Posted on

মোটা থেকে পরিত্রাণ

মোটা থেকে পরিত্রাণ

স্কুলে ও বাসার উভয় জায়গায় তিরস্কৃত হচ্ছে ফলে সে তার উদ্বেগ দূর করতে যেয়ে বেশি খাওয়া শুরু করে। আবার মানসিক প্রতিবন্ধীরাও বেশি  খেতে পারে, যেহেতু এটা বুঝতে পারে না যে কখন খাওয়া উচিত বা কখন খাওয়া উচিত নয়।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে আমরা শরীরে হরমোন নিঃসরণকারী গ্রন্থিগুলোর কোন অসুখের কারণে মেদবৃদ্ধি হতে পারে বলে মনে করতে পারি। এ সকল গ্রন্থির মধ্যে রয়েছে।–থাইরয়েড গ্রান্ডের হরমোন প্রয়োজনের তুলনায় কম নিঃসরণ। যাদের এই সমস্যা রয়েছে তাদের ওজন বাড়ার প্রবণতা রয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য গ্রন্থি যেমন- সুপ্রারোনাল গ্রন্থি, পিটুইটারি গ্রন্থি ইত্যাদির সমস্যা থাকলেও শরীরের মোটা হওয়ার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। মেয়েরা অনেক সময় ওভারিতে ছোট ছোট টিউমার হলে, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলে ইত্যাদি কারণেও মোটা হতে পারে।

মোটা থেকে পরিত্রাণ
মোটা থেকে পরিত্রাণ

বয়স

অন্যান্য কারণের মধ্যে দেখা যায় যে, বয়স ভেদে মোটা হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। যেমন- বয়ঃসন্ধিক্ষণে বাড়ন্ত ছেলেমেয়রা বেশি খায় কিন্তু এ সময় শরীর গড়নের জন্য অনেক ক্যালরিও খরচ করতে হয়। এই সময় নিঃসৃত হরমোন শরীরে চর্বি জমাতে সাহায্য করে কিন্তু এই সময়ে অতিরিক্ত ক্যালরি খরচের ফলে মেদ কমে যায়। কিন্তু যারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া দাওয়া করছেন তাদরে শরীরের মেদ জমেছে। মেয়েদের বেলায় মধ্যবয়সে তাদের মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে শরীরের ইস্ট্রোজেন কম হয়ে যায়, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায় তাই অনেক মহিলাই মোটা হয়ে যেতে পারেন। তাছাড়া, এই সময় তারা নিজেদের শরীর নিয়ে খুব একটা ভাবেন না। কাজকর্ম কমে যায় কিন্তু খাওয়া দাওয়া কমে না। অনেকে মনে করেন আর শরীরটা ঠিক করে লাভ নেই। তাই অলসতা তাকে মোটা করে তোলে। তাছাড়া মহিলাদের জরায়ু ফেলে দেয়া অপারেশন করার পরেও অনেকে মোটা হয়ে যায়।

ব্যায়াম ও পরিশ্রম

পরিমিত ব্যায়াম ও পরিশ্রম না করার কারণেও শরীরে মেদ জমতে পারে এবং এই সমস্যা যারা শহরে বাস করেন তাদের মধ্যেই দেখা যায়। কারণ গ্রামের মেয়েরা যেমন খান তেমন পরিশ্রমও করেন, তাই তাদের শরীরে তেমন মেদ জমতে পারে না, অনেক সময় দেখা যায়, বিয়ের পরে মেয়েরা মুটিয়ে যাচ্ছে, এর কারণ হচ্ছে আত্মতৃপ্তি। বিয়ের পরে  মেয়েরা প্রচুর খাওয়া দাওয়া শুরু করেন এবং ঘুমও প্রচুর বেড়ে যায়। ফলে মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। আবার বয়সকালে তাদের হাতে টাকা পয়সা বেশ সঞ্চিত হয়, কর্মজীবনে স্থিতি আসে, মন ও শরীরর দুটোই ভাল থাকে, তাই এই সময় লোক আয়েশি হয়ে পড়ে এবং মোটার প্রবণতা দেখা দেয়।

আরো কিছু কারণ

যে সকল বাড়িতে রান্নাবান্না ভাল হয়ে থাকে সে বাড়ির সদস্যদের মোটা হওয়ার প্রবণতা থাকে। যাদের বাড়িতে মুখরোচক খাবার মজুদ থাকে, তাদের দেখা যায় ক্ষুধা না পেলেও মাঝে মধ্যেই এ সকল খাবার খাচ্ছেন।

যারা মানসিক অবসাদে ভুগছেন তারা অবসাদ নিরসণকল্পে অতিরিক্ত খাওয়ার মাঝে বৈচিত্র্য খুজে পাচ্ছেন। সন্তান প্রসবের পরে মেয়েদের পেট একটু থলথলে হয়ে যায়। তখনও আপাত মোটা হতে পারে। যারা বাচ্চাকে বুকের দুধ দিচ্ছেন তারা বেশি করে খাওয়া দাওয়ার ফলে শরীরে মেদ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।  অপারেশনের পরেও অনেকে মোটা হয়ে পড়েন, এটা অধিক যত্ন নেয়া ও খাওয়ার ফলে। কিছু লোকের বংশগত কারণেও মোটা হওয়া  প্রবণতা দেখা দেয়।

মোটাদের সমস্যা

মেদবৃদ্ধিতে যে সকল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে; ডায়াবেটিক, ব্লাডপ্রেসার, করোনারি থ্রম্বোসিস, হার্টে অসুখ, মোটা মহিলাদের পিত্তথলীতে পাথর ইত্যাদি। যারা রোগা ছিলেন কিন্তু মধ্যবয়সে মোটা হওয়ার ফলে যৌনজীবন যদিও তেমন সমস্যা হয় না, তবে বেশি মোটা হলে নড়াচড়া করতে অসুবিধা হতে পারে। কারণ যৌনক্রিয়া একটি উচ্চ ক্যালরির ব্যায়াম।

মোটা মহিলাদের বাচ্চা হওয়াকালীন সমস্যা হতে পারে তার মধ্যে হাই ব্লাডপ্রেসার ও ট্যাক্সিনিয়া আশঙ্কা বিদ্যামান।

মোটা হওয়া থেকে পরিত্রাণের উপায়

এ জন্য প্রয়োজন বিশেষ কিছু খাবারের ডায়েটিং, ব্যায়াম ও মনের জোর। এর কোন একটার অভাব হলো বা সামঞ্জস্যের অভাব হলে উদ্দেশ্য সফল হবে না। প্রতিবারের জন্য নিম্নলিখিত ডায়েটিং এর উপদেশগুলো মেনে চলতে পারেন।

ডায়েটিং এর জন্য ১০ টি উপদেশ

১) খাদ্য মাংসের পরিমাণ কমিয়ে দিবেন, দিনে একবারের বেশি নয়, বাকি সময় নিরামিষ খাবেন। মুরগির মাংস  এদিক নিয়ে আদর্শ। গরু, ছাগলের মাংস কিনলে চর্বি কম দেখে কিনবেন। রান্না করলে ছোট ছোট টুকরো করে রান্না করবেন।

২) তেল কম দিয়ে রান্না করবেন। প্রয়োজনে রান্নার ভুট্রার তেল বা সূর্যমুখীর তেল ব্যবহার করবেন।

৩) মাংস রান্নার আগে চর্বিগুলো বাদ দিবেন।

৪) কাঁচা ও সবুজ শাকসবজি বেশি করে খাবেন। শিম ও নানারকমের ভাল খাবেন। সিদ্ধ করে খাবার চেষ্টা করবেন।

৫) দুধ ও দই খেতে হলে মাঠাভোলা খাবেন।

৬) গরু ও খাসির মাংসের পরিবর্তে মুরগি ও মাছ পছন্দ করুন।

৮) ভাত, রুটি কম খাবেন। ফলমূল বেশি খাবেন, পাউরুটি মাখন ছাড়া খাবেন, টোস্ট করে খেলে ভাল হয়।

৯) খাবার একবারে অনেকটা না খেয়ে বারে বারে কম করে খাবেন। কিন্তু বারে বারে যেন বেশি ক্যালরির খাবার খাওয়া না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। তবে শসা, সালাদ, ফলমুল, হালকা লাঞ্চ বা ডিনার খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

১০) সপ্তাহে  এক দু দিন রোযা রাখবেন। রোষার আগে সেহরি ও পরে ইফতারিতে আবার বেশি খাবেন না। নিম্নলিখিত অভ্যাসগুলো বর্জন করার চেষ্টা করবেন।

১০টি অভ্যাস

১) জাস্ট ফুড দোকানে যে সকল খাবার পাওয়া যায়  এগুলো ক্ষুধা পেলে খাওয়া উচিত নয়। কারণ সেখানে যে সকল বার্গার, রোল ইত্যাদি পাওয়া যায় তা হলে আরো মেদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

২) মাখন, ক্রিম, ক্রিমাটিজ আইসক্রিম, ক্রিমযুক্ত দুধ খাবেন না।

৩) সপ্তাহে দুটোর বেশি ডিম খাবেন না।

৪) অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার পেষ্ট্রি, কেক, সিঙ্গারা ইত্যাদি খাওয়া কমিয়ে দিবেন।

৫) ফলমূল ও অ্যানাজ কাটার আগে ধুয়ে নিবেন। কাটার পর ধুলে পুষ্টি কমে যাবে।

৬) সকালে নাস্তা না খেয়ে অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়।

৭) টিফিনের সময় কাজু বাদাম, ক্রিমযুক্ত বিষ্কুট ইত্যাদি খাবেন না।

৮) আপনার জীবনযাত্রার সাথে মানানসই নয় এমন ডায়েটিং করবেন না।

৯) অনেকে ডায়েটিং শুরু করার দু এক সপ্তাহের মধ্যে এমন মনে করেন যে, এখন কমে যাবে। সেটার দেখা না পেলে হতাশ হয়ে পড়েন, ফলে ডায়েটিং করা ছেড়ে দেন। এটা ঠিক নয়, ধৈর্য ধরে ডায়েটিং করে যেতে হবে।

১০) পরিশেষে বলতে চাই, ব্যক্তি বিশেষের শারীরিক অবস্থার উপর খাদ্য তালিকার রদতবদল ঘটতে পারে যেমন – কারো দু চার চামচ ভাত খেলেই ওজন বাড়ে, তাই তার উচিত ভাত না খেতে চেষ্টা করা। কারণ অঙ্কের হিসেবে হয়তো শরীর সব সময় চলে না।

 

ডাক্তার এম ফেরদৌস

চর্ম যৌন ও কসমেটিক বিশেষজ্ঞ

সহকারী অধ্যাপক

কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ রাশমনো হাসপাতালে

Posted on

ভুরি কমানোর উপায়

ভুরি কমানোর উপায়

20  টি চর্বি হ্রাস কার্যকর টিপস (বিজ্ঞান দ্বারা সমর্থিত)
পেটের চর্বি এমন একটি বিরক্তির বিষয় যা আপনার কাপড়কে শক্ত করে তোলে।

এটা গুরুতর ক্ষতিকারক। Continue reading ভুরি কমানোর উপায়

Posted on

স্থূলতা – একটি অবস্থা না কি অসুখ?

(১)

স্থূলতা – একটি অবস্থা না কি অসুখ?

 

ডাক্তারী জগতে এই বিষয়টি একটি বহু আলোচিত বিষয়ের রূপ নিয়েছে। ডাক্তার বা খাদ্য বিশেষজ্ঞণের কাছে যে সমস্ত মোটা ব্যক্তিরা যান, তাদেরকে ডাক্তাররা নিজেদের রোগী বলে মনে করেন গ্রাহক বলে নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, মোটা ব্যক্তিরা সত্যিই কি রোগী ? Continue reading স্থূলতা – একটি অবস্থা না কি অসুখ?

Posted on

Eating less and eating safe

Eating less and eating safe

CONTRARY to common belief that health, vitality, longevity, etc, of humans depend on rich and high calorie food, researchers and other medical experts maintain these days that the above desirable conditions are to be attained not by eating high protein foods but by eating non protein and simple foods and, more significantly, by eating them in less quantities. Continue reading Eating less and eating safe