন্ধ থাকবে না, যোনিপথে বা যোনির মুখে কোন প্রকার চুলকানি থাকবে না। কারও কারও ক্ষেত্রে এই সাদাস্রাবের জন্য কাপড় বা আন্ডার গার্মেন্টস ভিজা থাকে এবং শুকালে এক ধরনের হলদেটে বা বাদামী দাগ লেগে থাকে। সব সময় ভিজা ভিজা ভাব লাগলে অস্বস্তিবোধ করেন। লিউকোরিয়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কেনা দরকার নেই। এটা স্রাব স্বাভাবিক, কোন প্রকার রোগজনিত কারন থেকে এটা হয় না বা এটা কোন জটিল সমস্যা নয়। নারী জীবনের কোনও না কোন সময় অর্থ্যাৎ বয়সরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সাদাস্রাবের সমস্যা হতেই পারে। ১৪-৪৫ বছর বয়সী স্ত্রী লোকের শরীরে স্ত্রী হরমোন বেশি থাকে সেজন্য যোনি কোষস্তর মোটা থাকে। যোনিতে ব্যাসিলাই নামক এক ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে। এরা যোনির মৃত কোষের ভেতর গ্লাইকোজেনকে ল্যাকটিক এসিডে রূপান্তরিত করে। এই ল্যাকটিক  এসিড যোনি পথকে ভেজা রাখতে সাহায করে  এবং যোনীর পিএইচ বজায় রেখে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

কারণঃ কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় মেয়ে বাচ্চা জন্মের প্রথম দশদিন বাচ্চার যোনি পথে আঠালো সাদা স্রাব বের হতে থাকে। এটা দেখে ভয়ের কিছু নেই। এর কারণ হলো গর্ভকালীন সময়ে মায়ের শরীরে স্ত্রী হরমোনের আধিক্য থাকায় সেটা গর্ভফুল দিয়ে কন্যা শিশুর শরীরে প্রভাব ফেলে। প্রথম মাসিক হওয়ার আগে বা মাসিক শেষে অতিরিক্ত সাদা স্রাব হতে পারে। সাধারণ পিরিয়ড শুরু হওয়ার ৩-৪ দিন আগে এবং পিরিয়ড শেষে কয়েকদিন লিউকোরিয়া হয়ে থাকে। সাধারণত নিয়মিত মাসিকের ২ সপ্তাহ পর বা ১৪ দিনের মাথায় যখন ওভিউলেশন হয় অর্থ্যাৎ ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বানু নির্গমন হয় তখন তলপেট ব্যথাসহ লিউকোরিয়া হয়ে থাকে। জন্ম নিয়ন্ত্রনের বড়ি সেবন করলে অতিরিক্ত সাদাস্রাব হতে পারে। গর্ভকালীন সময়ে শরীরে স্ত্রী হরমোন অধিক মাত্রায় থাকলে লিউকোরিয়া দেখা দেয়। সন্তান প্রস্রবের দেড় মাস থেকে ৩-৪ মাস পর্যন্ত লিউকোরিয়া থাকতে পারে। অত্যাধিক যৌন উত্তেজনা বা আবেগও লিউকোরিয়া হতে পারে। যৌবনের শুরুতে প্রজনন অংগে রক্ত চলাচল বেশি হওয়ার জন্যও সাদাস্রাব বেশি হয়ে থাকে। পুষ্টিহীণতা এবং অত্যাধিক মানসিক চাপের কারনে সাদাস্রাব হতে পারে।

কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেনঃ যদি সাদাস্রাব খুব ঘন ও দুর্গন্ধযুক্ত এবং সঙ্গে চুলকানি থাকে তবে বুঝতে হবে জরায়ুর মুখে বা যোনিপথে সংক্রমণ হয়েছে। এ সংক্রমনের জন্য ছত্রাক বা পরজীবী ( ট্রইকোমোনাস) বেশি দায়ী। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে দুর্গন্ধযুক্ত সাদাস্রাব হয়ে থাকে।  তলপেটে এবং যোনিপথে ব্যথা এবং জ্বর জ্বর ভাব থাকতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে এবং দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে সংক্রমণ হয় এবং অতিরিক্ত সাদাস্রাব হয়, জরায়ুর মুখে দীর্ঘদিনের ইনফেকশন বা  ইরোশন থেকেও অতিরিক্ত সাদাস্রাব হয়। পিআইডি বা প্রজনন অংগের ইনফেকশন থাকলে তলপেট, কোমড় ব্যথাসহ লিউকোরিয়া হয়। এসব সমস্যায় অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

চিকিৎসা ও প্রতিকারঃ  সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে বিশেষ করে কাপড় চোপড় এবং বাথরুম পরিষ্কার রাখতে হবে। আন্ডার গার্মেন্টস খুব বেশি পরিষ্কার থাকতে হবে এবং প্রতিদিন বদলিয়ে পরতে হবে। আন্ডার গার্মেন্টস পরার আাগে ইস্ত্রি করে নিলে আরও ভালো হয়। পিরিয়ডের সময় পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত স্যানিটারি প্যাড বা ন্যাপকিন পরতে হবে। অপরিষ্কার বা নোংড়া ন্যাপকিন পরতে হবে। অপরিষ্কার বা নোংড়া ন্যাপকিন ব্যবহার করলে লিউকোরিয়া এবং অন্যান্য ইনফেকশন বেশি হয় এবং চুলকানির মাত্রা অতিরিক্ত হয়।   এজন্য পিরিয়ডের সময় কাপড় ন্যাপকিন ইস্ত্রি করে নিলে ইনফেকশনের হাত থেকে অনেকটা রক্ষা পাওয়া যায়। যদি দেখা যায় জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ার ফলে লিউকোরিয়া হচ্ছে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং বড়ি বন্ধ করে অন্য ব্যবস্থা নিন। পুষ্টিহীনতা এবং ভগ্নাস্বাস্থ্য থাকলে পুষ্টিকর খাবার খেয়ে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হবে। ইনফেকশনের জন্য অতিরিক্ত সাদাস্রাব হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হবে।

ডাঃ জোৎস্না

মুক্তগাছা, ময়মনসিংহ