Posted on

রমজানের রোজা ও চোখের শুষ্কতা

রমজানের রোজা ও চোখের শুষ্কতা

 

পবিত্র রমজান মাসে মুসলিম সম্প্রদায় সূর্য উদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আহার থেকে বিরত থাকে। দীর্ঘ সময় আহার থেকে বিরত থাকার রক্তের অন্যান্য উপাদানের সাথে সাথে চোখের জলের ( যা টিয়ার ফিল্ম নামে পরিচিত) পরিমাণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে কি না, এ বিষয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা পরিচালনা হয়ে ফ্যাকাল্টি অব মাইনাস ইউনির্ভাসিটি অব গুইলান ইরান।

রমজানের রোজা ও চোখের শুষ্কতা
রমজানের রোজা ও চোখের শুষ্কতা

গবেষকগণ রোজাদারদের টিয়ার ফিল্ম (চোখের জল) এর উপাদান নিয়ে বিশ্লেষণ করেন, দীর্ঘ উপোস থাকার কারণে রক্তের অন্যান্য রসায়ানিক উপাদানের সাথে সাথে চোখের জলেরও (টিয়ার ফিল্ম) রাসায়নিক উপাদান পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। ডা. সারিরি একজন ইরানি গবেষক চোখের জলের (টিয়ার ফিল্ম) প্রোটিনের পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য ৩৫ জন পুরুষ এবং ২৫ জন মহিলার ওপর গবেষণা চালান। দুই ধাপে তারা টিয়ার ফিল্মের প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণ করেন।

প্রথম পর্যায়ে তারা রোজার এক মাস পূর্বে ৬০ জনের ৯২৫ জন পুরুষ, ২৫ জন মহিলা) টিয়ার প্রোটিনের পরিমাণ নির্ণয় করেন।

দ্বিতীয় পর্যায়ে রোজার ২৫ তম দিনে টিয়ার ফিল্মে উপরোক্ত ৬০ জনের টিয়ার ফিল্মে প্রোটিনের পরিমাণ নির্ণয় করেন।  ইলেক্ট্রোফরেসিস প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, কিছু টিয়ার প্রোটিন উপোস থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কম পাওয়া যায়। যদিও সমষ্টিক প্রোটিনের আধিক্য ধরা পড়ে।

অর্থ্যাৎ এ গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যমতে কিছু উল্লেখযোগ্য প্রোটিনের পরিমাণ উপোস থাকা ব্যক্তিদের টিয়ার ফিল্মে কমে যায় কিন্তু এ প্রোটিনের ঘাটতিই কি উপোস থাকা ব্যক্তিদের চোখের শুষ্কতার জন্য দায়ী ? গবেষকগণ এ ব্যাপারে কোন সদুত্তর দিতে সমর্থ হননি। তারা এটি বলতে সক্ষম হয়েছেন যে টিয়ার প্রোটিনের প্রাপ্ততা চোখের শুষ্কতার সাথে সম্পর্কিত। এক্ষেত্রে গবেষকগণ পরবর্তীতে এ মর্মে উপনীত হন, যেসব  রোগী চোখের শুষ্কতায় ভোগেন তাদের প্রোটিনের পরিমাণ ও গঠনে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় এবং তারাই উপোস হলে প্রোটিনের পরিমাণে আরও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে এবং শুধুমাত্র যে ক্ষেত্রে উপোস থাকলে তাদের চোখের শুষ্কতার আশঙ্কা থেকে যায়।

এ ব্যাপারে বিজরণ জোহানসন এমডিলিন কপিং বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, সুইডেন বলেন তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেখেছেন উপোস থাকা অবস্থায় কখনও কোন ব্যাক্তি চোখের সমস্যায় ভোগেননি। প্রখ্যাত গবেষক ডা. জোহানসন বলেন, উপোস থাকায় দেহের জমাকৃত পুষ্টি কমে, যেটি শরীরে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, তবে শরীরে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এই জমাকৃত পুষ্টি কাজ করে প্রায় ফলে দেহে কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে না।

অর্থ্যাৎ প্রাপ্ত গবেষণা তথ্যমতে আমরা এ মর্মে উপনীত হতে পারি যে, রমজান মাসের রোজা থাকার সাথে চোখের শুষ্কতার কোন সম্ভাবনা নেই।

 

ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ

অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান

চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

শাহবাগ, ঢাকা।