Posted on

ফুসফুস রোগে শ্বাসকষ্ট

ফুসফুস রোগে শ্বাসকষ্ট

ইন্টারস্টিসিয়াল লাঙ্গ ডিজিজ বা আইএলডি নামে একটি বক্ষ্যবাধি রয়েছে। রোগটি বর্তমানে খুবই প্রচলিত। যদিও শ্বাসকষ্ট থাকায় রোগীরা  একে সাধারণ হাপানি বলে মনে করেন।  এ রোগটি অনেক সমস্যার জন্য হয়ে থাকে। লক্ষণ, উপসর্গ,  রোগের ধরণ এবং এক্সরের পরিবর্তনগুলো খুব একটা ঘনিষ্ট নয়,  তবে, শ্বাসকষ্ট খুব বেশি থাকে। এক্সরে পরীক্ষা করলে দেখা যায় যে,  রোগীর সাধারণ হাপানিতে ভুগছে না এবং এতে এই রোগের আলমত চোখে পড়ে। কোনো কোনো রোগীকে ব্যাপকভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করলে কারণ দেখা যায়। পেশাগত কারণে ধুলোবালি ফুসফুসে ঢুকে নিউমোকোনিওসিস  সৃষ্টি  করে। নাক দিয়ে জৈব এন্টিজেন যেমন- পাখির পশম/ পালক ঢুকে এক্সটনসিক অ্যালার্জিক এলডিওলাইটিস রোগের সৃষ্টি করে। কিছু কিছু ওষুধ গ্রহণে/ সেবনের ইতিহাস থাকে, যার ফলে ফুসফুসে ফাইব্রোসিস সৃষ্টি হয়। ফুসফুসে কিছু পরিচিত ধরনের ক্যান্সার যেমন- লিউকোমিয়া বা লিমফোমার জটিলতায় এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে ইন্টারস্টিলিয়াল লাঙ্গ ডিজিজ রোগটির প্রধান কারণ ক্রিপটোজনিক ফাইব্রোসিং এলভিওলাইটিস। এই সমস্যাটি ফুসফুসের অভ্যান্তরীন কাঠামোগত ব্যাপক পরিবর্তন আনে,  যেমন- প্রদাহ,  এবং ফাইব্রোসিস একসাথে ঘটতে থাকে। ক্রিপটোজেনিক ফাইব্রেসিস এলবিওলাইটিস নিজে নিজেই হতে পারে অথবা তার সাথে বিভিন্ন ধরনের রক্তনালীর কোলাজেন রোগসমূহ থাকতে পারে। এই সমস্যাটি বর্তমানে প্রতি ১ লাখে ১০ জনের উপরে বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবছর ১২০০ রোগী এই রোগে মৃত্যুবরণ করেন। এই রোগটি পুরুষের মধ্যে বেশি দেখতে পাওয়া যায়। যদিও যে কোনো বয়সেই   এই রোগটি দেখা দিতে পারে। তবে সাধারণত ৫০-৬০ বছরের মধ্যে এটা দেখা দেয়। অনেক সময় এটা বংশগতও হতে পারে। এ রোগটি কিভাবে দেহে শুরু হয় তা এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। ধারণা করা হয় যে, প্রতিরোধ ব্যবস্থা,  প্রদাহজনিত কারণে কোষের ধ্বংস হওয়া এবং কোলাজেন জমে থাকা নিয়ে এ রোগ হয়ে থাকে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে সামান্য ফ্লু ধরনের অসুস্থতা নিয়ে রোগ শুরু হয় যদিও জীবানু সংক্রমণের লক্ষণ প্রথম ধরা পড়ে না। এটা ধরে নেয়া হয় যে, প্রথমে পদ্রাহ হয় এবং পরে ফাইব্রোসিস ঘটতে থাকে।

ফুসফুস রোগে শ্বাসকষ্ট
ফুসফুস রোগে শ্বাসকষ্ট

উপসর্গঃ  রোগী প্রথমে চিকিৎসকের কাছে আসে শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে,  যা পরিশ্রম বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। অনেক রোগীরই কষ্টদায়ক কাশি থাকে। কাশির সাথে কফ উঠে না। শ্বাসকষ্টের সাথে হাত পায়ের জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা অর্থ্যাৎ আথ্রাইটিস থাকতে পারে। ফুসফুস পরীক্ষা করলে নীচের দিকে মৃদু ঘড় ঘড় শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। যদিও পরের দিকে ফুসফুসের সব জায়গাই এই শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। শতকরা ৬৬-৮৩ ভাগ রোগীর বেলায় হাতের আঙ্গুলের মাথা মোট হয়ে যায়। যাকে আমরা ক্লাবিং বলি। অনেক সময় একটু বেশি পরিশ্রম করলে ঠোট,  জিহ্বা নীলবর্ণ ধারণ করে।

শেষের পর্যায়ে ফুসফুসের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে হার্ট ফেলিওর দেখা দেয়। রক্ত পরীক্ষায় খুব একটা কিছু ধরা পড়ে না। যদিও রক্তের ইএসআর খুব একটা কিছু ধরা পড়ে না। যদিও রক্তের ইএসআর খুব বেড়ে যায় এবং রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। রোগের শেষের দিকে তীব্র শ্বাসকষ্টের জন্য রক্তের লোহিত কণিকার সংখ্যা বেড়ে পলিসাইথেমিয়া ঘটাতে পারে। আনুমানিক ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে রক্তে রিউমেটয়েড ফ্যাক্টর অথবা এন্টিনিউক্লিয়ার ফ্যাক্টর পজেটিভ হতে পারে। এই রোগ নির্ণয়ে সাধারণ বুকের  এক্সরের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এক্সরেতে অসংখ্য দাগ দেখতে পাওয়া যায় এবং ফুসফুস দুটির আয়তনও ছোট হয়ে যায়। এই পরিবর্তনগুলো প্রথমদিকে ফুসফুসের নীচের দিকে এবং ধারের দিকে দেখতে পাওয়া যায়। যদিও শেষের পর্যায়ে পুরো ফুসফুস জুড়েই ক্ষুদ্র অসংখ্য দাগ চোখে পড়ে। কোনো কোনো রোগীর  এক্সরে স্বাভাবিক থাকে,  যদিও সিটি স্ক্যান করলে রোগ ধরা পড়ে। উন্নত দেশে রেডিও নিউক্লাডি স্ক্যানিং করা হয়। আমাদের দেশে এখন পালমোনারী ফাংশন পরীক্ষা আমরা নিয়মিত করে থাকি। এই পরীক্ষা হাপানি এবং এই রোগ পার্থক্যকরণের বিশেষ ভমিকা রাখে। হাঁপানিতে ফুসফুসের শ্বাসনালীতে বাধাজনিত সমস্যা ধরা পড়ে।  এছাড়া এক্সারসাইজ টেস্টিং ব্রংকোএলভিওলর ল্যাভাজ,  লাঙ্গ বায়োপসি করে আমরা এ রোগের সন্ধান পাই। দুর্ভাগ্যজনক কথা, হলো- এ রোগের ব্যাপকভাবে চিকিৎসা না করলে শতকরা ৫০ জন রোগী ৫ বছরের মধ্যে মারা যায়। নিজে নিজে কখনো এ রোগ সারে না। শতকরা ৭৫ ভাগ ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টজনিত কারণেই রোগী মারা যায়। অনেক সময় শতকরা ১০ ভাগ ক্ষেত্রে এই রোগের সাথে ফুসফুসের ক্যান্সার দেখা যায়। এটা বলা খুব একটা সম্ভবপর নয় যে,  কোন রোগী চিকিৎসায় ভালে হয়ে যাবে ? তবে নিম্নলিখিত অবস্থানের রোগী ভাল হয়ে যাওয়ার আশা প্রচুর। যেমন অল্প বয়স, মহিলা, কম শ্বাসকষ্ট থাকলে,  এক্সরেতে কম দাগ থাকলে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ ঠিকমত থাকলে। চিকিৎসা সাধারণত তিন ভাগে হয়ে থাকে। যেমন- ওষুধগুলো হল স্টেরয়েড, সাইটোটস্কিক ওষুধ এবং অন্যান্য (পেনসিলামিন)। তারপর আসে লক্ষণ বুঝে চিকিৎসা ও তারপর আসে একটি ফুসফুস পরিবর্তন বা সিঙ্গল লাঙ্গ ট্রান্সপ্লানটেশন। সবশেষে কথা হলো যেহেতু এ রোগটি একটি শ্বাসকষ্টজনিত বক্ষব্যাধি এবং যেহেতু এই রোগের হার ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে,  তাই একে হাপানি বলে গুরুত্ব দেয় না। একবার শেষ পর্যায়ে রোগী চিকিৎসকের কাছে আসলে সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন করে এ রোগের চিকিৎসা দিলে অনেকটা ভাল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মনে রাখবেন,  শ্বাসকষ্ট মানেই সাধারণ হাঁপানি নয়। যে কোন বক্ষব্যাধিতেই শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

 

অধ্যাপক ডাঃ ইকবাল হাসান মাহমুদ

বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

৮৫, ওয়ালেস মোড়,  বড় মগবাজার, ঢাকা।

Posted on

ফিস্টুলা প্রতিরোধে করণীয়

ফিস্টুলা প্রতিরোধে করণীয়

 

পায়ু পথের সঙ্গে চামড়ার অস্বাভাবিক সংযোগই হচ্ছে ফিস্টুলা বা ভগন্দর। এই ফিস্টুলা হওয়ার আগে রোগীর মলদ্বারের আশেপাশে প্রথমে ফোড়া হয়। এই ফোড়া অযত্ন অবহেলায় নিজে নিজেই ফেটে যেতে পারে কিংবা অধিকহারে পুজ বের হওয়ার দারুন ফোড়া বৃদ্ধি পেয়ে মলদ্বারের ভেতর ও বাইরের মধ্যে অস্বাভাবিক সংযোগ স্থাপন করে। এমতাবস্থায় মাঝে মধ্যেই বাইরের মুখ ক্ষণস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গিয়ে ‍পুজ বা কষ ঝরতে থাকে। এবং কিছুটা ফুলে যায়। ফলে রোগীর মলদ্বারের ব্যথা ও হালকা জ্বর হয়। বন্ধ মুখ খুলে গিয়ে পুজ/কষ বের হয়ে গেলে রোগী আরামবোধ করে। কিন্তু কিছুদিন পর আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং ভিতর বা বাইরে একাধিক  মুখের সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ রোগের একমাত্র সমাধান শৈল্য চিকিৎসা বা সার্জারি।

ফিস্টুলা প্রধানত

২ প্রকার-১। এনাল স্ফিংকটারের নিচে ফিস্টুলার ভিতরের মুখের অবস্থান হলে তাকে নিচ বা লো ফিস্টুলা এবং ২। স্ফিংকটারের ওপর অবস্থান হলে তাকে ওপর বা হাই ফিস্টুলা বলে। ভেতরের মুখ যত ওপরে থাকে তার চিকিৎসা পদ্ধতি তত জটিল ও কষ্টসাধ্য।

রোগ নির্নয়ঃ

রোগীর ইতিহাস শুনে ফিস্টুলার প্রকারভেদ সম্পর্কে ধারণা করা যায়। যেমন- ওপর প্রকার ফিস্টুলা হলে মাঝে মাঝে মল বা বায়ু আসতে পারে। পরীক্ষা করলে ভেতর ও বাইরের মুখ আঙুলি দিয়ে অনুভব করা যায় এবং অস্বাভাবিক সংযোগটি শক্ত রেখার মতো অনুভূত হবে। ফিস্টুলোগ্রাম করে সংযোগটি বোঝা যায় এবং এন্ডোরেকট্যাল আলট্রাসাউন্ড করলে প্রকারভেদ স্পষ্ট বোঝা যায়।

চিকিৎসাঃ

সার্জারিই ফিস্টুলার একমাত্র চিকিৎসা। অপারেশনের মাধ্যমে অস্বাভাবিক সংযোগটি সম্পূণর্ভাবে তুলে আনতে হয়। যদি কোন অংশ থেকে যায় তবে পুনরায় রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি জটিল আকারও ধারণ করতে পারে। যেহেতু ওপর/হাই প্রকার ফিস্টুলার চিকিৎসা একটু জটিল তাই এক্ষেত্রে ফিস্টুলেকটমি ও সেটন ব্যবহার করা হয়। হাই ফিস্টুলার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ফিস্টুলার সংযোগ কেটে আনতে গেলে রোগীর এনাল স্ফিংকটার ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং মল ঝরবে।  তাই এক্ষেত্রে সেটন ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতির ফলাফল অত্যান্ত সন্তোষজনক। যেসব ক্ষেত্রে ফিস্টুলেকট ও সেটন ব্যবহার করা সম্ভব নয়। , সেসব ক্ষেত্রে এন্ডোরেকটার এডভান্সমেন্ট ফ্লাপ ব্যবহার করা হয়। উন্নত বিশ্বে এই পদ্ধতি বহুল প্রচলিত ও জনপ্রিয়। বাংলাদেশকেও আমরা এখন এই পদ্ধতির চিকিৎসা সুনামের সঙ্গে করছি।

অধ্যাপক ডাঃ  এ হাসেম ভুঞা

জেনারেল ও কালোরেক্টাল সার্জন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

Posted on

যক্ষা ! পেটের ভিতর যক্ষা হয়!

পেটের ভিতর যক্ষা হয়

 

যক্ষা বলতে আমরা সাধারণত ফুসফুসের যক্ষাই বুঝি। আসলে ফুসফুসসহ শরীরের এমন কোন অঙ্গ নেই সেখানে এই রোগ হয় না। শরীরের অন্যান্য অঙ্গে র মত পেটের যে কোন অংশেও এই রোগ হতে পারে। সাধারণত পেটের যেসব অংশে যক্ষা হতে পারে সেগুলো হলো পেটের পর্দা, খাদ্যনালী, যকৃৎ, পিত্তনালী অগ্নাশয় এবং মুত্র ও জননেন্দ্রিয় নালী। এছাড়া কিডনির উপরিভাগের এডরেনাল গ্ল্যান্ডেও এই রোগ হতে পারে। শুধু প্রাপ্ত বয়স্কদের নয় শিশুরও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তিন ভাবে মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ১। যক্ষা আক্রান্ত গরুর দুধ ভালভাবে ফুটিয়ে না খেলে। ২। যক্ষা জীবানু সংক্রমিত খাদ্য অথবা পানীয় গ্রহণ এবং যক্ষা জীবানু সংক্রমিত চামচ বা আঙ্গুলের সাহায্যে খাদ্য খেলে। কফে জীবানু আছে এমন যক্ষা রোগী যখন অসাবধানতার সাথে খালিমুখে কাশি দেয় এবং কফ ফেলে সেখান থেকে এই সংক্রমণের উৎপত্তি হয়। ৩। ফুসফুস থেকে এই রোগের জীবানুর আছে এমন ফুসফুসের যক্ষা রোগী যদি কফ বাইরে না ফেলে সরাসরি গিলে ফেলে সেক্ষেত্রেও পেটের যক্ষা হতে পারে।

পেটের ভিতর যক্ষা হয়
পেটের ভিতর যক্ষা হয়

মেয়েদের বেলায় ফেলোপিয়ান টিউব এবং ওভারীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে তারা বন্ধ্যা হয়ে যায। রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে এই রোগের জীবানু এডরেনাল গ্রন্থিতে প্রবেশের কারণে এডরোনালে যক্ষা হয়। শিশুদের অন্ত্রে যক্ষা জনিত ঘা খুব কমেই হয়ে থাকে।

লক্ষণসমূহঃ

পেটে এই রোগের জীবানু প্রবেশের পর কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে এ  রোগের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। পেটে পানি জমার কারণে পেট ফুলে ওঠে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জ্বর, ওজন হ্রাস, পেটে ব্যথা বা পেটে হাত দিলে রোগী ব্যথা অনুভব করে। হৃদরোগ ও কিডনিরোগেও পেটে পানি জমতে পারে বিধায় পেটে পানি জমা রোগীদের এই রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাদের হৃদরোগ বা কিডনি রোগ আছে কি না ভালভাবে পরীক্ষা করে দেখা উচিত। পেটের যক্ষায় আক্রান্ত রোগীদের শতকরা ২৫ থেকে ৫০ ভাগ রোগীর পেটের আবরণ সংক্রমিত হয়। এসব রোগীর শতকরা ২০ ভাগের ডায়রিয়া হয়। পেটের যক্ষা আক্রান্ত রোগীদের প্রায় অর্ধেক রোগীরা বুকেও এই রোগ হতে পারে। এ ধরনের যক্ষার সাথে এইচ আইভির সম্পর্কতা থাকতে পারে। সাধারণত বৃহদান্ত্র ও ক্ষুদ্রান্তের চেয়ে পাকস্থলির উপরিভাগের খাদ্য নালীতেও এ রোগ কম হয়। যে সব রোগীর খাদ্য গিলতে কষ্ট এবং গলা দিয়ে সামান্য রক্তক্ষরণ হয় তাদের ইসোফেগাস টিবি আছে বলে সন্দেহ করা যায়। এইচআইভি রোগীর ক্ষেত্রে এটা প্রকট আকারে দেখা যায়।

পাকস্থলীর যক্ষাও খুব কদাচিৎ হয়। পাকস্থলীর এই রোগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে অনেকেই এটাকে পেপটিক আলসার বলে ভুল করে। একইভাবে ডিউডোনালের যক্ষাকেও অনেকে পেপটিক আলসা, টিউমার ও ক্রন্স ডিজিজ বলে ভুল করে। পেটের পর্দা ও খাদ্যনালীর যক্ষায় অথবা যকৃতের কোন অসুখের কারণে যকৃত (লিভার) বড় হয়ে যেতে পারে। পেটের যক্ষায় প্লীহা বড় হতে দেখা যায়।   এইচআইভি আক্রান্ত যক্ষারোগীদের প্লীহা বড় হতে পারে। অগ্নাশয়ের এই রোগ খুব কদাচিৎ হয় কিন্তু অগ্নাশয়ে যক্ষা হলে তীব্র অগ্নাশয় সংক্রমনের লক্ষণ দেখা দেয়। যক্ষায় পেটের পিছন দিকের পেশি এবং তার সাথে মেজেন্টারিক লিম্প গ্রন্থি পেকে ফেপে ফোড়ার মত আকৃতি ধারণ করে এবং টিউমারের মত হতে পারে।

ডায়াগনোসিস/ রোগ নির্ণয়ঃ

পেটের যক্ষা নির্ণয়ের অনেক সময়ই ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উন্নত দেশে পেট খুলে পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশে পরীক্ষা নিরীক্ষার উন্নত পদ্ধতি না থাকায় রোগকে গভীরভাবে অবলোকনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়। সাধারণত এক্সরে করলে সোয়াস মাসেলে ঘা দেখা যায় এবং পাশাপাশি বুকের এক্সরে করলে দেখা যাবে পূর্বে রোগীর যক্ষা ছিল বা এখনও এই রোগ আছে। ধারণা করা হয়,  সোয়াস মাসেলের এই ঘা যক্ষাজনিত। শিশুদের ক্ষেত্রে এমনটি রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করতে পারে। আল্ট্রা সাউন্ড স্ক্যানের মাধ্যমে দেখা যায় পেটের নাড়ী মোটাহয়ে জট পাকিয়ে গেছে। মেডিস্টাইনাল লিম্প নোড বড় হয়ে গেছে অথবা লিভার ও প্লীহায় কিছু পরিবর্তন হয়েছে। এমনটি হলে এটাকে পেটের যক্ষা বা অ্যাবডোমিনাল টিবি বলে ধরে নেয়া যেতে পারে। পেটে জমাকৃত পানি সেন্টিফিউজ করে কালচার করলে এই রোগের জীবাণু পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া পেটের পর্দার বায়োপসি করলে নিশ্চিতভাবে পেটের যক্ষা নির্ণয় সম্ভব হয়। পেটের এই পানিতে মোট প্রোটিন এবং এলবোমিনের পরিমাণ  এবং এলডিএইচ এর পরিমাণও অনেকাংশে পেটের পর্দার যক্ষা নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এডিনোসিন ডি এমাইনিজের উপস্থিতিও এই রোগ নির্ণয়ে যথেষ্ট সাহায্য করে। লক্ষণ দেখেই খাদ্য নালীর যক্ষা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অনেক সময় ক্লিনিক্যাল, রেডিওলজিক্যাল এবং এন্ডোসকপি করেও সঠিকভাবে এ রোগ নির্ণয় করা যায় না। এক্ষেত্রে চিকিৎসককে পেস্টুরোলা আমাশয় নিপ্লাজম এবং গ্যাস্ট্রে ইনটেস্টিনাল হিস্টো প্লাজমোসিস এর কথা বিশেষভাবে বিবেচনায় আনতে হবে। সাধারণ এন্ডোসকপিতে কোন এই রোগের জীবানু পাওয়া যায় না তবে ঘায়ের প্রান্তিক অংশ থেকে বায়োপসি করে পরীক্ষা করলে যক্ষা জীবানু পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এডরোনাল গ্ল্যান্ডে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর এক্সরে করলে এডরেনাল গ্ল্যান্ড এলাকায় কাল দাগ দেখা যায়। এডরেনাল গ্ল্যান্ড সাধারণ স্ফীত হয়। আল্ট্রাসাউন্ড বা টমোগ্রাফি করলে এটা দেখতে পাওয়া যায়।

চিকিৎসা

এসব লক্ষণ দেখা গেলে ৬ মাস এই রোগের চিকিৎসা দিলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। পেটের ভিতরকার দলা বা পিন্ড দ্রুত আরোগ্য হয়। পেটের যক্ষা নিরাময় হলেও পেটের প্যাচানো নাড়ীগুলো জট পাকিয়ে যেতে পারে,  এর ফলে অন্ত্রে বাধা সৃষ্টি হয় এবং এ বাধা অপসারণেল জন্য শৈল্য চিকিৎসার ( সার্জারি) প্রয়োজন হতে পারে। কারণ,  এই পানি পেটে চাপ সৃষ্টি করে। এ ধরনের অসুবিধা হলে যক্ষার ওষুধেল সাথে প্রেডলোসলন দেয়া যেতে পারে। প্রেডলোসলন দেয়া হলে পানি দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আর নাড়ী জোড়া লাগে না ফলে কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয় না। এডরোনাল গ্ল্যান্ডের যক্ষায় যক্ষার ওষুধের সাথে এলডোসটেরেন হরমোনোর ঘাটতি পুরণ জরুরি।

 

ডা. একেএমডি আহসান আলী

যক্ষা ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

Posted on

ডায়াবেটিস রোগীর রোজা

ডায়াবেটিস রোগীর রোজা

 

রোজা ইসলামের পাচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম স্তর। তাই রোজা রাখা প্রত্যোক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমানদের জন্য অবশ্য করণীয়। বেশির ভাগ ডায়াবেটিক রোগীরা রোজা রেখে থাকেন। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে সারাবিশ্বের প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডায়াবেটিক রোগী রোজা রাখেন। কিন্তু ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে যারা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া রোজা রাখেন তারা বেশি কিছু জটিলতার সম্মুখীন হন, বিশেষ করে-১, রক্তে শর্করা স্বল্পতা (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) ২ শর্করার আধিক্য অর্থ্যাৎ হাইপারগ্লাইসেমিয়া, ৩. ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস এবং ৪. পানি শূণ্যতা বা ডিহাইড্রেশনে ভোগেন। যে সমস্ত রোগী শুধুমাত্র  খাবার ও ব্যায়ামের মাধ্যমে তাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখেন তাদের রোজা রাখার ঝকি কম। যারা মোটফরমিন ও গ্লিটাজোনস জাতীয় ওষুধ খান তাদেরও এ সময় ঝুকি কম। তবে যারা সালফোনাইলইউরিয়া এবং ইনসুলিন গ্রহণ করেন তাদের ঝুকি অনেক বেশি। এজন্যে রমজান আসার আগেই ডায়াবেটিক রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শঅনুযায়ী ওষুধ সমন্বয় করে নেয়া উচিত। যারা রোজা রাখেন তারা নিম্নলিখিত সুপারিশসমূহ অনুসরণ করলে উপরের জটিলতা বিশেষ করে শর্করা স্বল্পতা বা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা এড়াতে পারেন।

ডায়াবেটিস রোগীর রোজা
ডায়াবেটিস রোগীর রোজা

খাদ্য ও ব্যায়াম প্রসঙ্গেঃ

ক) সাহরী খাবার সাহরীরর শেষ  সময়ের অল্প কিছুক্ষণ আগে খাওয়া।

খ) ইফতারের সময় অধিক পরিমাণ শর্করা এবং চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ না করা।

গ) ডায়াবেটিক রোগীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে যেন তারা পানি শূণ্যতায় না ভোগেন। খেজুর খেলে  একটা খেজুর খেতে পারেন। ফলমূল, শাকসবজি, ডাল ও দই তালিকাভুক্ত করতে পারেন। ডাবের পানি পান করতে পারেন। যদি কোন পানীয় পান করেন তবে চিনিমুক্ত পানি বেছে নিতে পারেন। যদি মিষ্টি পানীয় পছন্দ করেন তবে সেইটেনার যেমন- ক্যানডেরাল বা সুইটেক্স ব্যবহার করতে পারেন। ভাজা পোড়া খাবার যেমন- পেয়াজু, বেগুনি, পুরি , পরোটা, কাবাব অল্প পরিমাণে খেতে পারেন।

ঘ) খাদ্যের ক্যালরি ঠিক রেখে পরিমাণ এবং ধরণ ঠিক করতে হবে।

ঙ) দিনের বেলায় অধিক দৈহিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম না করা উচিত। ইফতার বা রাতের খাবারের ১ ঘন্টা পর ব্যায়াম করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে তারাবীহ নামাযেও কিছুটা ব্যায়াম হয়ে যায়।

ওষুধ ও রক্তের মনিটরিং প্রসঙ্গেঃ

ক) যারা দিনে ১ বার ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তারা ইফতারের শুরুতে, (রোজা ভাঙ্গার সময়) ওই ওষুধ একই মাত্রায় খেতে পারেন।

খ) যারা দিনে একাধিকবার ডায়াবেটিসের ওষুধ খান তারা সকালের মাত্রাটি ইফতারের শুরুতে এবং রাতের মাত্রাটি অর্ধেক পরিমানে সাহরীর ১/২ ঘন্টা আগে খেতে পারেন।

গ) যে সকল রোগী ইনসুলিন গ্রহণ করেন, তাদের রমজানের পূর্বেই ইনসুলিনের ধরণ ও মাত্রা ঠিক করে নেয়া উচিত। সাধারণত রমজানে দীর্ঘ মেয়াদি ইনসুলিন ইফতারের সময় বেশি এবং প্রয়োজনে শেষ রাতে অল্প মাত্রায় দেয়া উচিত। দীর্ঘমেয়াদী এবং কম ঝূকিপূর্ণ ইনসুলিন  (যা দিনে এক বার নিতে হয়) বর্তমানে আমাদের দেশে পাওয়া যায়, তা ব্যবহার করতে পারেন। এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

ঘ) রোজার সময় রাতে এমনকি দিনের বেলায়ও রক্তের শর্করা মাপা উচিত, যাতে রক্তের শর্করা দেখে ওষুধের মাত্রা ঠিক করা যায়। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে এতে রেজার কোন ক্ষতি হয় না।

ঙ) সাহরীঢর ২ ঘন্টা পর এবং ইফতারের ১ ঘন্টা আগে রক্তের শর্করা পরীক্ষা করা যেতে পারে। যদি শর্করার পরিমাণ কমে …….হয়ে যায়, তবে রোজা ভেঙে ফেলতে হবে। যদি শর্করার পরিমাণ বেড়ে হয়ে যায়, তহবে প্রস্রাবে কিটোন বডি পরীক্ষা করতে হবে। এবং জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই ভাঙা রোজা পরবর্তীতে রাখতে হবে।

ডায়াবেটিস সম্পর্কে শিক্ষা প্রসঙ্গেঃ

ক) শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য বর্তমানে ডায়াবেটিস সম্পর্কে ভালোভাবে জানাকেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের অন্যতম ব্যবস্থা বলে গন্য করা হয়। এজন্য কোন  কোন অবস্থায় রোজা রাখা ঝুকিপূর্ণ তা জানতে হবে এবং কোন প্রকার জটিলতা দেখা দিলে তা কিভাবে সমাধান করতে হবে তা রোগী ও তার পরিবারের সদস্যদেরকেও শিখতে হবে।

খ) মনে রাখতে হবে, সবার জন্য একই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

ডাঃ মোঃ ফরিদ উদ্দিন

এন্ডোক্রাইন মেডিসিন ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞ।

 

 

 

Posted on

ডায়াবেটিস ও সুষম খাদ্য

ডায়াবেটিস ও সুষম খাদ্য

 

সাধারণ স্বাস্থ্য রক্ষায় যেমন সুষম খাদ্যের প্রয়োজন তেমনি ডায়াবেটিসের বেলায়ও এর ব্যতিক্রম হয় না। তবে এই রোগটিকে নিয়ন্ত্রণের রাখতে গেলে খাদ্যের ব্যাপারে কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলা জরুরি। তিনটি বিষয় মনে রাখতে পারলে এই রোগটি আয়ত্তে আনার কোন ব্যাপারর নয়। প্রথমত,  নিষিদ্ধ খাবার বর্জন,  দ্বিতীয়ত,  পরিমাণ মতো খাবার গ্রহণ; তৃতীয়ত প্রতি ৩ ঘন্টা পর পর খাবার গ্রহন।

নিষিদ্ধ খাবারগুলো হলোঃ চিনি, ‍গুড়,  মধু, গ্লুকোজ, খেজুরের রস, কেক, পেস্ট্রি, জ্যাম জেলি, সিরাপ, মিষ্টি বিস্কুট,  হালুয়া,  কোল্ড ড্রিংকস, আইসক্রিম, মিষ্টি, দই ইত্যাদি।

ডায়াবেটিস ও সুষম খাদ্য
ডায়াবেটিস ও সুষম খাদ্য

পরিমাণ মতো খাবার গ্রহণঃ প্রত্যেক ডায়াবেটিস রোগীর খাবারের পরিমাণ পৃথক হয়ে থাকে। পরিবারের এক জনের ডায়াবেটিস হলে তাকে যে পরিমাণ খাবার নির্ধারণ করে দেয়া হয়, সেই পরিমাণ খাবার অন্যদের জন্য নয়। কারণ যদি খাবারের পরিমাণ বেশি হয় তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাবে। আর যদি কম হয় তাহলে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাবে। এই কারণে যার জন্য যে পরিমাণের খাবার নির্ধিষ্ট দেয়া হয় তা খেতে  হবে।

সময়মতো খাবার খেতে হবেঃ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সময় ঠিক রাখা খুব জরুরি। একেক দিন একেক একক সময় খেতে হবেঃ  ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সময় ঠিক রাখা খুবেই জরুরি। একেক দিন একেক সময়ে খাবার খাওয়া একেবারে উচিত নয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেতে হবে এবং প্রতি তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা পর পর খেতে হবে। অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য খুবই বিপজ্জনক। এতে বিপাকক্রিয়ার বিঘ্ন ঘটে এবং জটিলতা দেখা যায়। আবার দেড় থেকে দুই ঘন্টা পরপর খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমানো যায় না।

কেমন খাবার খেতে হবেঃ চিনি, মিষ্টি, মধু বাদ দিতে হবে, ভাত রুটি আলু পরিমাণ মতো, পাতা জাতীয় ও পানসে সবজি ইচ্ছামতো। টক জাতীয় ফল ইচ্ছামতো। তবে ডায়াবেটিস বা রক্তেশর্করা নিয়ন্ত্রণ না থাকলে মিষ্টি ফল না খাওয়াই উত্তম।

শর্করা জাতীয় খাদ্যঃ অন্যান্য স্বাভাবিক লোকের মতোই শর্করা জাতীয় খাবার দৈহিক ৫০-৬০ ভাগ খেতে হবে। এ ধরনের খাবার শরীরে শক্তি জোগায়। শর্করা প্রধানত দুই প্রকার। চিনিযুক্ত শর্করা ও শ্বেতসারযুক্ত শর্করা। সকল শর্করাই শোষিত হয়ে দেহে গ্লুকোজে রুপান্তরিত হয়। তবে সহজ শর্করা যেমন –চিনি, গুড়,  গ্লুকোজ এগুলো খাওয়া মাত্র সরাসরি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায় আবার শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য ধীরে ধীরে বাড়ায়। এ কারণেই চিনি গুড় একবারেই নিষেধ করা হয় এবং শ্বেতসার অর্থ্যাৎ বাত রুটি শস্য জাতীয় খাবার সীমিত পরিমাণে খেতে বলা হয়।

শর্করা জাতীয় খাবারঃ রুটি, ভাত,  আলু, বিস্কুট, নুডলস,  চালের গুড়া, পরিকা, ভুট্রা, সাগু, বার্লি, সুজি, চিড়া, মুড়ি,  খই,  চিনি গুড়, মধু, সেমাই ইত্যাদি।

আমিষ জাতীয় খাদ্যঃ আমিষ প্রধানত দু ধরনের হয়ে থাকে। প্রাণীজ আমিষ ও উদ্ভিদ আমিষ। সাধারণত প্রাণিজ আমিষের চাইতে উদ্ভিদ আমিষের গুণগত মান কম। তবে উভয় প্রকার আমিষই পরিপাক হয়ে অ্যামাইনো এসিড রূপে রক্তে শোষিত হয়। খাদ্যের মোট ক্যালরির ২০-৩০ ভাগ আমিষ জাতীয় খাবার থেকে আসা উচিত। আমিষ শর্করার মতো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায় না এবং চর্বির মতো অধিক ক্যালরি উৎপন্ন করে না। তবে এটা শরীর গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পুরণ  করে দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে ডায়াবেটিস রোগীদেরও আমিষ জাতীয় খাদ্য স্বাভাবিক লোকের মতোই গ্রহণ করতে হবে। আমিষ জাতীয় খাবার হলো- ডিম, দুধ,  মাছ, মাংস, ডাল, বাদাম, সীমের বিচি,  সয়াবিন ইত্যাদি।

চর্বি জাতীয় খাদ্যঃ  সারাদিনের খাবারের মোট ক্যালরির ২০-৩০ ভাগ আসা উচিত চর্বি জাতীয় খাদ্য থেকে। তবে সম্পৃক্ত চর্বি যেমন ঘি,  ডালডা, এবং মাংসের চর্বি যতটা পরিহার করা উচিত। কারণ সম্পৃক্ত চর্বি রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারইডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এই জন্য ডায়াবেটিস রোগীদের সম্পৃক্ত চর্বি যতটা কম সম্ভব খাওয়া উচিত। কারণ তারা অন্যদের তুলনায় সহজেই হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে। রান্নায় সয়াবিন তেল, জলপাইয়ের তেল  ব্যবহার করাই উত্তম।

আশজাতীয় খাদ্যঃ খাদ্যের আশ দেরিতে হজম হয় বলে ডায়াবেটি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। আবার পরিমাণের অতিরিক্ত আশ পেটে গ্যাসের সৃষ্টি করে। পেটে ব্যথা হয়,  পেট ফেপে যায় ও পাতলা পায়খানা হয়্ সে জন্য যাদের গ্যাস্ট্রাইটিসের সমস্যা আছে এবং যাদের আলসার আছে তাদের এই জাতীয় খাবার বাদ দেয়া উচিত।

আঁশ জাতীয় খাবার হলো- ভুষিযুক্ত রুটি, লাল চাল,  আশযুক্ত সবজি ও খোসাসহ ফল। সব শেষে বলা যায়, যেহেতু ডায়াবেটিস সারা জীবনের রোগ সে জন্য প্রতিটি রোগীরই আত্মসচেতনতা প্রয়োজন।

 

আফতাব চোধুরি

সাংবাদিক কলামিষ্ট

Posted on

খাদ্য গ্রহণে মানসিক সমস্যা

খাদ্য গ্রহণে মানসিক সমস্যা

 

সুস্থ শরীরে সুস্থ সতেজ মনের বসাবাস। কারন সুস্থতাই সকল প্রকার সুখের  মূল চাবিকাঠি। সুস্থ ব্যক্তি খুব কম ক্ষেত্রেই হতাশায় ভুগে থাকেন। তাদের কর্ম উদ্দীপনাও দারুন, চমৎকার। তারা চায় নিজেকে প্রতিষ্টিত  করতে সমাজের বুকে। তাই জীবন সংগ্রামে তারা বীর সৈনিকের মতো নানা প্রকার প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সামনের দিকে এগিয়ে চলেন সাফল্যের চূড়ায় আহরোন করতে। এখন আমরা আলোচনা করবো অতি খাদ্য গ্রহণজনিত মানসিক রোগ বুলিমিয়া নার্ভোসা সম্পর্কে। খাদ্যজনিত নানা প্রকার  মানসিক সমস্যাকে খাদ্য সংক্রান্ত মানসিক সমস্যা বলে। দুই প্রকার খাদ্য সংক্রান্ত মানসিক সমস্রা রয়েছে। যেমন- ১) অ্যানেরোক্সিয়া নার্ভোসা ও বুলিমিয়া নার্ভোসা।

খাদ্য গ্রহণে মানসিক সমস্যা
খাদ্য গ্রহণে মানসিক সমস্যা

অনিয়ন্ত্রিত, বাধ্যতামুলক এবং বা বার বেশি পরিমা খাবার অল্প সময়ের ব্যবধানে  খাওয়া ও তারপর নিজ থেকে বমি করা, পায়খানা হওয়ার জন্য লাক্সটিভ (জোলাপ) ব্যবহার করা অথবা অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকা ও বেশি পরিমাণে ব্যায়াম করে ওজন বৃদ্ধি প্রতিরোধ করাকেই বুলিমিয়া নার্ভোসা বা বেশি খাওয়ার রোগ বরে। চিকিৎসা বিজ্ঞানী রাসেল ১৯৭৯ সালে এই বুলিমিয়া রোগের বিস্তারিত ব্যখা প্রদান করেছেন। এই ব্যাধিটিকে ব্রিঞ্জ  ইটিংও বলা হয়।

বুলিমিয়া নার্ভোসা রোগের কারণঃ ওজন বৃদ্ধি এবং শারীরিক নানা পরিবর্তন স্বত্তেও খাদ্যেরর প্রতি আর্কষণ বুলিমিয়া নার্ভোসা রোগের প্রধান কারণ। এছাড়া মেটাবলিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সেরোটনিন এর তৎপরতা হ্রাস পায়। কিন্তু যেসব বুলেমিক রোগী বমি করে তাদের রক্তরসে এর মাত্রা বেড়ে যায়। অনেকেই বিষণ্নতায় ভোগেন এবং পরিবারে বিষণ্নতাজনিত রোগীর ইতিহাস পাওয়া যায়। অ্যালকোহলজনিত কারণেও এ রোগ দেখা দিয়ে থাকে। অনেকে আবার বিষণ্নতা দূর করার জন্য বেশি বেশি ঘন ঘন খাওয়ার মাধ্যমে শান্তি খুজে পেতে চেষ্টা করেন।

লক্ষণঃ ব্যাপক হারে খাদ্যেভ্যাস এবং অস্বাভাবিকভাবে শরীরের ওজন বৃদ্ধি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, রোগী প্রতি দুই ঘন্টা অন্তর ক্ষুদার্থ হয়ে উঠছে এবং প্রতি দুই ঘন্টা অন্তর ক্ষুধার্ত হয়ে উঠছে এবং পর্যায়ক্রমে প্রচুর খাদ্যাভাস্যের দ্বারা তার খাদ্যের পূর্ণতা ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি এবং অধিক স্থূলতা সমস্যা, অধিক মাত্রায় পর্যাপ্ত খাদ্যভ্যাস আবার অপুষ্টির সৃষ্টি করতে পারে। যাতে করে শরীরের নানা প্রকার অসুখ বিসুখের সৃষ্টি হয়।

প্রতিক্রিয়াঃ বমি ও জোলাপ ব্যবহারের ফলে রক্তে পটাশিয়ামের পরিমাণ কমে যায়, ফলে কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং রোগীর দাঁতের উজ্জ্বল চকচকে অ্যানামেল ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

চিকিৎসাঃ রোগটা প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রনিক (দীর্ঘস্থায়ী) হয়ে যায়। অ্যান্টিডিপ্রেশান্টস জাতীয় ওষুধ চিকিৎসকের নির্দেশিত ধৈর্য সহকারে খেয়ে যেতে হবে। এছাড়া সাইকোথেরাপি, বিহেভিয়ার থেরাপি এবং গ্রুপ থেরাপি কার্যকরী থেরাপিউটিক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ডাঃ গৌতম কুমার দাস

ফরিদুপুর

Posted on

ক্যালসিয়াম দেহের জরুরি উপাদান

ক্যালসিয়াম দেহের জরুরি উপাদান

দেহের জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। অন্যান্য খনিজ পদার্থ থেকে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেশি। দেহে শতকরা ৯০ -৯৯ ভাগ ক্যালসিয়াম থাকে হাড়ে ও দাঁতে। ক্যালসিয়াম ফসফরাসের সাথে মিলে এই সমস্ত কঠিন তন্তুর কাঠিন্য প্রদান করে। ক্যালসিয়ামের বাকি অংশটুকি শরীরের সমস্ত কোষের ক্রিয়াকলাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। আজকাল অনেক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ বা গর্ববতী মহিলারা ক্যালসিয়াম বা ক্যালাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে মনোযোগী হয়ে উঠছে। যে কোন মাছের কাটা বা নরম হাড় চিবিয়ে রস খাওয়ার মাধ্যমে অতি সহজে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের সবচেয়ে বেশি প্রায় ১৫০০-২০০০ মি. গ্রা। শিশুদের দৈনিক ১০০০ – ১৪০০ মিঃ প্রাঃ এবং প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের  ৮০০- ১০০০ মিঃ গ্রাঃ। দৈনিক আমাদের প্রচুর ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত।

ক্যালষিয়ামের প্রধান উৎসা হল দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য যেমন- দই, ছানা, পণির,  মাখন, ক্ষির  ইত্যাদি। এক গ্লাস পরিপূর্ণ দুধের মধ্যে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় ২৯০ মিঃ গ্রাঃ। চর্বিযুক্ত এবং সর উঠানো দুধে ক্যালসিয়াম সামান্য পরিমাণ বেশি থাকে। দুধে অনেক ভিটামিন এবং উৎকৃষ্ট মানের প্রোটিন থাকে যা ক্যালসিয়ামকে অঙ্গীভূত করতে সাহায্য করে। কোন যুবক ও যুবতী দৈনি তিন গ্লাস দুধ  এবং তার সাথে পনির ও দধি নাস্তা করলে তার প্লোটিগনসহ ক্যালসিয়ামের অন্যান্য উৎসের মধ্যে কাটাসহ ছোটমাছ, ডিমের কুসুম, শিমের বিচি, সবুজ শাক সবজি, লালশাক, পালংশাক, পুইশাক, কচুশাক, ঢেড়শ ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে। আমাদের দেহে ক্যালসিয়াম তৈরি হয় না, অবশ্যই খাবারের মাধ্যমে এর চাহিদা পূরণ করতে হয়। ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের দাত ও হাড়ের সুষ্ঠুভাবে গঠন হয় না। যার ফলে শরীরের শক্তি হয় না। ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের দাঁত ও হাড়ের সুষ্ঠুভাবে গঠন  হয় না। যার ফলে শরীরের শক্তি হয় না। ক্যালসিয়াম স্বল্পতায় শিশুদের হাড়ে এবং পায়ের সুষ্ঠুভাবে গঠন হয় না। যার ফলে শরীরের শক্তি হয় না। ক্যালসিয়াম স্বর্পতায় শিশুদের হাড়ে এবং পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা হয়ে থাকে। ক্যালসিয়ামের অভাব হলে শিশুদের দৈহিক গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হাটাও বিলম্ব হয়। ক্যালসিয়ারেম সাথে ভিটামিন ডি এর অভাব হলে শিশুদের দৈহিক গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হাটাও বিলশ্ব হয়। ক্যালসিয়ামের সাথে ভিটামিন ডি এর অভাব হলে শিশুদের রিকটস রোগ হয় যা পরবর্তীতে শিশু পঙ্গুত্বের অভিশাপ বরণ করে। চল্লিশোর্ধ বয়সে বা রজ নিবৃত্তির পর মহিলাদের ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেড়ে যায়।   এ সময় ক্যালসিয়ামের অভাব হলে অস্টিও পোরোসিস বা হাড় ভঙ্গুর রোগের প্রবণতা বাড়ে অর্থ্যাৎ অল্প আঘাতেই হাড়ে ভেঙ্গে যায়। এ জন্য বয়স্ক মহিলাদের ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অত্যান্ত জরুরী। গর্ভকালীন সময়ে এবং প্রসূতি মায়েদের  অনেক ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম এর ট্যাবলেট খাওয়া প্রয়োজন, কারণ খাবার দ্বারা অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের চাহিদা পুরণ নাও হতে পারে। ক্যালষিয়ামের অভাবে গা, হাত, পায়ে জ্বালা যন্ত্রণা করতে পারে। দেহের বিভিন্ন শিরা উপশিরা পুরু হয়। এ সময় ক্যালসিয়ামের অভাবে মা ও শিশু দুজনেই শারীরিক সমস্যা হয়্ ক্যালসিয়ামের সাহায্যে দাত ও  হাড়ের সুগঠন ছাড়াও আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে তা হৃৎপিন্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন রক্ষা করা, রক্ত জমাট বাধায় সাহায্য করা ও হরমোন প্রক্রিয়া এবং মস্তিষ্কের চোখের কানের প্রক্রিয়ায় ক্যালসিয়ামের ভূমিকা রয়েছে। মাংস পেশির সংকোচনে ক্যালসিয়ামের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কোষ বিভাজনে এবং রক্ত তৈরি তৈরিতে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার বাদ না পড়ে  এবং খাবারের মাধ্যমেই যেন ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ হয়।

 

ডাঃ জোৎস্না মাহবুব খান

মুক্তগাছা, ময়মনসিংহ।

Posted on

রমজানের রোজা ও চোখের শুষ্কতা

রমজানের রোজা ও চোখের শুষ্কতা

 

পবিত্র রমজান মাসে মুসলিম সম্প্রদায় সূর্য উদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আহার থেকে বিরত থাকে। দীর্ঘ সময় আহার থেকে বিরত থাকার রক্তের অন্যান্য উপাদানের সাথে সাথে চোখের জলের ( যা টিয়ার ফিল্ম নামে পরিচিত) পরিমাণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে কি না, এ বিষয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা পরিচালনা হয়ে ফ্যাকাল্টি অব মাইনাস ইউনির্ভাসিটি অব গুইলান ইরান।

রমজানের রোজা ও চোখের শুষ্কতা
রমজানের রোজা ও চোখের শুষ্কতা

গবেষকগণ রোজাদারদের টিয়ার ফিল্ম (চোখের জল) এর উপাদান নিয়ে বিশ্লেষণ করেন, দীর্ঘ উপোস থাকার কারণে রক্তের অন্যান্য রসায়ানিক উপাদানের সাথে সাথে চোখের জলেরও (টিয়ার ফিল্ম) রাসায়নিক উপাদান পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। ডা. সারিরি একজন ইরানি গবেষক চোখের জলের (টিয়ার ফিল্ম) প্রোটিনের পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য ৩৫ জন পুরুষ এবং ২৫ জন মহিলার ওপর গবেষণা চালান। দুই ধাপে তারা টিয়ার ফিল্মের প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণ করেন।

প্রথম পর্যায়ে তারা রোজার এক মাস পূর্বে ৬০ জনের ৯২৫ জন পুরুষ, ২৫ জন মহিলা) টিয়ার প্রোটিনের পরিমাণ নির্ণয় করেন।

দ্বিতীয় পর্যায়ে রোজার ২৫ তম দিনে টিয়ার ফিল্মে উপরোক্ত ৬০ জনের টিয়ার ফিল্মে প্রোটিনের পরিমাণ নির্ণয় করেন।  ইলেক্ট্রোফরেসিস প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, কিছু টিয়ার প্রোটিন উপোস থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কম পাওয়া যায়। যদিও সমষ্টিক প্রোটিনের আধিক্য ধরা পড়ে।

অর্থ্যাৎ এ গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যমতে কিছু উল্লেখযোগ্য প্রোটিনের পরিমাণ উপোস থাকা ব্যক্তিদের টিয়ার ফিল্মে কমে যায় কিন্তু এ প্রোটিনের ঘাটতিই কি উপোস থাকা ব্যক্তিদের চোখের শুষ্কতার জন্য দায়ী ? গবেষকগণ এ ব্যাপারে কোন সদুত্তর দিতে সমর্থ হননি। তারা এটি বলতে সক্ষম হয়েছেন যে টিয়ার প্রোটিনের প্রাপ্ততা চোখের শুষ্কতার সাথে সম্পর্কিত। এক্ষেত্রে গবেষকগণ পরবর্তীতে এ মর্মে উপনীত হন, যেসব  রোগী চোখের শুষ্কতায় ভোগেন তাদের প্রোটিনের পরিমাণ ও গঠনে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় এবং তারাই উপোস হলে প্রোটিনের পরিমাণে আরও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে এবং শুধুমাত্র যে ক্ষেত্রে উপোস থাকলে তাদের চোখের শুষ্কতার আশঙ্কা থেকে যায়।

এ ব্যাপারে বিজরণ জোহানসন এমডিলিন কপিং বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, সুইডেন বলেন তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেখেছেন উপোস থাকা অবস্থায় কখনও কোন ব্যাক্তি চোখের সমস্যায় ভোগেননি। প্রখ্যাত গবেষক ডা. জোহানসন বলেন, উপোস থাকায় দেহের জমাকৃত পুষ্টি কমে, যেটি শরীরে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, তবে শরীরে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এই জমাকৃত পুষ্টি কাজ করে প্রায় ফলে দেহে কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে না।

অর্থ্যাৎ প্রাপ্ত গবেষণা তথ্যমতে আমরা এ মর্মে উপনীত হতে পারি যে, রমজান মাসের রোজা থাকার সাথে চোখের শুষ্কতার কোন সম্ভাবনা নেই।

 

ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ

অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান

চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

শাহবাগ, ঢাকা।

Posted on

মহিলাদের পুরুষালী সমস্যা

মহিলাদের পুরুষালী সমস্যা

 

মহিলাদের কখনও কোনো কারণে যদি কিছু পুরুষালী লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না সত্যি এটা বিব্রতকর অবস্থা। অনেক লজ্জায় এ ব্যাপারে কিছু না বলে রোগ  গোপনে পুষে মানসিক যন্ত্রণায় পীড়িত হতে থাকেন। কিন্তু এটি ঠিক নয়। এজন্য সঠিক জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রয়েছে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবশ্যকতা।

এমন কিচু কারণ আছে যা দেখা দিলে আমরা পুরুষালী লক্ষণ বলে মনে করে থাকি। যেমন পুরুষের মতো গোঁফ, দাড়ি দেখা দেয় বস্তিপ্রদেশে চর্বি কমে যায়, ব্রেস্টের আকার ছোট হয়ে যায়। মাসিক অনিয়মিত বা বন্ধ হয়ে যায়, গলার স্বর ভারি হয়, ভগাঙ্কুরে আকৃতি বৃদ্ধি পায়, সুক্ষ ব্রণ ওঠে ও মুখ তৈলাক্ত হয়। কপালের সামনে ও ভগাঙ্কুরে আকৃতি বৃদ্ধি পায়, সুক্ষ ব্রণ ওঠে ও মুখ তৈলাক্ত হয়। কপালের সামনে ও প্রান্তদেশে চুল উঠে খালি হয়ে যায়, দেহের ঐচ্ছিক মাংসপেশী বৃদ্ধি পায়, যৌনকাঙ্খা বেড়ে  যায়, শরীরে দুর্গন্ধযুক্ত ঘামের সৃষ্টি হয় ইত্যাদি। মহিলাদের পুরুষালী স্বভাবের ন্যায় লক্ষণগুলো দেখা দেয়ার পেছনে যে জিনিস কাজ করে থাকে তা হলো- কোনো কারণে রক্তে পুরুষ সেক্স হরমোন টেস্টস্টোরণসহ অন্যান্য পুং হরমোনর অতিরিক্ত মাত্রা বৃদ্ধি। যত বেমি পরিমাণে পুরুষ সেক্স হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে, ততো অধিকভাবে পুরুষালী লক্ষণগুলো প্রকাশ পাবে। মহিলাদের রক্তেও চার ধরনের হরমোন রয়েছে, ডাইহাড্রো, এপিএএন্ডসটেরণ এবং এর সালফেট যৌগ,এনড্রোসটেনিডিক্ত, এবং টেস্টস্টোরেণ। শতকরা ৫০ ভাগ টেস্টস্টোরেণ ডিম্বাশয় এবং এড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসরিত হয়ে থাকে। বাকি ৫০ ভাগ লিভার ফ্যাট এবং ত্বকে উপস্থিত উপরোক্ত হরমোনগুলোর পুর্ব অবস্থা থেকে বিপাকীয় পর্যায়  থেকে উৎপাদিত হয়ে থাকে। লিভার হচ্ছে টেস্টস্টোরেণ হরমোন বিপাক প্রক্রিয়ার প্রধান অতিরিক্ত টেস্টস্টোরেণ চলে আসে।

মহিলাদের পুরুষালী সমস্যা
মহিলাদের পুরুষালী সমস্যা

পরবর্তীতে দেখা যায়, চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত হরমোনের বিপাক ক্রিয়া সংঘটিত হচ্ছে। পরিমাণে মোটা লোমের জন্ম নিচ্ছে। পুরুষালী লক্ষণগুলোর মাত্রা নির্ভর করলে যে পুরুষ সেক্স হরমোন কতোদিন থেকে এবং কি পরিমাণ অতিরিক্ত নিঃসরিত হচ্ছে তার ওপর। যদিও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পুরুষ সেক্স হরমোন টেস্টস্টোরেনের কারণেও হতে পারে। অন্যদিকে অত্যাধিক মাত্রায় টেস্টস্টোরেন নিঃসরনের পরেও পুরুষালী লক্ষণ তেমন নাও দেখা দিতে পারে। যদি কোনো মহিলার দেহে অবাঞ্চিত লোমের প্রকোপের সাথে মাসিক অল্প হওয়ার লক্ষণ থাকে তাহলে বুঝতে হবে যে পুরুষ সেক্স হরমোন বেড়ে অতিরিক্ত নিঃসরিত হচ্ছে। তাই কোনো মহিলার অবাঞ্চিত লোমের সমস্যা থাকলে ভালোভাবে রোগের ইতিহাস জানতে হবে বিশেষ করে কবে কখন প্রথম মাসিক শুরু হয়েছিল, পূর্বে ও বর্তমানে মাসিক চক্রেও ধরণ ও সমস্যা রয়েছে কিনা ইত্যাদি শারীরিক পরীক্ষা করাতে হবে বিভিন্ন ধরনের পুরুষালী লক্ষণগুলো সনাক্ত করার জন্য। আমাদেরও দেহের কিডনির ওপর বাদামীকৃতির দুটো গ্রন্থি রয়েছে, যাকে কিনা এড্রিনাল গ্লান্ড বা গ্রন্থি বলা হয়ে থাকে। এই গ্রন্থিতে যদি টিউমার হয় তাহলে গ্রন্থির কার্যকারিতা ও নিঃসরণ বেড়ে যাবে অনেক সময় বাচ্চাদেরও জন্মগতভাবে এড্রিনালগ্রন্থি অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সেটা এনজাইম সমস্যার জন্য হতে পারে, এড্রিনালগ্রন্থিও আংশিক এনজাইম স্বল্পতার লক্ষণ বয়োঃবৃদ্ধির পরেও দেখা দিতে পারে। তখন মহিলাদের অবাঞ্চিত লোমের সাথে মাসিক কম হওয়া জনিত সমস্যা  দেখা দিতে পারে, কিন্তু পুরুষালী লক্ষণ দেখা দিবে। এড্রিনালগ্রন্থিও অতিরিক্ত বৃদ্ধি দেরিতে যাদের দেখা দেবে তাদের বেলায়ও শতকরা ২৫ ভাগ মহিলার অবাঞ্চিত লোম সমস্যা ও মাসিক কম হওয়া সমস্যা দেখা দেবে হঠ্যাৎ করেও যদি অবাঞ্চিত লোম ও পুরুষালী লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে এড্রিনালগ্রন্থি অথবা ডিম্বাশয়ে টিউমার হয়েছে বলে ধারণা করতে হবে। যদি এড্রিনালগ্রন্থিতে ক্যান্সার জাতীয় টিউমার হয় তাহলে পুরুষালী লক্ষণ দেখা দেয়, এড্রিনালগ্রন্থি অথবা ডিম্বশয়ে টিউমার হয়েছে বলে ধারণা করতে হবে। যদিও এড্রিনাল গ্রন্থি ক্যান্সার জাতীয় টিউমার হয় তাহলে পুরুষালী লক্ষণেল সাথে রক্তে ডিএইচএ এবং প্রস্রাবে ১৭ কিকোস্টরয়েড মাত্রা বেড়ে যাবে। এক্ষেত্রে টিউমারে ধরণ বোঝার জন্য সিটিস্ক্যানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

অন্যদিকে যদি ওভারী বা ডিম্বাশয়ে টিউমার হয় তাহলে ডিএইচএ  এবং কিটোস্টেরয়েড মাত্রা স্বাভাবিক থাকবে। তবে ডিম্বাশয় থেকে পুং সেক্স হরমোন অতিরিক্ত নিঃসরণ হয় তাহলে এর প্রধান কারণ হচ্ছে ওভারীকে অনেকগুলো সিষ্ট হয়েছে অথবা গ্রন্থিও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেয়েছে বুঝাতে হবে। এক্ষেত্রে পুরুষারী লক্ষণ কমই দেখা যাবে বরং অবাঞ্চিত লোমের সমস্যা হিসাবে প্রকাশ পাবে। এক্ষেত্রে আরো দুটো হরমোন এফএসএইচ মাত্রা কমে যাবে এবং এলএইচ মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।

চিকিৎসাঃ  এড্রিনাল গ্রন্থির কারণে যে পুরুষালী লক্ষণের সমস্যা দেখা দিতে পারে তার চিকিৎসা নির্ভর করে গ্রন্থি সমস্যার প্রকারের ওপর। যে সকল রোগীর এড্রিনাল গ্রন্থি অতিরিক্ত বৃদ্ধি বা হাইপার প্লাসিয়া রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রক্তে কর্টিসেল হরমোনের মাত্রা এবং ফলশ্রুতিতে ACTH হরমোনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। এদের জন্য গ্লুকোকরটিকয়েড ওষুধ প্রতিদিন ব্যবহার করতে হবে, যাতে ACTH এর মাত্রা কমে যায়। তাই প্রেডনিসোলোন ওষুধ হচ্ছে আদর্শ। বাচ্চদের ক্ষেত্রে অবশ্য হাইড্রোকট্রিসন ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে ওষুধ ব্যবহারকালীন দৈহিক বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান করা উচিত। কারণ অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহার দৈহিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সমস্যা করতে পারে।

 

ডা. এম ফেরদৌস

সহযোগী অধ্যাপক, কুমুদিনি উইমেন্স মেডিকেল কলেজ

নাজ ই নূর হাসপাতাল

Posted on

মেয়েদের সাদাস্রাব

মেয়েদের সাদাস্রাব

 

সাধারণ কথায় লিউকোমিয়া বলতে বুঝায় যোনির অতিরিক্ত স্বাভাবিক সাদাস্রাব। সব মেয়েরই কম বেশি সাদাস্রাব থাকে। এই সাদাস্রাবে কোন রক্ত মিশ্রিত থাকবে না,  প্রদাহজনিত কারণে কোন প্রকার দুর্গন্ধ থাকবে না, যোনিপথে বা যোনির মুখে কোন প্রকার চুলকানি থাকবে না। কারও কারও ক্ষেত্রে এই সাদাস্রাবের জন্য কাপড় বা আন্ডার গার্মেন্টস ভিজা থাকে এবং শুকালে এক ধরনের হলদেটে বা বাদামী দাগ লেগে থাকে। সব সময় ভিজা ভিজা ভাব লাগলে অস্বস্তিবোধ করেন। লিউকোরিয়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কেনা দরকার নেই। এটা স্রাব স্বাভাবিক, কোন প্রকার রোগজনিত কারন থেকে এটা হয় না বা এটা কোন জটিল সমস্যা নয়। নারী জীবনের কোনও না কোন সময় অর্থ্যাৎ বয়সরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সাদাস্রাবের সমস্যা হতেই পারে। ১৪-৪৫ বছর বয়সী স্ত্রী লোকের শরীরে স্ত্রী হরমোন বেশি থাকে সেজন্য যোনি কোষস্তর মোটা থাকে। যোনিতে ব্যাসিলাই নামক এক ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে। এরা যোনির মৃত কোষের ভেতর গ্লাইকোজেনকে ল্যাকটিক এসিডে রূপান্তরিত করে। এই ল্যাকটিক  এসিড যোনি পথকে ভেজা রাখতে সাহায করে  এবং যোনীর পিএইচ বজায় রেখে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

কারণঃ কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় মেয়ে বাচ্চা জন্মের প্রথম দশদিন বাচ্চার যোনি পথে আঠালো সাদা স্রাব বের হতে থাকে। এটা দেখে ভয়ের কিছু নেই। এর কারণ হলো গর্ভকালীন সময়ে মায়ের শরীরে স্ত্রী হরমোনের আধিক্য থাকায় সেটা গর্ভফুল দিয়ে কন্যা শিশুর শরীরে প্রভাব ফেলে। প্রথম মাসিক হওয়ার আগে বা মাসিক শেষে অতিরিক্ত সাদা স্রাব হতে পারে। সাধারণ পিরিয়ড শুরু হওয়ার ৩-৪ দিন আগে এবং পিরিয়ড শেষে কয়েকদিন লিউকোরিয়া হয়ে থাকে। সাধারণত নিয়মিত মাসিকের ২ সপ্তাহ পর বা ১৪ দিনের মাথায় যখন ওভিউলেশন হয় অর্থ্যাৎ ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বানু নির্গমন হয় তখন তলপেট ব্যথাসহ লিউকোরিয়া হয়ে থাকে। জন্ম নিয়ন্ত্রনের বড়ি সেবন করলে অতিরিক্ত সাদাস্রাব হতে পারে। গর্ভকালীন সময়ে শরীরে স্ত্রী হরমোন অধিক মাত্রায় থাকলে লিউকোরিয়া দেখা দেয়। সন্তান প্রস্রবের দেড় মাস থেকে ৩-৪ মাস পর্যন্ত লিউকোরিয়া থাকতে পারে। অত্যাধিক যৌন উত্তেজনা বা আবেগও লিউকোরিয়া হতে পারে। যৌবনের শুরুতে প্রজনন অংগে রক্ত চলাচল বেশি হওয়ার জন্যও সাদাস্রাব বেশি হয়ে থাকে। পুষ্টিহীণতা এবং অত্যাধিক মানসিক চাপের কারনে সাদাস্রাব হতে পারে।

কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেনঃ যদি সাদাস্রাব খুব ঘন ও দুর্গন্ধযুক্ত এবং সঙ্গে চুলকানি থাকে তবে বুঝতে হবে জরায়ুর মুখে বা যোনিপথে সংক্রমণ হয়েছে। এ সংক্রমনের জন্য ছত্রাক বা পরজীবী ( ট্রইকোমোনাস) বেশি দায়ী। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে দুর্গন্ধযুক্ত সাদাস্রাব হয়ে থাকে।  তলপেটে এবং যোনিপথে ব্যথা এবং জ্বর জ্বর ভাব থাকতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে এবং দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে সংক্রমণ হয় এবং অতিরিক্ত সাদাস্রাব হয়, জরায়ুর মুখে দীর্ঘদিনের ইনফেকশন বা  ইরোশন থেকেও অতিরিক্ত সাদাস্রাব হয়। পিআইডি বা প্রজনন অংগের ইনফেকশন থাকলে তলপেট, কোমড় ব্যথাসহ লিউকোরিয়া হয়। এসব সমস্যায় অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

চিকিৎসা ও প্রতিকারঃ  সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে বিশেষ করে কাপড় চোপড় এবং বাথরুম পরিষ্কার রাখতে হবে। আন্ডার গার্মেন্টস খুব বেশি পরিষ্কার থাকতে হবে এবং প্রতিদিন বদলিয়ে পরতে হবে। আন্ডার গার্মেন্টস পরার আাগে ইস্ত্রি করে নিলে আরও ভালো হয়। পিরিয়ডের সময় পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত স্যানিটারি প্যাড বা ন্যাপকিন পরতে হবে। অপরিষ্কার বা নোংড়া ন্যাপকিন পরতে হবে। অপরিষ্কার বা নোংড়া ন্যাপকিন ব্যবহার করলে লিউকোরিয়া এবং অন্যান্য ইনফেকশন বেশি হয় এবং চুলকানির মাত্রা অতিরিক্ত হয়।   এজন্য পিরিয়ডের সময় কাপড় ন্যাপকিন ইস্ত্রি করে নিলে ইনফেকশনের হাত থেকে অনেকটা রক্ষা পাওয়া যায়। যদি দেখা যায় জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ার ফলে লিউকোরিয়া হচ্ছে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং বড়ি বন্ধ করে অন্য ব্যবস্থা নিন। পুষ্টিহীনতা এবং ভগ্নাস্বাস্থ্য থাকলে পুষ্টিকর খাবার খেয়ে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হবে। ইনফেকশনের জন্য অতিরিক্ত সাদাস্রাব হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হবে।

ডাঃ জোৎস্না

মুক্তগাছা, ময়মনসিংহ