Posted on

মোটা থেকে পরিত্রাণ

মোটা থেকে পরিত্রাণ

স্কুলে ও বাসার উভয় জায়গায় তিরস্কৃত হচ্ছে ফলে সে তার উদ্বেগ দূর করতে যেয়ে বেশি খাওয়া শুরু করে। আবার মানসিক প্রতিবন্ধীরাও বেশি  খেতে পারে, যেহেতু এটা বুঝতে পারে না যে কখন খাওয়া উচিত বা কখন খাওয়া উচিত নয়।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে আমরা শরীরে হরমোন নিঃসরণকারী গ্রন্থিগুলোর কোন অসুখের কারণে মেদবৃদ্ধি হতে পারে বলে মনে করতে পারি। এ সকল গ্রন্থির মধ্যে রয়েছে।–থাইরয়েড গ্রান্ডের হরমোন প্রয়োজনের তুলনায় কম নিঃসরণ। যাদের এই সমস্যা রয়েছে তাদের ওজন বাড়ার প্রবণতা রয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য গ্রন্থি যেমন- সুপ্রারোনাল গ্রন্থি, পিটুইটারি গ্রন্থি ইত্যাদির সমস্যা থাকলেও শরীরের মোটা হওয়ার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। মেয়েরা অনেক সময় ওভারিতে ছোট ছোট টিউমার হলে, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলে ইত্যাদি কারণেও মোটা হতে পারে।

মোটা থেকে পরিত্রাণ
মোটা থেকে পরিত্রাণ

বয়স

অন্যান্য কারণের মধ্যে দেখা যায় যে, বয়স ভেদে মোটা হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। যেমন- বয়ঃসন্ধিক্ষণে বাড়ন্ত ছেলেমেয়রা বেশি খায় কিন্তু এ সময় শরীর গড়নের জন্য অনেক ক্যালরিও খরচ করতে হয়। এই সময় নিঃসৃত হরমোন শরীরে চর্বি জমাতে সাহায্য করে কিন্তু এই সময়ে অতিরিক্ত ক্যালরি খরচের ফলে মেদ কমে যায়। কিন্তু যারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া দাওয়া করছেন তাদরে শরীরের মেদ জমেছে। মেয়েদের বেলায় মধ্যবয়সে তাদের মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে শরীরের ইস্ট্রোজেন কম হয়ে যায়, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায় তাই অনেক মহিলাই মোটা হয়ে যেতে পারেন। তাছাড়া, এই সময় তারা নিজেদের শরীর নিয়ে খুব একটা ভাবেন না। কাজকর্ম কমে যায় কিন্তু খাওয়া দাওয়া কমে না। অনেকে মনে করেন আর শরীরটা ঠিক করে লাভ নেই। তাই অলসতা তাকে মোটা করে তোলে। তাছাড়া মহিলাদের জরায়ু ফেলে দেয়া অপারেশন করার পরেও অনেকে মোটা হয়ে যায়।

ব্যায়াম ও পরিশ্রম

পরিমিত ব্যায়াম ও পরিশ্রম না করার কারণেও শরীরে মেদ জমতে পারে এবং এই সমস্যা যারা শহরে বাস করেন তাদের মধ্যেই দেখা যায়। কারণ গ্রামের মেয়েরা যেমন খান তেমন পরিশ্রমও করেন, তাই তাদের শরীরে তেমন মেদ জমতে পারে না, অনেক সময় দেখা যায়, বিয়ের পরে মেয়েরা মুটিয়ে যাচ্ছে, এর কারণ হচ্ছে আত্মতৃপ্তি। বিয়ের পরে  মেয়েরা প্রচুর খাওয়া দাওয়া শুরু করেন এবং ঘুমও প্রচুর বেড়ে যায়। ফলে মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। আবার বয়সকালে তাদের হাতে টাকা পয়সা বেশ সঞ্চিত হয়, কর্মজীবনে স্থিতি আসে, মন ও শরীরর দুটোই ভাল থাকে, তাই এই সময় লোক আয়েশি হয়ে পড়ে এবং মোটার প্রবণতা দেখা দেয়।

আরো কিছু কারণ

যে সকল বাড়িতে রান্নাবান্না ভাল হয়ে থাকে সে বাড়ির সদস্যদের মোটা হওয়ার প্রবণতা থাকে। যাদের বাড়িতে মুখরোচক খাবার মজুদ থাকে, তাদের দেখা যায় ক্ষুধা না পেলেও মাঝে মধ্যেই এ সকল খাবার খাচ্ছেন।

যারা মানসিক অবসাদে ভুগছেন তারা অবসাদ নিরসণকল্পে অতিরিক্ত খাওয়ার মাঝে বৈচিত্র্য খুজে পাচ্ছেন। সন্তান প্রসবের পরে মেয়েদের পেট একটু থলথলে হয়ে যায়। তখনও আপাত মোটা হতে পারে। যারা বাচ্চাকে বুকের দুধ দিচ্ছেন তারা বেশি করে খাওয়া দাওয়ার ফলে শরীরে মেদ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।  অপারেশনের পরেও অনেকে মোটা হয়ে পড়েন, এটা অধিক যত্ন নেয়া ও খাওয়ার ফলে। কিছু লোকের বংশগত কারণেও মোটা হওয়া  প্রবণতা দেখা দেয়।

মোটাদের সমস্যা

মেদবৃদ্ধিতে যে সকল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে; ডায়াবেটিক, ব্লাডপ্রেসার, করোনারি থ্রম্বোসিস, হার্টে অসুখ, মোটা মহিলাদের পিত্তথলীতে পাথর ইত্যাদি। যারা রোগা ছিলেন কিন্তু মধ্যবয়সে মোটা হওয়ার ফলে যৌনজীবন যদিও তেমন সমস্যা হয় না, তবে বেশি মোটা হলে নড়াচড়া করতে অসুবিধা হতে পারে। কারণ যৌনক্রিয়া একটি উচ্চ ক্যালরির ব্যায়াম।

মোটা মহিলাদের বাচ্চা হওয়াকালীন সমস্যা হতে পারে তার মধ্যে হাই ব্লাডপ্রেসার ও ট্যাক্সিনিয়া আশঙ্কা বিদ্যামান।

মোটা হওয়া থেকে পরিত্রাণের উপায়

এ জন্য প্রয়োজন বিশেষ কিছু খাবারের ডায়েটিং, ব্যায়াম ও মনের জোর। এর কোন একটার অভাব হলো বা সামঞ্জস্যের অভাব হলে উদ্দেশ্য সফল হবে না। প্রতিবারের জন্য নিম্নলিখিত ডায়েটিং এর উপদেশগুলো মেনে চলতে পারেন।

ডায়েটিং এর জন্য ১০ টি উপদেশ

১) খাদ্য মাংসের পরিমাণ কমিয়ে দিবেন, দিনে একবারের বেশি নয়, বাকি সময় নিরামিষ খাবেন। মুরগির মাংস  এদিক নিয়ে আদর্শ। গরু, ছাগলের মাংস কিনলে চর্বি কম দেখে কিনবেন। রান্না করলে ছোট ছোট টুকরো করে রান্না করবেন।

২) তেল কম দিয়ে রান্না করবেন। প্রয়োজনে রান্নার ভুট্রার তেল বা সূর্যমুখীর তেল ব্যবহার করবেন।

৩) মাংস রান্নার আগে চর্বিগুলো বাদ দিবেন।

৪) কাঁচা ও সবুজ শাকসবজি বেশি করে খাবেন। শিম ও নানারকমের ভাল খাবেন। সিদ্ধ করে খাবার চেষ্টা করবেন।

৫) দুধ ও দই খেতে হলে মাঠাভোলা খাবেন।

৬) গরু ও খাসির মাংসের পরিবর্তে মুরগি ও মাছ পছন্দ করুন।

৮) ভাত, রুটি কম খাবেন। ফলমূল বেশি খাবেন, পাউরুটি মাখন ছাড়া খাবেন, টোস্ট করে খেলে ভাল হয়।

৯) খাবার একবারে অনেকটা না খেয়ে বারে বারে কম করে খাবেন। কিন্তু বারে বারে যেন বেশি ক্যালরির খাবার খাওয়া না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। তবে শসা, সালাদ, ফলমুল, হালকা লাঞ্চ বা ডিনার খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

১০) সপ্তাহে  এক দু দিন রোযা রাখবেন। রোষার আগে সেহরি ও পরে ইফতারিতে আবার বেশি খাবেন না। নিম্নলিখিত অভ্যাসগুলো বর্জন করার চেষ্টা করবেন।

১০টি অভ্যাস

১) জাস্ট ফুড দোকানে যে সকল খাবার পাওয়া যায়  এগুলো ক্ষুধা পেলে খাওয়া উচিত নয়। কারণ সেখানে যে সকল বার্গার, রোল ইত্যাদি পাওয়া যায় তা হলে আরো মেদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

২) মাখন, ক্রিম, ক্রিমাটিজ আইসক্রিম, ক্রিমযুক্ত দুধ খাবেন না।

৩) সপ্তাহে দুটোর বেশি ডিম খাবেন না।

৪) অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার পেষ্ট্রি, কেক, সিঙ্গারা ইত্যাদি খাওয়া কমিয়ে দিবেন।

৫) ফলমূল ও অ্যানাজ কাটার আগে ধুয়ে নিবেন। কাটার পর ধুলে পুষ্টি কমে যাবে।

৬) সকালে নাস্তা না খেয়ে অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়।

৭) টিফিনের সময় কাজু বাদাম, ক্রিমযুক্ত বিষ্কুট ইত্যাদি খাবেন না।

৮) আপনার জীবনযাত্রার সাথে মানানসই নয় এমন ডায়েটিং করবেন না।

৯) অনেকে ডায়েটিং শুরু করার দু এক সপ্তাহের মধ্যে এমন মনে করেন যে, এখন কমে যাবে। সেটার দেখা না পেলে হতাশ হয়ে পড়েন, ফলে ডায়েটিং করা ছেড়ে দেন। এটা ঠিক নয়, ধৈর্য ধরে ডায়েটিং করে যেতে হবে।

১০) পরিশেষে বলতে চাই, ব্যক্তি বিশেষের শারীরিক অবস্থার উপর খাদ্য তালিকার রদতবদল ঘটতে পারে যেমন – কারো দু চার চামচ ভাত খেলেই ওজন বাড়ে, তাই তার উচিত ভাত না খেতে চেষ্টা করা। কারণ অঙ্কের হিসেবে হয়তো শরীর সব সময় চলে না।

 

ডাক্তার এম ফেরদৌস

চর্ম যৌন ও কসমেটিক বিশেষজ্ঞ

সহকারী অধ্যাপক

কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ রাশমনো হাসপাতালে

Posted on

দুধ

দুগ্ধং পিবতি … ?

 

ভারতবর্ষে বেশির ভাগ মানুষই নিরামিষাশী তাই দুধ নিয়ে এদেশে হইচই টা খুব বেশি।  বাঙ্গালীর তো ভালো খাবার তৈরি করতে হলেই দুধ আর চিনি চাই। দুধ চিনি দিয়ে  তৈরি দোকানের নানা মিষ্টি যেমন খাচ্ছে বাঙ্গালী তেমনি খাচ্ছেন বাঙ্গালীর নানা দেবতা।  বাংলার ঈশ্বরী পাটনীও স্বয়ং ঈশ্বরীকে তুষ্ট করে বর চেয়েছিল – আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।

কিন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায় যে দুধ নিয়ে আমাদের এইসব প্রচলিত ধারণাগুলো বহুলাংশেই অবৈজ্ঞানিক।

পুষ্টিতাত্বিকরা বলছেন,

শুধু মানুষই নয়, যে কোন স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে স্তন্যনির্ভর শৈশব ছাড়া  অন্য কোন বয়সেই দুধ স্বাভাবিক খাদ্য নয়।

দুধই যখন আমাদের একমাত্র খাদ্য তখন সেই দুধের যোগাড় আসে মাতৃস্তন্য থেকে।  মা যদি সুস্থ ও স্বস্থ্যবতী হন, এবং তাঁর আহারে যদি প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকে, তাহলে মাতৃস্তন্যই হচ্ছে স্তন্যনির্ভর শিশুর শ্রেষ্ঠ খাদ্য।

মাত্রদুগ্ধের এমনই ধর্ম যে  শিশুর যত বয়স বাড়ে মাতৃদুগ্ধে প্রোটিন প্রভৃতির পরিমাণও সেই অনুসারে প্রয়োজনমতো বাড়তে  থাকে। শুধু তাই নয় ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় এর Dr.Steven Gross লক্ষ্য করেছেন যে যথাসময়ের পূর্বেই যদি সন্তান জন্মে  যায় তাহলেও মাতৃদুগ্ধে প্রোটিন, সোডিয়াম এবং ক্লোরাইডের উপস্থিত এমন  পরিমাণে নিয়ত্রিত হয়, যা ঐ অসময়ে জাত শিশুটিও সহজে হজম করতে পারে।

কিন্তু স্তন্য নির্ভর শৈশবের পর, মাতৃস্তন্য ছেড়ে দিলেও পরবর্তীকালে আমরা অন্য প্রাণীর দুধ খাওয়াটা চালিয়ে যাই। এটা  একটা এদেশে ওদেশ দীর্ঘকাল ধরেই আমরা বিশ্বাস করে চলেছি।  ফলে মায়ের দুধ ছাড়বার পরেও আমাদেরর ঘরে ঘরে শিশুদের অন্য কোন প্রাণীর দুধ খাওয়ানোর রেওয়াজ।

কিন্তু মাতৃস্তন্য ছাড়িয়ে শিশুকে সরাসরি নির্জলা গুরুর দুধ খাওয়ানোর বিশেষ বিপদ আছে। গরুর দুধে মাতৃস্তন্যের তিন গুণ পরিমাণ প্রোটিন থাকে বলে সরাসরি গরুর দুধ খেয়ে শিশুর হাইপারনেট্রেমিক জল –সংকট দেখা দিতে পারে।  এ জাতীয় জল –সংকট অত্যান্ত মারাত্মক। কেননা এতে মস্তিষ্ক ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে, এমনকি  মৃত্যুও হতে পারে কয়েক ঘন্টায় মধ্যে!

তাছাড়া আগেই বলেছি কারবোহাইড্রেটের চেয়ে প্রোটিন হজম করতে সাত গুণ বেশি জল দরকার হয়।  এজন্য যে সমস্ত শিশু কোনো কারণে মাতৃস্তন্য থেকে বঞ্চিত হয়ে বোতলের দুধ খায়, তাদের শরীরে প্রোটিন বিপাকে উৎপন্ন দূষিত পদার্থ বের করে দিতে প্রচুর জল খাওয়াতে হয়।

সর্বোপরি গুরুর দুধে রয়েছে মাতৃদুগ্ধের চেয়ে দস্তুর মতো বেশি পরিমাণে প্রাণিজ ফ্যাট ও কোলেসটেরল। তাই শিশুকে  দাঁত ওঠার পরবর্তীকালে গরুর দুধ খাওয়ানোর অর্থ তার শরীরে বাড়তি প্রোটিন –কোলেসটেরল ফ্যাট জনিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাবকেই প্রশ্রয় দেওয়া।

আসল কথা, মাতৃদুগ্ধ ছেড়ে শিশু যখন বড়দের মত রুটি, সবজি, ফল প্রভৃতি খেতে পারে তখন তাকে ঐ সব খাদ্যই দেওয়া উচিত। তাতেই তার স্বাভাবিক পুষ্টি হতে পারে।

গান্ধীজি বলেছেন, “এ বিষয়ে প্রকৃতির নিয়ম লক্ষ্য করা যাউক।গো –বৎসের দন্তোদগম হইলেই সে আর দুগ্ধ পান করে না।  মানুষের আচরণও তদ্রূপ হওয়া উচিত।  ফলমূল আহার করিতে শিখিলে আর দুগ্ধ ব্যবহার উচিত নহে। ইহা প্রাকৃতিক নিয়মের বিরোধী। দুগ্ধ শিশুরই জন্য”

সভ্য সমাজে এদেশে ওদেশে দুধের মাধ্যমে বাড়ন্ত শিশুর ক্যালসিয়াম যোগানো নিয়ে একটা ব্যস্ততা আছে।  কিন্তু এ ব্যস্ততারও কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।  মতৃস্তন্য ছাড়বার পর কোনোরকম দুধ খায়নি বলে শিশুর  শরীরে ক্যালিসিয়াম এর ঘাটতি ঘটেছে এরকম কোন নজির বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবেও নেই।

মাথার কাজ যারা করে তাদের দুধ খাওয়ার দরকার – এটি আর একটি চলিত ভ্রান্ত ধারণা ওরগণ এর Dr. Morice Bowerman তাঁর Milk and Thought Disorder গ্রন্থে লিখেছেন যে পরীক্ষাধীন একাধিক মানসিক রোগী – যাঁরা বেশ কয়েক বছর ধরে এলোমেলো চিন্তা, নিরাসক্তি, ক্ষীণস্মৃতি, মানসিক সক্রিয়তার অভাব এবং সর্বোপরি সব কাজে ক্লান্তিতে ভুগছিলেন তাঁদের খাদ্য থেকে যখন দুধ বাদ দেওয়া হয়, তখন শতকরা আশি জনের সব দুর্লক্ষণ চলে যায় এবং দশ জনের ক্ষেত্রে দেখা যায় মানসিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি।

 

তাহলে দুধ খাব কি ?

দুধ নিয়ে সব রকম বিচার বিশ্লেষণ করে পুষ্টিবিদরা বলছেনঃ

মাখন –যুক্ত দুধ নয়, জনপ্রতি প্রত্যহ সর্বাধিক এক গ্লাস স্বল্প ফ্যাট-যুক্ত স্কিমড মিল্ক বা মাখন তোলা দুধ বা পাঁচ টেবিল চামচ স্কিমড মিল্ক পাউডার অথবা সেই পরিমাণ দুগ্ধজাত বিভিন্ন খাদ্য –ছানা প্রভৃতি খাওয়া যেতে পারে।  আর যদি কারো পনিরের দিকে ঝোঁক থাকে তবে তিনি নির্ধারিত পরিমাণ স্কিমড মিল্ক পাউডার ও তৎজাত বিভিন্ন খাদ্যের বদলে প্রত্যহ সর্বাধিক ২৮ -৫৬ গ্রাম ১০০% স্কিমড মিল্কের পনির খেতে পারেন।  যে সব ছেলে মেয়ে স্বল্প প্রোটিন –যুক্ত খাদ্য খায় তারাও সারাদিনে মোট এক গ্লাস স্কিমড মিল্ক খেতে পারে।  গর্ভবর্তী নারীর ক্ষেত্রেও এ কথা বলেছেন।

এই স্কিমড মিল্ক এর ব্যবহার প্রসঙ্গে মহাত্মাজী বলেছেনঃ

Contrary to the popular belief, skimmed milk is a very valuable article of diet.. The chief function of milk is to supply animal protein for tissue repairs. Skimming, while partially removes the fat, does  not affect  the protein at all.

 

দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের পুষ্টি-উপাদান

(প্রতি ১০০ গ্রাম ওজনে)

 

ক্যালরি                           প্রোটিন                ফ্যাট                  কার্বোহাইড্রেট                           এ

মাতৃদুগ্ধ                           ৬৫                    ১.১                    ৩.৮                   ৭.৪               ১৩৭

গরুর দুধ                         ৬৭                    ৩.২                   ৪.১                    ৪.৪                ১৭৪

স্কিমড মিল্ক                       ২৯                    ২.৫                  ০.১                     ৪.৬

হোল মিল্ক                        ৪৯৬                  ২৫.৮                 ২৬.৭                ৩৮.০           ১৪০০

মহিষের দুধ                      ১১৭                   ৪.৩                  ৮.৮                   ৫.১              ১৬০

ছাগলের দুধ                     ৭২                    ৩.৩                  ৪.৫                     ৪.৬               ১৮২

পনির                              ৩৪৮                  ২৪.১                 ২৫.১                 ৬.৩               ২৭৩

ছানা(গরুর দুধের)          ২৬৫                  ১৮.০                 ২০.৮                 ১.২               ৩৬৩

দই (গরুর দুধের)            ৬০                    ৩.১                   ৪.০                    ৩.০               ১০২

ঘোল                               ১৫                    ০.৮                   ১.১                     ০.৫                +

 

অবশ্য দই এর কথা অলাদা।

প্রসঙ্গত মাছ মাংস যাঁরা খান তাঁদের জন্য উল্লেখিত পরিমাণ – স্কিমড মিল্ক/পাউডার বা ১০০% স্কিমড মিল্কের পনির খাওয়া পুষ্টিবিজ্ঞানসম্মত। যাঁরা মাছ মাংস খাননা তাঁরা ঐসব খাদ্য প্রত্যহ সর্বাধিক গ্রহণ করতে পারেন দ্বিগুণ পরিমাণে।

 

টক দই, না লাল – বজারী ?

এদেশে বহু প্রদেশের লোকের মধ্যেই নিয়মিত টক দই খাওয়া রেওয়াজ। মাদ্রাজীরা দই ভাতে সন্তুষ্ট। কত পাঞ্জাবী পরিবারে দই-রুটি আর আচারেই সানন্দ নেশাহার।

বাঙালীর খাদ্য তালিকায় দই প্রতিদিন থাকে না। থাকলেও মিষ্টি দই খেতেই বাঙ্গালী অভ্যস্ত। অথচ বাঙ্গালী ছাড়া আর কোনো প্রদেশের লোক মিষ্টি দই খায় না।  কিন্তু টক দই এর উপকার মিষ্টি দই এ পুরোপুরি পাওয়া যায় না।  মিষ্টি লাল বাজারী দই উপকারের  চেয়ে অপকার করে বেশি।  দই পাতার সময় দুধের সঙ্গে চিনি মেশালে মিষ্টি দিই।  কিন্তু চিনি থাকলেই অ্যাসিড হওয়া থেকে শুরু করে শরীরে নানা দূর্বিপাকের সম্ভাবনা।

আমাদের জাতীয় পুষ্টি সংস্থার মতে একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দুপুরে দুইশত গ্রাম আর রাতের ভোজনে  দুইশ গ্রাম টক দই খাওয়া দরকার। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ এর পুষ্টিবিদদের অভিমত, স্কুল যাবার আগের বয়সের শিশুদের রোজ দুইশ গ্রাম টক দই খাওয়ান উচিত।  কেননা খাওয়ার সময় দই বা ঘোল খেলে সমস্ত খাদ্যের প্রোটিন –মূল্য ভালোরকম বেড়ে যায়।

বস্তুত পুষ্টির দিকে দৃষ্টি রাখতে হলে টক দই আমাদের খাদ্য তালিকায় অন্তুর্ভূক্ত করতেই হবে। কেননা টক দই এর উপকারীতা এত রকম যে নিয়মিত টক দই একটু না খেলে প্রকৃতপক্ষেই  আমার একটি সুলভ অথচ পুষ্টি মূল্যবান খাদ্য থেকে নিজেদের বঞ্চিত করব।

তবে টক দই এর উপকার জানার আগে দরকার এ সম্পর্কে  আমাদের কয়েকটি বদ্ধমূল ধারণার সত্যি মিথ্যে যাচাই করা।

এই ধরণাগুলি হলঃ

  • দই খেলে অ্যাসিড হয়।
  • মাংস খাওয়ার পর দই খাওয়া উচিত নয়।
  • দই খেলে ঠান্ডা লাগে, গলা নষ্ট হয়।

দই খেলে অ্যাসিড হতে পারে না।  দই নিজেই অন্য খাদ্যের পরিপাক করিয়ে অ্যাসিড হতে পারে না।   দই নিজেই অন্য খাদ্যের পরিপাক করিয়ে অ্যাসিড নষ্ট করে।

মাংস খাওয়ার পর দই আনায়াসে এবং নিশ্চিন্তে খাওয়া চলে।  দই এর একটা  ধর্মই হল আমিষকে হজম করানো আর নিরামিষের খাদ্যগুণ বাড়িয়ে দেওয়া।

দই খেলে ঠান্ডা লাগে বা গলা নষ্ট হয় এটাও মিথ্যে ধারণা।  দই যে গলার কোন  ক্ষতি করে না এ আজ পরীক্ষিত সত্য। তবে ফ্রিজে রাখা হিমশীতল  দই খেলে গলার ক্ষতি হতেই পারে।

এবার আসুন দই এর অগণিত গুণাবলী আর উপকারের প্রসঙ্গে।

দই থেকে তৈরি ঘোল বা লস্যি বা শুধু যে মুখোরচক তাই নয়, এর উপকারও বিবিধ। পেট গরম হলে,  পেটে বায়ু হলে এমন কি সর্দি হলেও ঘোল পান করলে উপশম হয়।  দই পাকস্থলীতে খাবারের পচন প্রতিরোধ করে। পেটে দিয়ে তৈরি করে ভিটামিন- বি। পেটের ভেতরে ঘা সারাতে দই অত্যাস্ত প্রয়োজনীয়।  শরীরের উত্তাপ নিয়ন্ত্রণ করার  কাজেও এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

দুই কোষ্ঠ বদ্ধতা দূর করে, অর্শের পক্ষেও দই উপকারী।

দুই অকাল বার্ধক্য ও চুলপাকা বন্ধ করে।  মুখে মাখলেও চামড়া মসৃন হয় ও মুখের দাগ উঠে যায়।

শিশু থেকে বৃদ্ধ দই, সকলের জন্যই সমান পুষ্টিকর।  দই মানুষের শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস গ্রহণে সাহায্য করে। এই দুটি উপাদানই শিশুদের মস্তিস্ক এবং হাড় দাগ গঠনে প্রয়োজীয়।

বৈজ্ঞানিকেরা আজ  নিঃসন্দেহে –  দই পরমায়ু বাড়ায় .. নানাবিধ রোগের আক্রমণ ঠেকায়, এমনকি কোন কোন কর্কট রোগ বা ক্যানসারের প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

অনেকে আবার দুধের ভক্ত কিন্তু  দুধই সহ্য করতে পারে না। এই পেটে ফাঁপলো না হয় হজম হলো না, পেট দম হলো – সেখানে কিন্তু দুধের বিকল্প হচ্ছে দই।

Gastro intestinal disturbance, যকৃতের রোগ, ডায়েরিয়া, Nephritis বা কিডনির রোগ Colitis,রক্তশুন্যতা বা anemia, ক্ষুধা-মান্দ্য বা অক্ষিধে  Intestisl inntoxication  এই সমস্ত রোগে এখনকার ডাক্তাররা প্রচুর পরিমাণে দই খেতে পরামর্শ দেন।  কেউ কেউ  বললেনে, দই নিজেই অনেকটা Natural Antibiotic  এর মতো কাজ করে..।  আরও একদল বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য করেলৈন যে দইয়ের Tumour প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রয়েছে। বলতে কি , দইয়ের ব্যাকটেরিয়া ক্যানসার রোগে অনেকটা উপশম হয়েছে।  এখন এটা নিঃসন্দেহে প্রমাণিত যে দইয়ের আর কোন ব্যাকটেরিয়া Lactobacillus acidophilus মলাময় বা  Colon – এর cancer এর অন্যতম প্রতিষেধক।

আধুনিক একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে বুলগেরিয়ার লোকেরা প্রচুর পরিমাণে দই খান  বলে দীর্ঘজীবী।  খুঁতখুঁতে লোকেরা বললেন – তাঁদের হৃদপিন্ড সরল  আর মজবুজ সেটাই তাঁদের দীর্ঘজীবনের আসল কথা। কিন্তু  বৈজ্ঞানিকেরা অনেক  পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এক বাক্যে জানালেন – দই, বুলগেরীয় লোকের রক্তে CHOLESTEROL আশাতীত কম রাখে – সেটাই তাঁদের দীর্ঘায়ুর গোপন কথা।

আরও একটা সমীক্ষায় দেখা গেল আফ্রিকার আদিবসী  মাসাই – রা  দৈনিক দু গ্যালন পরিমাণ দই খেয়ে থাকেন, সেই কারণে তারাও দীর্ঘজীবী, অনেক বয়েস পর্যন্ত সুস্থ –সবল দেহে গরসংসার করেন। ল্যাবরেটরীর নিভৃত – কোণে বৈজ্ঞানিকেরা এখন উঠে পড়ে লেগেছেন – দইয়ের মধ্যে কি সেই কারণ বা ফ্যাক্টর যা, কোলেসটেরল কে রক্তে আশাতীত কম রাখে।

সাবধান করে দেই, দই কখনও বেশি বাসি করে বা তিন চার দিন পর খাবেন না। এতে বিপদ হতে পারে।  Bacterial food poison, Bacterial dysentery বা Fungal food poison সম্ভাবনা রয়েছে।

আর  একটা কথা। সব সময় ঘরে পাতা দই খাবেন আর স্কিমড মিল্ক বা মাখন তোলা দুধের থেকে তৈরি দই হল সবচেয়ে উপকারী, বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসম্মত।  কেননা সেক্ষেত্রে বাড়তি ফ্যাট ও কোলেসটেরল গ্রহণ থেকেও আপনি পারছেন মুক্ত থাকতে।

Posted on

মাংসে রোগের বংশ বাড়ে

মাংসে রোগের বংশ বাড়ে

 

অষ্ট্রিয়ার Arnold Lorand তাঁর Old Age Deferred গ্রন্থে পুরো একটি অধ্যায় জুড়ে অতিরিক্ত মাংসারের বিপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। অতিরিক্ত মাংসাহার সম্পর্কে তিনি যে সব মন্তব্য করেছেন এবং অন্যান্য গবেষকদের যে সব মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন সেগুলো এক জায়গায় করলে জানা যায়ঃ

  • মাত্রাধিক মাংসাহারে শরীরে টক্সিন বা অধিবিষের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিশেষ করে লিভার, কিডনি, প্যানক্রিয়াস প্রভৃতি জরুরী প্রাণরক্ষক অঙ্গগুলি ক্ষতি হয় থাইরয়েড গ্রন্থির, সৃষ্টি হয় বাত, আরথ্রাইটিস ও
  • অধিক মাংসাহার প্রায়ই ক্যাসারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
  • অতিরিক্ত মাংসাহার কখনও কখনও ডায়াবেটিস ডেকে আনে। তাছাড়া ডায়াবেটিক রোগী বেশী মাংস খাওয়া শুরু করলে রোগের তীব্রতাও বেড়ে যায়।
  • অত্যাধিক মাংসাহার রক্ত – ঘনত্ব বাড়িয়ে দিয়ে রক্ত চালাচল বিঘ্নিত করে। তাছাড়া এর ফলে শরীরে এত অম্লের সৃষ্টি হয় যে তার প্রভাব কিছুটা সামলাতে হলে খেতে হয় প্রচুর ফল ও সবজি।
  • মাংসাহার অন্ত্রের এর সহায়ক নয় বলে মাংসাহারীদের ক্ষেত্রে কোষ্ঠবদ্ধতা অনিবার্য হয়ে পড়ে। এবং এই কৌষ্ঠবদ্ধতার জন্য যে টক্সিন শরীরে জমে সেটা কিডনিকেও বিব্রত করে।
  • দীর্ঘকাল অত্যাধিক মাংসাহারের ফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তির স্নায়বিক বিশৃঙ্খলা দেখা যায়।
  • নিরামিষ আহারীদের তুলনায় দেখা গেছে মাংসাহারীদের মধ্যে নিউয়াসথেনিয়া এবং হিস্ট্রিরিয়া রোগের সংখ্যা বেশি। তাছাড়া নানরকম স্নায়ুবিক বিকারে মাংস বর্জন করিয়ে দেখা গেছে রোগীর অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
  • যাঁরা লিভারের রোগে ভুগছেন মাংসাহারে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয় কিন্তু মাংস ছেড়ে দিলে অবস্থা অনেক আয়ত্তে আসে।

 

১০০বা ততোধিক আয়ু যাঁরা পেয়েছেন এরকম মানুষের আহার্যের খবর নিয়ে দেখা গেছে যে এঁদের মধ্যে অতিরিক্ত মাংসাহারী নেই বললেই চলে। বেশিরভাগই একেবারেই মাংস খান না; আর অনেকে আছেন যাঁরা বয়স বাড়তেই মাংসাহার ছেড়ে দিয়েছেন।

 

মাছ – মাংস খেতে হবে কি ?

খেলে কতটা ?

মাছ, মাংস, দুধ প্রভৃতি প্রাণিজ প্রোটিন পুরোপুরি পরিহার করলে পাঁচ হইতে দশ বছরের মধ্যে আপনার  শরীরের ভিটামিন বি ১২ এ অনেক বেশি যোগান শরীর পাবে। কেননা যদিও এই ভিটামিন শুধুমাত্র প্রাণিজ প্রোটিনেই পাওয়া যায় তবু শরীরে এর প্রয়োজনীয়তা খুবই সামান্য – প্রত্যহ এক গ্রামের দশ লক্ষ্য ভাগের একভাগ।

প্রায় 80 বছর আগে 1908 সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে আমেরিকার ছাত্রদের উপর এমন কি সৈন্যদের উপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে প্রত্যহ 3h গ্রাম মাছ/মাংস খাওয়াই যথেষ্ট।  এই অল্প পরিমাণ প্রাণিজ প্রোটিনেও ব্যক্তির কর্মকুশলতা ও শক্তির কোনো অভাব হয় না।

কিন্তু অভাব না হলে কি হবে ?  শুধু আমেরিকা কেন সব উন্নত দেশেই অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়াটা এমন একটা স্বভাবে দাঁড়িয়ে গেছে।

আহার্যে প্রোটিনের এই ভয়াবহ আধিক্য লক্ষ্য করে, প্রিটিকিন জনপ্রতি মাছ/মাংস গ্রহণের দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্রা  98গ্রামে সীমিত রাখবার নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে এ ব্যপারে আমরা ভারতবাসীরা কিছুটা নিশ্চিন্ত, বিশেষ করে যারা নিম্ন মধ্যবিত্ত Indian Council of Medical Research তাঁদের গবেষণার ভিত্তিতে মাছ/মাংস সুপারিশ করেছেন জনপ্রতি প্রত্যহ ত্রিশ গ্রাম। এ জন্য ভারতবর্ষে প্রিটিকিন আহারীর পক্ষে মাছ/মাংস প্রত্যহ ত্রিশ থেকে আটানব্বই গ্রামের সঙ্গেই সীমিত রাখা উচিত। সত্যি বলতে  সাধারণত ত্রিশ গ্রামের বেশি মাছ – মাংসের ক্রমবর্ধমান অগ্নিমূল্য তাই আমাদের কাছে অভিশাপের বেশে আশীর্বাদ।

প্রসঙ্গত, পশুমাংসের চেয়ে মুরগি প্রভৃতি পাখীর মাংস খাওয়া অনেক নিরাপদ কেননা তাতে ফ্যাট কম, কোলেসটেরল কম।  অবশ্য পাখীর মাংসের চেয়ে আরো বেশি নিরাপদ হল ছোট মাছ বা lean fish খাওয়া।

 

বিভিন্ন প্রাণীর মাংসের প্রধান পুষ্টি –উপাদান

(প্রতি 100 গ্রাম ওজনে উপস্থিত ফ্যাট – এর ক্রমানুসারে) (গ্রাম হিসাবে)

ক্যালরি               প্রোটিন                            ফ্যাট

মুরগি                  ১০৯                  ২৫.৯                             ০.৬

কচ্চপ                 ৯৩                    ১৫.০                             ১.২

গরু                    ১১৪                   ২২.৬                             ২.৬

ছাগল                 ১১৮                   ২১.৪                             ৩.৬

শূকর                  ১১৪                   ১৮.৭                             ৪.৪

ভেড়া                  ১৯৪                  ১৮.৫                             ১৩.৫

Posted on

বায়ু

বায়ু

“বায়ু যা স্বর্গীয় অনুগ্রহ বা আর্শীবাদ তা  সকলের কাছে যেন সহজলভ্য হয়, এবং এটি সকলকে এর প্রভাবে প্রাণবন্ত এবং সজীব করবে যদি এর প্রবেশ পথ রুদ্ধ না করা হয়। বায়ু নামক পদার্থটিকে স্বাগতম জানান এর সাথে একটি নিবিড় প্রেম স্থাপন করুন, তাতে এটি স্নায়ুর প্রশান্তি দানে সহায়ক হবে। বায়ু বিশুদ্ধ রাখতে হলে এটি অবিরত চলমান বা সঞ্চালনশীল রাখতে হবে। Continue reading বায়ু

Posted on

পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ !

পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ !

 

অনেক অনেক জিনিস আমরা সহজলভ্য বলে তার মূল্য দিতে অপারগ হই। আবার সেটির মূল্য বুঝতে পারি যখন দুস্পাপ্য হয়ে যায়। পানি তেমনি একটি যৌগিক পদার্থ। মরুভূমিতে শূণ্য পানির বোতল হাতে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিটি সব চাইতে বেশি যা দরকার পরে তা হচ্ছে পানি। Continue reading পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ !

Posted on

ডায়াবেটিস এর জন্য খালি বা শুন্য ক্যালোরি

খালি বা শূণ্য ক্যালোরি

আমি প্রথম বারের মত খালি ক্যালোরি নামক কথাটি শুনেছিলাম যখন আমরা এবং অপর আর এক পরিবার একসাথে কোথাও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলাম। দুই পরিবারের দুই মা মিলে আমরা যখন খাবার কিনতে যাই তখন অপর মা বললেন, “ আমরা যেন খালি ক্যালোরি জাতীয় খাদ্য অন্তর্ভূক্ত না করি।” আর আমি এখানেই এ কথাটির সাথে প্রথম পরিচিত হই। Continue reading ডায়াবেটিস এর জন্য খালি বা শুন্য ক্যালোরি

Posted on

ক্যালসিয়াম এবং আমাদের অস্থিসমূহ

ক্যালসিয়াম এবং আমাদের অস্থিসমূহ

আমরা যখন আমাদের দেহের ক্যালসিয়ামের কথা বলি, তখন প্রায় সাথে সাথেই আমদের হাড় এবং দাতের কথা মনে পড়ে। যারা মধ্য বয়স পেরিয়ে গেছেন তাদের মধ্যে ক্যালসিয়াম স্বল্পতা দেখা যায়। এ সত্যটি পুরুষদের চাইতে মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য্ Continue reading ক্যালসিয়াম এবং আমাদের অস্থিসমূহ

Posted on

ব্যায়াম

ব্যায়াম (শরীর চর্চা)

 

“মুক্ত বাতাসে স্বাস্থ্য সম্মত ব্যায়াম পেশী শক্তিশালী করে, রক্ত সঞ্চালন তন্ত্রের কাজ সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করে, দেহকে রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে…. এবং এতে আধ্যাতিকতার বিশেষ উপকার সাধিত হয়।” Continue reading ব্যায়াম

Posted on

স্থুলদের ফুসফুসে রক্ত জমাট

স্থুলদের ফুসফুসে রক্ত জমাট

 

মুটিয়ে গেলে কষ্টের আর অন্ত নেই। নিজের যেমন চলতে ফিরতে সমস্যা। মেতনি শরীরটাও হয়ে ওঠে নানান রোগের  এক মিউজিয়াম। বহুল পরিচিত এবং আলোচিত হৃদরোগ ‘স্ট্রোক’। ডায়াবেটিসের সাথে ফুসফুসে রক্তের চাকা জন্ম হওয়া অর্থ্যাৎ ‘পালমোনারী থ্রোম্বে এম্বোলিজম’ এক মারাত্মক ঘাতক। Continue reading স্থুলদের ফুসফুসে রক্ত জমাট

Posted on

ভুরি কমানোর উপায়

ভুরি কমানোর উপায়

20  টি চর্বি হ্রাস কার্যকর টিপস (বিজ্ঞান দ্বারা সমর্থিত)
পেটের চর্বি এমন একটি বিরক্তির বিষয় যা আপনার কাপড়কে শক্ত করে তোলে।

এটা গুরুতর ক্ষতিকারক। Continue reading ভুরি কমানোর উপায়