Posted on

শীতে ত্বকের যত্ন – Skin Care at Winter

শীতে ত্বকের যত্ন – Skin Care at Winter

লেখক – দ্যুতি আকাশি

আসছে শীত। শীতে স্বাভাবিক নিয়মেই আপনার ত্বক হয়ে উঠবে শুষ্ক। শীতে ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য প্রয়োজন হবে বাড়তি পরিচর্যার। সুতরাং আগেভাগেই জেনে নিন কিভাবে আপনার ত্বকের লাবন্যতা রক্ষ্যা করবেন।

ত্বক সজীব ও সতেজ রাখতে স্টিমুলেটিং বিশেষভাবে জরুরী। স্টিমুলেটিং ত্বকে সরাসরি পুষ্টি জাগিয়ে তককে উদ্দীপ্ত করে তলে। তৈলাক্ত, শুষ্ক ও মিশ্র সব রকমের ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় মাস্ক বাড়িতেই তৈরী করা যায়। স্টিমুলেটিংয়ের ফলে ত্বকের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। ত্বক হয়ে উঠে সজীব ও সতেজ। স্টিমুলেটিং করার পর ত্বকে একটা শীতল ও প্রচ্ছন্ন ভাবের প্রকাশ ঘটে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় ত্বকের রোমকূপে জমা হয় ময়লা-ধুলবালি ও অম্ল-ক্ষার জাতীয় তৈলাক্ত পদার্থ। মাস্ক ও ফেস্প্যাক ব্যাবহারের ফলে ত্বকের এসব ধুল ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। ত্বকে কোমলতা ফিরে আসে। নিয়মিত স্টিমুলেটিং করলে ত্বকের মরা চামড়া একেবারেই থাকে না। মাস্ক বা ফেস্প্যাক তৈরি করতে হয় বিভিন্ন প্রাকৃতিক উয়াপাদান দিয়ে। এইসব প্রাকৃতিক উপাদানে থাকে প্রচুর পরিমাণে মেন্থল স্ট্যানিন, এস্ট্রিনযট, ইথাইল এলকোহল প্রভৃতি জা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।

শীতে ত্বকের যত্ন - Skin Care at Winter
শীতে ত্বকের যত্ন – Skin Care at Winter

মাস্ক বা ফেসপ্যাকের প্রভাব ক্ষণস্থায়ী। তবে বারবার ব্যবহারের ফলে দীর্ঘস্থায়ী ফল পাওয়া যায়। মুখমণ্ডলের রোমকূপের ছিদ্র সংকুচিত হয়। ফলে ত্বকের বলি রেখা অদৃশ্য  হয়ে যায়। ত্বক হয়ে ওঠে টানটান মসৃণ। যাদের ত্বক শুষ্ক বা স্বাভাবিক বা মিশ্র তারা সপ্তাহে একবার স্টিমুলেটিং করবেন। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা সপ্তাহে ২ বার স্টিমুলেটিং করলে ভাল ফল পেতে পারেন।

যেভাবে স্টিমুলেটিং করবেন

স্টিমুলেটিং করতে আধাঘন্টা সময়ের প্রয়োজন হবে। সুযোগ মত যে কোন দিন গোসলের অন্তত এক ঘন্টা স্টিমুলেটিং শুরু করা ভাল। আর যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা সপ্তাহে ২ বার স্টিমুলেটিং করলেও প্রথমবার করার অন্তত ৩ দিন পর দ্বিতীয় বার স্টিমুলেটিং করবেন। সম্ভব হলে এ সময় বড় আয়না ব্যবহার করা ভাল। স্টিমুলেটিং করার সময় আর বেশ কিছু দিকে নজর দেওয়া উচিত। স্টিমুলেটিং করার সময় আরও বেশ কিছু দিকে নজর দেওয়া উচিত। যেমন – স্টিমুলেটিং করার সময় বড় গলা জামা ব্যবহার করবেন। মাথার চুল আঁচড়ে পিছন দিকে ভাল করে বেঁধে ফেলবেন, যাতে মুখ বা কপালের উপর চুল না আসতে পারে। সাবান দিয়ে দু হাত ভাল করে ধুয়ে নেবেন। অল্প পরিমাণে ক্লিঞ্জিং মিল্ক বা লোশন দিয়ে মুখমণ্ডল, গলা ও হার মেসেজ করবেন কিংবা সাবান ও পানির সাহায্যে ক্লিঞ্জিং করতে পারেন। সেক্ষেত্রে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে মুখমণ্ডলের পানি মুছে নিতে হবে। ক্লিঞ্জিং করার পর তুলোতে ফ্রেশনার ঢেলে দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করুন। ফ্রেশনার বলতে ত্বকের প্রকৃতি অনুযায়ী এস্ট্রিঞ্জেন্ট-লোশন বা স্কিন টনিক ব্যবহার করতে পারেন। প্রাকৃতিক উপায়ে ফ্রেশনিজ করা যায়। সেক্ষেত্রেও আগের মত পানি দিয়ে ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে ভাল ভাবে মুছে নিতে হবে। এবার ময়েচশারাইসিং লোশন বিন্দু বিন্দু করে মুখমণ্ডলে লাগিয়ে ভাল করে সারা ত্বকে মেখে নিন। পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার ধুয়ে ফেলুন। তবে ধোয়ার সময় সম্ভব হলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। পরিস্কার ও মসৃণ তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চেপে চেপে ত্বকের পানি মুছে ফেলুন। এবার আপনার মুখমণ্ডল মাস্ক বা ফেসপ্যাক ব্যাবহারের উপযুক্ত হয়ে উঠবে।

আপনার ত্বকের প্রকৃতি অনুযায়ী যে ধরনের মাস্ক বা ফেসপ্যাক প্রয়োজন আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখবেন। যাতে স্টিমুলেটিং শুরু করতে বিলম্ব না হয়। মাস্ক বা ফেসপ্যাক লাগানোর জন্য তুলর প্যাড ব্যবহার করবেন। মাস্ক বা ফেসপ্যাক লাগাবেন চোখ, ভ্রু, নাসারন্ধ্র বাদ দিয়ে সারা মুখমন্ডলে। এ সময় বড় তোয়ালে গলা থেকে ঝুলিয়ে নিলে ভাল। এতে মাস্ক বা ফেসপ্যাক ছিটেফোঁটা গায়ে লেগে থাকবে না। স্টিমুলেটিং শুরুর আগেই বিশ্রাম নেয়ার জায়গা ঠিকমত গুছিয়ে নেবেন। মাস্ক বা ফেসপ্যাক লাগানোর পরপরই চোখ বন্ধ করে নির্ধারিত স্থানে শুয়ে পরবেন। ২০ মিনিট বিশ্রাম নিবেন। যে ঘরে বিশ্রাম নিবেন সে ঘরে কম আল থাকাই ভাল। সম্ভব হলে হালকা সুরে গান বস মিউজিক চালিয়ে দিতে পারেন। তবে মাস্ক বা ফেসপ্যাক লাগান অবস্থায় কথা বলা, কোন রকম মুখ ভঙ্গি করা উচিত নয়। এতে চামড়ায় টান পড়ে। ফলে ত্বকের সমস্যা হয়। সময় সংকেতের জন্য ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে রাখতে পারেন। এ সময় তুলর প্যাড থান্ডা দুধ বা গোলাপ জলে ভিজিয়ে চোখ দুটো ঢেকে রাখবেন। এছাড়া কচি শশার চাকতি দিয়েও চোখ ঢেকে রাখতে পারেন। ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে এবং পরে থান্ডা পানি দিয়ে মুখমন্ডলের মাস্ক বা ফেসপ্যাক তুলে ফেলুন। এবার গোসল সেরে নিন। মুখমণ্ডলে এক টুকরো বরফ বুলিয়ে নেবেন এবং ঠান্ডা পানির ঝাপ্টা দেবেন এবং মসৃণ তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলবেন। সবশেষে সামান্য একটু ময়েশ্চারাইজিং লোশন নিয়ে সারা মুখমণ্ডল মেখে নিন। এবার আয়নার সামনে দাঁড়ান। নিজেকে লক্ষ্য করুন। দেখবেন আগের তুলনায় আপনার ত্বক আর সতেজ, সজীব, মসৃণ ও লাবাণ্যময় হয়ে উঠেছে।